নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: নির্মাণ বর্জ্য (রাবিশ) পুনর্ব্যবহারযোগ্য করতে নিউটাউনের পাথরঘাটায় নতুন প্লান্ট চালু করেছে কলকাতা পুরসভা। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, পর্যাপ্ত পরিমাণে নির্মাণ বর্জ্য নিয়মিত মিলছে না। অনেক ক্ষেত্রে এই বর্জ্য মোটা টাকার বিনিময়ে পাচার হচ্ছে শহরের বাইরে। পর্যাপ্ত নির্মাণ বর্জ্যের জোগান না থাকায় প্লান্ট চালাতে সমস্যা হচ্ছে। তাছাড়া, শহরের কোথায় কোথায় নির্মাণ হচ্ছে এবং এই ধরনের বর্জ্য জমা হচ্ছে, তা জানতে পারছে না পুরসভার জঞ্জাল সাফাই এবং কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ। এই পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটাতে গোটা প্রক্রিয়ায় বিল্ডিং বিভাগের আধিকারিকদের বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হল। কোথায় নির্মাণ বর্জ্য জমা হচ্ছে, তা নজর রাখার পাশাপাশি সেগুলি যাতে পুরসভা পায়, তা নিশ্চিত করতে বিল্ডিং বিভাগের ১৬ জন আধিকারিককে বরোভিত্তিক নির্দিষ্ট দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি এই মর্মে নির্দেশিকা জারি হয়েছে পুরসভায়।
Advertisement
নির্মাণ বর্জ্য নিয়ে পুরসভার মাথাব্যথা অনেক দিনের। কয়েক মাস আগে মাঝেরহাট ব্রিজ দিয়ে যাওয়ার সময় মেয়র ফিরহাদ হাকিম একটি নির্মাণ বর্জ্য বোঝাই লরি আটক করিয়েছিলেন। কিন্তু পরিস্থিতির তাতে খুব একটা হেরফের হয়নি। তাই শহরের প্রত্যেকটি নির্মীয়মাণ বাড়ির বর্জ্য পাথরঘাটায় যাওয়া নিশ্চিত করতে ওই নির্দেশিকা জারি করেছেন পুর-কমিশনার। তাতে বলা হয়েছে, ১৬টি বরোয় বিল্ডিং বিভাগের ১৬ জন নোডাল অফিসার দায়িত্ব সামলাবেন। প্রত্যেকটি ওয়ার্ডে কোথায় কোথায় নতুন নির্মাণের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে, কোথায় পুরনো বাড়ি ভাঙার পর রাবিশ তৈরি হচ্ছে, নিয়মিত খেয়াল করবেন তাঁরা। নোডাল অফিসাররাই সংশ্লিষ্ট বরো কিংবা ওয়ার্ডের জঞ্জাল সাফাই বিভাগের আধিকারিককে এ সংক্রান্ত তথ্য দেবেন। এক পুরকর্তা বলেন, ‘কোথায় কোথায় নির্মাণ বর্জ্য তৈরি হচ্ছে, তা জঞ্জাল সাফাই বিভাগের পক্ষে জানা সম্ভব হচ্ছিল না। ফলে অনেক জায়গার রাবিশ পাচার হয়ে যাচ্ছিল। আমরা পাচ্ছিলাম না। এসব কারণে পাথরঘাটার প্লান্ট চালাতেও সমস্যা হচ্ছে। আশা করি, এবার সমস্যা মিটবে।’
সূত্রের খবর, নাগরিকরা যাতে নির্মাণ বর্জ্য নিয়ে নির্দিষ্ট অভিযোগ জানাতে পারেন এবং এই বর্জ্য পুরসভাকে দিতে পারেন, তার জন্য একটি ফোন নম্বর চালু করা হবে। সেই সঙ্গে নির্মাণ বর্জ্য সংগ্রহের জন্য কয়েকজন বাড়তি মজদুর নিয়োগের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। তবে আধিকারিকরা জানাচ্ছেন, পুরসভাকে না দিয়ে অন্যত্র রাবিশ বেচে দিলে মোটা টাকা পান বাড়ির মালিক। পুরসভার ক্ষেত্রে ব্যাপারটা উল্টো। সংশ্লিষ্ট মালিকপক্ষের থেকে তারা চার্জ নেয় বর্জ্য সরানোর জন্য। এই কারণে নির্মাণ বর্জ্য পুরসভাকে দিতে আগ্রহ কম দেখা যায়।
সূত্রের খবর, নাগরিকরা যাতে নির্মাণ বর্জ্য নিয়ে নির্দিষ্ট অভিযোগ জানাতে পারেন এবং এই বর্জ্য পুরসভাকে দিতে পারেন, তার জন্য একটি ফোন নম্বর চালু করা হবে। সেই সঙ্গে নির্মাণ বর্জ্য সংগ্রহের জন্য কয়েকজন বাড়তি মজদুর নিয়োগের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। তবে আধিকারিকরা জানাচ্ছেন, পুরসভাকে না দিয়ে অন্যত্র রাবিশ বেচে দিলে মোটা টাকা পান বাড়ির মালিক। পুরসভার ক্ষেত্রে ব্যাপারটা উল্টো। সংশ্লিষ্ট মালিকপক্ষের থেকে তারা চার্জ নেয় বর্জ্য সরানোর জন্য। এই কারণে নির্মাণ বর্জ্য পুরসভাকে দিতে আগ্রহ কম দেখা যায়।



