নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: নিটের প্রশ্নপত্র ফাঁসের জেরে উত্তাল দেশ। তরুণদের প্রতিবাদ আছড়ে পড়ে কলকাতাতেও। বাম ছাত্র-যুব এবং ককরোচ জনতা পার্টির ডাকে ডোরিনা ক্রসিং পর্যন্ত শুক্রবার প্রতিবাদ মিছিলের আয়োজন করা হয়। পুলিশের দাবি, সেই মিছিলে বাইরে থেকে মুখ ঢেকে ঢুকে পড়ে অনেকেই। আইন-শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে তারা। সেই অভিযোগে শনিবার ৭টি মামলা রুজু করল লালবাজার। তার মধ্যে হেয়ার স্ট্রিট থানায় স্বতঃপ্রণোদিতভাবে একটি মামলা রুজু করা হয়। হেয়ার স্ট্রিট থানায় ৫টি মামলা হয় নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে। আরেকটি অভিযোগ জমা পড়ে এন্টালি থানায়। লালবাজার জানিয়েছে, এন্টালি থানা এলাকায় এসএফআই, ডিওয়াইএফআই ও ককরোচ জনতা পার্টির উদ্যোগে একটি মিছিল সংঘবদ্ধ হয়। সেই মিছিলেই কয়েকজনকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। সাতটি মামলায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার পাশাপাশি গুণ্ডা দমন আইনও যুক্ত করা হয়েছে। রাজ্যে গুণ্ডা দমন আইন লাগু হওয়ার পর এই প্রথম কোনো ঘটনায় তার ব্যবহার করল পুলিশ প্রশাসন। এদিন সকালে বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রীর শুভেন্দু অধিকারীর হুঁশিয়ারি, গুণ্ডা দমন আইন যুক্ত করে সাতটি মামলার ক্ষেত্রে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শুক্রবারের প্রতিবাদ মিছিলে ৬ জন সাংবাদিক জখম হন। অভিযোগ, প্রতিবাদ মিছিলেই তাঁদের মারধর, হেনস্তা করা হয়। সেই ঘটনা প্রসঙ্গে, মুখ্যমন্ত্রী বিধানসভায় বলেন, যাঁরা সাংবাদিকদের উপর হামলা চালিয়েছে, তাদের সঙ্গে নিট পরীক্ষার্থী কিংবা ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিবাদীদের কোনো যোগ নেই। বরং বাইরে থেকে কোনো উসকানিতেই প্রতিবাদ মিছিলে ঢুকে তাণ্ডব চালায় দুষ্কৃতীরা। মুখ্যমন্ত্রী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘কুখ্যাত লোক, যাদের চিহ্নিত করা গিয়েছে, তাদের ছাড়ব না। এমন ব্যবস্থা নেব, যা এদের তিন পুরুষ মনে রাখবে। এই জন্যেই আইন এনেছিলাম। রাজাবাগান, খিদিরপুর, একবালপুর, বেলগাছিয়া, আকড়া থেকে লোক আনা হয়েছিল।’ সেই তালিকায় পাঁচটি নামও উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, আফরোজ, নাহিদ, তনভীর, রাহুল ও জামালদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই অন্ডাল থেকে গ্রেপ্তার করা হয় আফরোজকে। পরে আরও দশজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। হেনস্তা, হামলা চালানোর ঘটনায় মোট ৭০ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এদিন লালবাজার জানিয়েছে, রাত পর্যন্ত সাতটি মামলার তদন্তে মোট ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। কোনো প্ররোচনা দেওয়া হয়েছিল কি না, তা জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।
অন্যদিকে, শুক্রবারের ঘটনায় পুলিশি ভূমিকা নিয়ে ভূয়সী প্রশংসা করেন শুভেন্দু। পুলিশকে শুরুতেই নজরদারি চালাতে বলা হয়েছিল এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে না যাওয়া পর্যন্ত বলপ্রয়োগ করতে কঠোরভাবে নিষেধ করা হয়েছিল। খিদিরপুর, রাজাবাজার, বেলগাছিয়া, আকড়া ও রাজারহাট থেকে লোক এনে ডোরিনা ক্রসিংয়ে বোতল ও জুতো ছোঁড়া হয়। পরে পরিকল্পিতভাবে সাংবাদিকদের টার্গেট করা হয়। তবে পুলিশ সেই পাতা ফাঁদে পা দেয়নি।
এদিকে শুক্রবারের মিছিলে বিজেপির পতাকা নিয়ে ইট ছোড়ার ভিডিয়ো (সেই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি ‘বর্তমান’) প্রকাশ করল বাম ছাত্র নেতৃত্ব। শনিবার দীনেশ মজুমদার ভবনে এসএফআই, আইসা, ডিএসও সহ সমস্ত বামছাত্র সংগঠনের নেতৃত্ব যৌথ সাংবাদিক সম্মেলন করে এই ভিডিয়ো প্রকাশ করেন। সাংবাদিক নিগ্রহ ও মিছিলে হাঙ্গামাকারীদের শাস্তিরও দাবি করেন তাঁরা।