নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: হাইকোর্টের নির্দেশের পর হুগলির ভাবাদিঘিতে রেল ব্রিজের কাজ শুরু করেছিল রেল দপ্তর। কিন্তু গ্রামবাসীর বাধায় সেই কাজ আটকে যায় কাজ। বুধবার হাইকোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, রেল প্রকল্পের কাজ বন্ধ করে কোনও ধরনের বিক্ষোভ বরদাস্ত করা হবে না। পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করে যত দ্রুত সম্ভব কাজ শেষ করতে হবে।
বুধবার প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চের নির্দেশ, আগামী ৫ সেপ্টেম্বর থেকে ভাবাদিঘির ব্রিজের কাজ শুরু করতেই হবে। কাজ নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে হুগলি জেলা পুলিশ ও প্রশাসনকে সবরকমের সহযোগিতা করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। আদালত আরও জানিয়েছে, কাজ কতদূর এগিয়েছে, তা ১৭ নভেম্বর হলফনামা দিয়ে উভয় পক্ষকেই জানাতে হবে।
তারকেশ্বর-বিষ্ণুপুর রেল প্রকল্পের ৮২.৪৭ কিমির মধ্যে মাত্র ৬০০ মিটারের কাজ আটকে রয়েছে ভাবাদিঘি জটে। কিছু স্থানীয় বাসিন্দার উপর্যুপরি বাধায় কাজটি থমকে গিয়েছে। এর আগে হাইকোর্ট কাজ শুরু করার নির্দেশ দিয়েছিল। সেইমতো কাজ শুরুও হয়। কিন্তু ফের গোলমাল শুরু হওয়ায় কাজ বন্ধ হয়ে যায়। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, জলাশয় বাঁচিয়ে রেখে রেলপথ তৈরির দাবি করেছিলেন তাঁরা। কিন্তু রেল সেই দাবি না মানায় তাঁরা ফের বিক্ষোভ দেখান। তবে আদালত এদিন স্পষ্ট করে দিয়েছে, রেল প্রকল্পের কাজ বন্ধ করে কোনও ধরনের বিক্ষোভ বরদাস্ত করা হবে না। তারকেশ্বর-বিষ্ণুপুর রেল প্রকল্প চালু হলে বাঁকুড়া, পুরুলিয়ার সঙ্গে হাওড়ার দূরত্ব অনেকটাই কমবে। ইতিমধ্যেই ভাবাদিঘির ৬০০ মিটার বাদ দিয়ে গোঘাট ও কামারপুকুর পর্যন্ত রেললাইন পাতার কাজ সম্পূর্ণ হয়ে গিয়েছে। তারকেশ্বর থেকে গোঘাট পর্যন্ত ট্রেন চলছে। কামারপুকুর ও জয়রামবাটির মধ্যে রেললাইনের কাজ চলছে জোরকদমে। তৈরি হয়ে গিয়েছে কামারপুকুর রেল স্টেশনও।