Bartaman Logo
৬ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

গুরুদেবকে অবমাননার প্রতিবাদ! দুর্গাপুরে ব্রাত্য বিজেপির ‘কমল মেলা’

বাংলার সংস্কৃতি-কৃষ্টি রক্ষার জন্য‌ই নাকি দুর্গাপুরে ‘কমল মেলা’র আয়োজন। সেই মেলার উদ্বোধন করেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন।

গুরুদেবকে অবমাননার প্রতিবাদ!  দুর্গাপুরে ব্রাত্য বিজেপির ‘কমল মেলা’
  • ৩০ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সুমন তেওয়ারি,দুর্গাপুর: বাংলার সংস্কৃতি-কৃষ্টি রক্ষার জন্য‌ই নাকি দুর্গাপুরে ‘কমল মেলা’র আয়োজন। সেই মেলার উদ্বোধন করেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন। ওই মাঠেই দলীয় সম্মেলনে কবিগুরুকে শান্তির জন্য নোবেল দেওয়া হয়েছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি। বাংলা সংস্কৃতির ‘পুনরুদ্ধারে’র জিগিড় তুলে বাংলা সাহিত্য-সংস্কৃতির রূপকারকেই অবমাননা! এটা সম্ভবত মেনে নিতে পারেনি আদ্যপ্রান্ত সংস্কৃতির শহর দুর্গাপুরের বাসিন্দারা। তাই হয়তো প্রতিবাদ জানিয়ে বিজেপি আয়োজিত ‘কমল মেলা’কে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেন প্রায় সকলেই। তাঁদের মধ্যে অনেকেই আক্ষেপের সুরে বলছিলেন, একের পর বাংলার মনীষীদের অপমান, অবমাননা মেনে নেওয়া যাচ্ছে না। রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে একটা জোরালো প্রতিবাদ হওয়া উচিত। দুর্গাপুর শহর সেই পথই দেখাল বলে মনে করা হচ্ছে। স্বাভাবিকভাবেই বুধবার মেলার দ্বিতীয় দিন কার্যত দর্শক শূন্য থাকল উৎসব প্রাঙ্গণ। ফাঁকা মাঠে গান করতে হল শিল্পীদের। ভিড়ও ছিল না স্টলগুলিতে। যারপরনাই হতাশ ব্যবসায়ীরা। সবমিলিয়ে বেশ বিড়ম্বনায় পড়েছে গেরুয়া শিবির।

Advertisement

মঙ্গলবার মহা সমারোহে দুর্গাপুরের রাজীব গান্ধী ময়দানে ‘কমল মেলা’র উদ্বোধন করেন নীতিন নবীন। মঞ্চে গান করতে হাজির হয়েছিলেন মোনালি ঠাকুর। দু’জনের আগমনেও বাড়তি উৎসাহ ছিল না দুর্গাপুরবাসীর। ভিন জেলা থেকে বাসে করে বিজেপি কর্মীদের এনেও মাঠ ভরাতে পারেননি দলের কার্যকর্তারা। বুধবার মেলার দ্বিতীয় দিন ছিল আরও করুণ দশা। মঞ্চে শিল্পীরা গান করছেন, অথচ দর্শকাসন ফাঁকা। গান চলাকালীনই ডেকোরেটরের লোকজন চেয়ার জড়ো করতে শুরু করেছেন। সংস্কৃতির শহর দুর্গাপুরে এটা বিরলতম ঘটনা। শুধু তাই নয়, আসানসোলের একটি বাংলা ব্যান্ড সোশ্যাল মিডিয়ায় অভিযোগ করেছে, কমল মেলার উদ্যোক্তারা তাঁদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেছেন। মেলার সংস্কৃতিক বিভাগ যেখানে মুখ থুবড়ে পড়েছে, সেখানে মেলার বানিজ্যিক হাল কতটা খারাপ হতে পারে, তা সহজেই অনুমেয়। স্টল দিয়ে বেশ  ফাঁপরে পড়ে গিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

দুর্গাপুরের স্বনির্ভর দলের সদস্যা টিনা দে মেলায় বাড়ির তৈরি খাবারের স্টল দিয়েছেন। তিনি এদিন বলেন, ‘বিক্রিবাটা একেবারেই নেই।’ দুর্গাপুরের ট্রাঙ্ক রোডে ঘুগনি বিক্রি করেন দুখিয়া সাউ। তিনি বাড়তি বিক্রির আশায় মেলায় ঠেলা নিয়ে হাজির হয়েছিলেন। রাত ন’টা পর্যন্ত বিক্রিবাটা হয়নি। প্রচুর পরিমাণ ঘুগনি নষ্ট হয়েছে। হতাশ দুখিয়া।’

মেলার একপ্রান্তে বসেছে শিশুদের নানা রাইড। মেলা উদ্যোক্তারা দাবি করেছিলেন, ব্যবসায়ীদের কাছে কোনও টাকা নেওয়া হচ্ছে না। সস্তায় রাইডে চড়তে পারবেন দরিদ্র পরিবারের শিশুরাও। বাস্তবে তা হয়নি। ট্যাম্পোলিনে চড়তে গেলে দিতে হচ্ছে ৪০ টাকা। নাগরদোলায় উঠলে ৫০ টাকা। সেখানেও লোকের দেখা নেই। ব্যবসায়ী শেখ আফরোজ, শেখ নাসিমরা বলেন, ‘উদ্যোক্তারা টাকা নেয়নি ঠিকই। কিন্তু ভিন জেলা থেকে সরঞ্জাম আনতে তো খরচ হয়েছে। মেলাতে লোকই আসছে না। কর্মচারিদের খাওয়ার খরচ উঠছে না। আমাদের বড় ক্ষতি হয়ে গেল।’ উৎসব প্রাঙ্গণ জুড়ে শুধু হতাশা আর হতাশা। তৃণমূল মুখপাত্র উজ্জ্বল মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘বাংলার মনীষীদের অপমান মেনে নেবে না দুর্গাপুরবাসী। তাই এই দশা। যদিও বিজেপি জেলা সহ-সভাপতি চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাফাই, ‘মোনালি ঠাকুরের মতো শিল্পী অনুষ্ঠান করার পর দিন স্থানীয় শিল্পীদের অনুষ্ঠানে ভিড় একটু কম হয়। এতে তৃণমূলের আনন্দ পাওয়ার কিছু নেই।’ মেলা নিয়েও বিতর্ক যেন পিছু ছাড়ছে না। তৃণমূলের অভিযোগ, মেলায় কমলা দাসগুপ্ত নামে যাঁর ছবি ব্যবহার করা হয়েছে, তিনি আসলে ফিরোজা বেগম। এক্ষেত্রেও এক বাঙালি মহিলাকে অপমান করা হয়েছে।-নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ