নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: জনস্বার্থে জাতীয় সড়ক-১২ সম্প্রসারণের কড়া নির্দেশিকা দিয়েছে হাইকোর্ট। কাজে বাধা সৃষ্টি করা হলে, বারাসত পুলিস জেলাকে কড়া হাতে তা মোকাবিলা করার নির্দেশও রয়েছে। প্রয়োজনে অন্য জেলা থেকে পুলিস ও র্যাফ নিয়ে এসে, এই কাজ দ্রুত শেষ করার নির্দেশও রয়েছে। সেই মতো গত পয়লা মার্চ থেকে কাজ শুরু হয়। সব ঠিকঠাক ভাবেই চলছিল এতদিন। কিন্তু হঠাৎ করে বৃহস্পতিবার জমি আন্দোলনের কিছু মানুষের ‘বাধা’য় ফের থমকে গেল রাস্তা সম্প্রসারণের কাজ। পুলিসকে ঘিরে ধরেও ক্ষতিপূরণের দাবিতে বিক্ষোভ দেখায় এই মানুষগুলি। এ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে আমজনতার মধ্যে। কেন পুলিস আগে থেকে বেশি পরিমাণ ফোর্স মোতায়েন করে রাখল না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন অনেকে।
কলকাতার সঙ্গে উত্তরবঙ্গের যোগাযোগের অন্যতম লাইফ লাইন হল ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক। বারাসত থেকে আমডাঙার সন্তোষপুর পর্যন্ত রাস্তার সম্প্রসারণ হয়েছে। কিন্তু এরপর থেকে কাজ থমকে ছিল।আমডাঙার সন্তোষপুর থেকে রাজবেড়িয়া পর্যন্ত রয়েছে ২১টি মৌজা রয়েছে। রাস্তার দুরত্ব প্রায় ১৮ কিলোমিটার। এই অংশে জমিদাতার সংখ্যা প্রায় ১২ হাজার। ফাঁকা জমি, বাড়ি যেমন রয়েছে তেমনই দোকানঘর ও কয়েকটি কারখানাও রয়েছে। দু’ধারে জমি অধিগ্রহণের জন্য চিহ্নিতকরণ হয়েছে। কিন্তু জমি দখলে নিতে পারেনি প্রশাসন। সঠিক ক্ষতিপূরণের দাবিতে এর আগেও একাধিকবার আন্দোলন করেছেন জমিদাতারা। এরপর মানুষের স্বার্থে দীর্ঘদিন থমকে থাকা কাজ দ্রুত শেষ করতে বলে কলকাতা হাইকোর্ট। সেই মতো পয়লা মার্চ থেকে শুরু হয় কাজ। তারপর সঠিক গতিতেই চলছিল কাজ। কিন্তু, বৃহস্পতিবার কাজে বাধা পড়ল। ২০১৩ সালের জমি আইনে ক্ষতিপূরণের দাবিতে বিক্ষোভ দেখালেন এলাকার মানুষ। এদিন মরিচা ও আদহাটা পঞ্চয়েত এলাকায় কাজ শুরু হতেই বিক্ষোভ দেখান এলাকার বাসিন্দারা। জেসিবি দিয়ে চলছিল জায়গা পরিষ্কার করার কাজ। এলাকার মানুষ তা বন্ধ করে দেন। এনিয়ে জমিহারা রাজকুমার ঘোষ বলেন, সরকারিভাবে বলা হচ্ছে, মানুষ সঠিকভাবে ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি। বহু মানুষ বঞ্চিত। আসলে বলা হচ্ছে এক, আর হচ্ছে উল্টো। তাই সঠিক ক্ষতিপূরণের দাবিতে বিক্ষোভ দেখিয়ে কাজ বন্ধ করে দিয়েছি। কলকাতা হাইকোর্টে যে রিপোর্ট জমা পড়েছে, তা ঠিক নয়। স্থানীয় বাসিন্দা সৈয়দ আহমেদ বলেন, ২০১৩ সালের জমি অধিগ্রহণের আইন অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ দিতে হবে সরকারকে। না হলে জমি দেব না। কোর্ট যে রায় দিয়েছে, সেটা নিয়ে আমাদের সংশয় আছে। আমাদের দাবি, এই রায়ের কাগজ আমাদের দেখানো হোক। কারণ আমরাই জমির মালিক। তাই, কাজ স্থগিত করেছি। যদিও বারাসত জেলা পুলিসের এককর্তা বলেন, এদিন প্রথমে সাময়িক সমস্যা হয়েছিল, তারপর কাজ শুরু হয়েছে।