Bartaman Logo
৩০ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

তৃণমূল কাউন্সিলারের বাড়ি ঘেরাও করে বিক্ষোভ, সঙ্গীকে গণধোলাই, আবাসের বাড়ি পাইয়ে দেওয়ার নামে কাটমানি আদায়

আবাস যোজনার বাড়ি পাইয়ে দেওয়ার নাম করে কাটমানি নেওয়া এবং মা-বোনদের উপর অত্যাচারের হুমকির অভিযোগে উত্তাল হয়ে উঠল বীরভূমের দুবরাজপুর পুরসভার ৬নম্বর ওয়ার্ডের কলুপাড়া

তৃণমূল কাউন্সিলারের বাড়ি ঘেরাও করে বিক্ষোভ, সঙ্গীকে গণধোলাই, আবাসের বাড়ি পাইয়ে দেওয়ার নামে কাটমানি আদায়
  • ২৯ মে, ২০২৬ ০৪:০০

নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: আবাস যোজনার বাড়ি পাইয়ে দেওয়ার নাম করে কাটমানি নেওয়া এবং মা-বোনদের উপর অত্যাচারের হুমকির অভিযোগে উত্তাল হয়ে উঠল বীরভূমের দুবরাজপুর পুরসভার ৬নম্বর ওয়ার্ডের কলুপাড়া। কাটমানির টাকা ফেরতের দাবিতে বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টা নাগাদ ওই ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলার ভাস্কর রুজের বাড়ি ঘেরাও করে তীব্র বিক্ষোভ দেখান স্থানীয় বাসিন্দারা। বিক্ষোভের মুখে পড়ে কাউন্সিলার ভাস্কর বাড়ির বাইরে বের হননি। উত্তেজিত জনতা তাঁর বাড়ির দরজায় লাথি মারতে থাকে। ঠিক সেইসময় কাউন্সিলারের ছায়াসঙ্গী ধনঞ্জয় গড়াই ওই বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসেন। তাঁকে সামনে পেয়ে চড়াও হয় জনতা। তাঁকে তাড়া উত্তম-মাধ্যম দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। গণধোলাইয়ের হাত থেকে বাঁচতে ধনঞ্জয় শেষ পর্যন্ত এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় দুবরাজপুর থানার পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী। 

Advertisement

বিক্ষোভকারীদের প্রধান অভিযোগ, বাড়ি তৈরির সরকারি অনুদান পাইয়ে দেওয়ার নাম করে এক-একজনের কাছ থেকে ১০হাজার থেকে শুরু করে ৩০হাজার টাকা পর্যন্ত কাটমানি নেওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষকে বঞ্চিত করে দলের লোকজনকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়া হয়েছে। যার ফলে একই পরিবার একাধিক বাড়ি পেলেও প্রকৃত উপভোক্তারা এখনও মাটির বাড়িতে দিন কাটাচ্ছেন। এমনকি, ভাস্কর নিজেই সাতটি বাড়ি নিয়েছেন বলে অভিযোগ। এছাড়াও, বিগত পুরভোটে ব্যাপক ছাপ্পাভোটের কারণে সাধারণ মানুষ ভোট দিতে না পারায় মনের ভিতর একটা রাগ ছিলই। তার উপর এলাকার রাস্তাঘাট সংকীর্ণ, যেখানে-সেখানে খুঁড়ে রেখে দেওয়া হয়েছে। এই সমস্ত কিছু নিয়েই দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ক্ষোভ জমছিল, যার বহিঃপ্রকাশ ঘটে এদিন।
ক্ষোভ উগরে দিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা বনমালী ঘোষ বলেন, যতক্ষণ মানুষ সুবিচার না পাবে, ততক্ষণ এই রোষ থাকবে। এটা সাধারণ গরিব মানুষের থেকে শুধু লুট করেছে। প্রতিবাদ করলে মা-বোনকে তুলে নিয়ে যাওয়ার হুমকি দিয়েছে। সবকিছু মিলিয়ে একটা জনরোষ দীর্ঘদিন ধরেই পুঞ্জীভূত হয়েছিল। তারই বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। বিজেপির ওবিসি মোর্চার শহর সভাপতি সুমন গড়াই বলেন, বাড়ি তৈরির জন্য গরিব মানুষের থেকে মোটা টাকা কাটমানি নিয়েছে কাউন্সিলার ও তাঁর দলবল। গরিব মানুষের টাকা এভাবে আত্মসাৎ করা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। আমাদের সরকার বলে দিয়েছে, কেউ টাকা নিয়ে থাকলে তাঁর টাকা ফেরত দিতেই হবে। এরা যদি কাটমানি নিয়ে থাকে টাকা ফেরত দিতে হবে। এটা মানুষের দাবি। এব্যাপারে কাউন্সিলারকে একাধিকবার ফোন করা হলেও ধরেননি। দুবরাজপুরের তৃণমূল নেতৃত্বও কোনও প্রতিক্রিয়া দিতে চায়নি।

সম্পর্কিত সংবাদ