Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬

পুর-পঞ্চায়েত ভোটে একা লড়ার সিদ্ধান্ত উদ্ধবের, বিরোধী শিবিরে ফাটল আরও চওড়া

পুর-পঞ্চায়েত ভোটে একা লড়ার সিদ্ধান্ত উদ্ধবের, বিরোধী শিবিরে ফাটল আরও চওড়া
  • ১২ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
নাগপুর (পিটিআই): বিরোধী ঐক্যে ফাটল ক্রমেই চওড়া হচ্ছে। দিল্লির পর ‘কুস্তি’ এবার মহারাষ্ট্রেও! মারাঠা-ভূমে ভাঙন বিরোধী শিবির মহা বিকাশ আঘাড়িতে (এমভিএ)। শনিবার অন্যতম শরিক শিবসেনা (ইউবিটি) ঘোষণা করল, আসন্ন পুরসভা ও পঞ্চায়েত ভোটে দল একাই লড়বে। উদ্ধব থ্যাকারের দলের নেতা সঞ্জয় রাউত এদিন বলেন, মূলত পার্টি কর্মীদের ইচ্ছাকে মর্যাদা দেওয়া ও সাংগঠনিক শক্তিবৃদ্ধির লক্ষ্যে একলা চলার এই সিদ্ধান্ত। তবে বিরোধী জোটে কংগ্রেসের ভূমিকা নিয়ে তাঁরা যে খুশি নন, তাও গোপন করেননি রাউত। গতকালের পর এদিনও কংগ্রেসকে কাঠগড়ায় তোলেন তিনি। বলেন, এমভিএতে কোনও সমন্বয় নেই। এজন্য কংগ্রেস দায়ী। জাতীয় স্তরে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’ নিয়েও এদিন ফের সরব হন রাউত। উদ্ধব শিবিরের এই নেতার বক্তব্য, লোকসভা ভোটের পর থেকে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের বৈঠক পর্যন্ত ডাকা হয়নি। এতদিনেও জোটের কোনও আহ্বায়ক ঠিক করা গেল না। এটা ঠিক নয়। জোটের বৃহত্তম দল হিসেবে বৈঠক ডাকার দায়িত্ব কংগ্রেসেরই নেওয়া উচিত ছিল। ঘটনাচক্রে, দিল্লির বিধানসভা ভোটে কংগ্রেসের হাত ছেড়ে ইতিমধ্যেই আপকে সমর্থন দেওয়ার ঘোষণা করেছে উদ্ধবের দল। মহারাষ্ট্রের স্থানীয় ভোটে তারা একা লড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় কংগ্রেস আরও কোণঠাসা হয়ে পড়ল বলেই রাজনৈতিক মহলের মত।
Advertisement
লোকসভা ভোটে সাফল্য সত্ত্বেও সম্প্রতি মহারাষ্ট্রের বিধানসভা ভোটে বিজেপি জোটের বিরুদ্ধে মুখ থুবড়ে পড়েছে এমভিএ। তারপর থেকেই তিন শরিক শিবসেনা (ইউবিটি), কংগ্রেস ও এনসিপি (এসপি)-র মধ্যে দোষারোপের পালা চলছে। এবার স্থানীয় নির্বাচনে জোট ভেঙে পৃথক লড়াইয়ের সিদ্ধান্তও নিয়ে ফেলল শিবসেনা (ইউবিটি)। রাউত জানিয়েছেন, একা লড়ার বিষয়ে সবুজ সঙ্কেত এসেছে স্বয়ং পার্টি সুপ্রিমো উদ্ধব থ্যাকারের দিক থেকে। ফলে মুম্বই, থানে, নাগপুর সহ বিভিন্ন পুরসভা, জেলা পরিষদ ও পঞ্চায়েতের ভোটে আমরা একক শক্তিতে লড়ব। জোট করে লড়লে পার্টি কর্মীদের অনেক সময় তাঁদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে কিছু জিনিস করতে হয়। এর ফলে সাংগঠনিক বৃদ্ধি সম্ভাবনা ধাক্কা খায়।
স্থানীয় স্তরের ভোটে উদ্ধবের দলের একা লড়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে বাকি দুই শরিক দলের মধ্যে। বিধানসভায় শারদ পাওয়ারের এনসিপি (এসপি)-র নেতা জিতেন্দ্র আওহাদ বলেন, ওরা যদি একা লড়তে চায়, তাহলে আমরা কি বাধা দিতে পারি? আমরা তো জোর করতে পারি না। তবে বিধানসভা ভোটের বিপর্যয়ের পর আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকা উচিত ছিল। একা লড়ার সিদ্ধান্ত সঠিক বলে আমার মনে হয় না। এর ফলে ভোটের ময়দানে তিন শরিক দলই ধাক্কা খাবে। যদিও এনসিপি (এসপি)-র কার্যকরী সভানেত্রী তথা শারদ-কন্যা সুপ্রিয়া সুলের প্রতিক্রিয়া, স্থানীয় স্তরের ভোটে সাধারণত একক শক্তিতেই লড়াই হয়। কংগ্রেসের নাগপুরের বিধায়ক বিকাশ থ্যাকারের প্রতিক্রিয়া, শিবসেনা (ইউবিটি) যদি একা লড়ে, তাহলে আমাদেরও একই প্রস্তুতি নিতে হবে।   
সম্পর্কিত সংবাদ