Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬

পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের প্রাচীরে ফাটল, অমঙ্গলের আশঙ্কায় ভক্তরা

পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের প্রাচীরে ফাটল, অমঙ্গলের আশঙ্কায় ভক্তরা
  • ৫ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
পুরী: মেঘনাদ পাচেরি—পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের বিশাল সীমানা প্রাচীরে ফাটল। সেই ফাটল দিয়ে জল প্রবেশ করছে মহাপ্রসাদের বাজার, আনন্দ বাজারে। গোটা মন্দিরের বিভিন্ন অংশের দেওয়ালে শ্যাওলার স্তর। এর অর্থ একটাই, দ্বাদশ শতাব্দীতে তৈরি এই মন্দিরের কাঠামোর ভিতরে জল ঢুকছে। এতেই তোলপাড় ওড়িশা তথা গোটা দেশ। মন্দিরের সুরক্ষা নিয়ে প্রশ্ন তো উঠেইছে। কিন্তু তার থেকেও বড় কালো মেঘ দেশের অগণিত ভক্তদের মনে, এই ফাটল অমঙ্গলের ইঙ্গিত নয়তো! সারা বছর ধরে মনস্কামনা পূরণ করতে ভক্তরা ভিড় জমান এই মন্দিরে। তাই তড়িঘড়ি ফাটল মেরামতিতে উদ্যোগী হয়েছে ওড়িশা সরকার। রাজ্যের পক্ষ থেকে আর্কিওলজিকাল সার্ভে অব ইন্ডিয়ার (এএসআই) সহায়তা চাওয়া হয়েছে। 
Advertisement
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জগন্নাথ মন্দিরের দেওয়াল কমজোরি হয়ে জল শোষণ করতে শুরু করেছে। আর সেই জলেই বেড়ে চলেছে শ্যাওলার দল। এতে মন্দিরের কাঠামোর আরও ক্ষতি হতে পারে। তবে সবচেয়ে চিন্তায় ফেলেছে মেঘনাদ পাচেরির ফাটল। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে মন্দিরকে রক্ষা করে আসছে পূর্ব থেকে পশ্চিমে ৬৫০ ফুট এবং উত্তর দক্ষিণে ৬৪৪ ফুট বিস্তৃত এই প্রাচীর। তাতে ফাটল দেখা দেওয়ায় সামগ্রিকভাবে মন্দিরের সুরক্ষাই প্রশ্নের মুখে পড়েছে। কারণ, আশঙ্কা করা হচ্ছে, ফাটল-শ্যাওলার জেরে ভেঙে পড়তে পারে মেঘনাদ পাচেরি।
ফাটল ও শ্যাওলা নজরে আসতেই রাজ্য সরকারকে জানায় মন্দির কর্তৃপক্ষ। এরপর রাজ্যের পক্ষ থেকে এএসআইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। শ্রীমন্দিরের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে রয়েছে এএসআই। কীভাবে মন্দিরের ক্ষয়ক্ষতি রোখা যায় এবং সেটিকে টিকিয়ে রাখা যায়, তা নিয়ে শীঘ্রই আলোচনায় বসবে মন্দির কর্তৃপক্ষ ও ওড়িশা সরকার। ঐতিহ্য সংরক্ষণকারীরা অবিলম্বে মন্দিরের স্বাস্থ্যের বিশদ মূল্যায়ন এবং মেরামতির দাবি করেছেন। পুরীর মন্দিরের প্রশাসন রাজ্যের আইন দপ্তরের অধীন। সোমবার ওড়িশার আইনমন্ত্রী পৃথ্বীরাজ হরিচন্দন বলেন, ‘এই ফাটলের কারণ অনুসন্ধান করা হচ্ছে। ক্ষয়ক্ষতি মেরামতের কাজ শুরু করতে চলেছে এএসআই। তবে আমাদের খুঁজে বার করতে হবে, কেন পাঁচিলে ফাটল দেখা দিল। হয়তো এএসআই নিষেধ করা সত্ত্বেও এমন কোনও সংস্কারের কাজ করা হয়েছে, যার জেরে এই ফাটল।’ তিনি আরও বলেন, ফাটলের কারণ অনুসন্ধানের পর সরকার উপযুক্ত ব্যবস্থা নেবে। এএসআইয়ের তদারকিতে ফাটল মেরামতির কাজই অগ্রাধিকার। 
সম্পর্কিত সংবাদ