


সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: রেললাইনে কাজের জন্য রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ায় বৃহস্পতিবার বিষ্ণুপুরের চৌকানে বাসিন্দারা বিক্ষোভ দেখান। তাঁদের অভিযোগ, স্থানীয় গ্রামের বাসিন্দারা রেললাইন পেরিয়ে রাস্তায় যাতায়াত করেন। কিন্তু, রেলকর্তৃপক্ষ এদিন হঠাৎ করে লাইনের দু’ধারে লোহার খুঁটি পুঁতে দেয়। যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। তাই বিকল্প রাস্তার দাবিতে তাঁরা এদিন বিক্ষোভ দেখান। খবর পেয়ে প্রচুর রেলপুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। তারা বাসিন্দাদের বোঝায়। শেষ পর্যন্ত দু’চাকার যান চলাচলের ব্যবস্থা রাখার আশ্বাস দেওয়ার পর পরিস্থিতি শান্ত হয়।
এব্যাপারে ঘটনাস্থলে উপস্থিত রেলপুলিশের এক আধিকারিক বলেন, রেললাইনে উন্নয়নমূলক কাজ হবে। প্রায় এক মাস ধরে কাজ চলবে। তাই লাইনের উপর দিয়ে যানবাহন চলাচল করতে পারবে না। তবে বাসিন্দারা হেঁটে অথবা সাইকেল ও বাইকে চলাচল করতে পারবেন।
আন্দোলনকারীরা বলেন, আমরা রেললাইনের ওই রাস্তা দিয়ে সবসময় যাতায়াত করি। পঞ্চায়েত অফিস যাই। তাছাড়া রেললাইনের ওই পাড়ে আমাদের জমি রয়েছে। বোরো ধানের চাষ রয়েছে। মাথায় করে এত ধান বয়ে আনা সম্ভব নয়। এদিন সকালে হঠাৎ করে রেললাইনের দু’ধারের রাস্তা আটকে দেওয়া হয়। সেজন্য আমরা এদিন বিকল্প রাস্তার দাবিতে বিক্ষোভ দেখাই। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বিষ্ণুপুরের মড়ার গ্রামপঞ্চায়েত মোড়ের খড়িকাশুলি থেকে একটি পিচ রাস্তা শিয়ালকোঁদা, চৌকান হয়ে বিষ্ণুপুর শহর গিয়েছে। চৌকান গ্রামের পাশ দিয়ে বিষ্ণুপুর-জয়রামবাটি রেললাইন চলে গিয়েছে। বহু বছর ধরে ওই লাইন রয়েছে। সারাদিনে একটি মাত্র ট্রেন চলাচল করায় সেখানে কোনো গেট নেই। বাসিন্দারা অনায়াসেই রেললাইন পার হয়ে যাতায়াত করেন। শহরের যানজট এড়ানোর জন্য তুলনামূলক ফাঁকা ওই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন বহু যানবাহন চলাচল করে। এছাড়াও স্থানীয় বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দারা নিত্য যাতায়াত করেন। তবে বিষ্ণুপুর-তারকেশ্বর রেল প্রকল্পে গতি আসতেই পুরানো রেললাইনগুলি মেরামতির সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ। সেই কারণেই বৃহস্পতিবার চৌকান গ্রামের কাছে রেললাইনের দু’দিকের রাস্তায় লোহার খুঁটি পোঁতা হয়। তা দেখে গ্রামের পুরুষ ও মহিলারা একত্রিত হয়ে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। পরিস্থিতি দেখে প্রচুর রেলপুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। তারা হেঁটে ও দু’চাকার যান চলাচলের ব্যবস্থা রাখার আশ্বাস দেওয়ায় পরিস্থিতি শান্ত হয়। • নিজস্ব চিত্র