শান্তনু দত্ত, কলকাতা: প্রতিমা তৈরি হচ্ছে। খড়, মাটির কাজ শেষ। এখন রঙের প্রলেপ লাগছে একটু একটু করে। শিল্পী চরম ব্যস্ত। ‘পুজো আসছে’ মন ভালো করা আবহ। তবে একটু এগলেই দাঁড়িয়ে আছে বিষাদ। সেখানে ভারাক্রান্ত হবে মন। সেখানে দেবীর বিসর্জন হয়ে গিয়েছে। জলে পড়ে আছেন একচালার ঠাকুর। একটু কাছে গিয়ে একটু খুঁটিয়ে দেখলে অবাক করা ছবি। লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক, গণেশ, অসুর সবাই তো আছেন। কিন্তু দুর্গা কোথায়? কোথায় অন্তর্হিত দেবী দশভুজা? তাঁর বদলে যে দেখা যায়, বধূবেশে থাকা একটি মেয়েকে। তাঁরই হয়েছে বিসর্জন? আর একটু দূরে অনেকগুলি চালচিত্র। মাথা নিচু করে বসে মেয়েরা। তাঁরা পরেছে লাল শাড়ি। এই মেয়েরা কারা? এতগুলি প্রশ্ন মণ্ডপে তৈরি করেছে দক্ষিণ কলকাতার চক্রবেড়িয়া সর্বজনীন। প্যান্ডেলে ঢুকলে অনেক প্রশ্ন, অনেকে ভাবনা মনে আঁচড় কাটতে থাকবে। জবাব মিলবে মণ্ডপ প্রদক্ষিণ করার পর। উদ্যোক্তা সৌরভ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘থিমের নাম ‘প্রথা’। দেশের বিভিন্ন কোণে পরিবারের সম্মানরক্ষার্থে খুন করা হয় মেয়েদের। তাঁদের উপর এই অন্যায় বন্ধ হোক। সেই বার্তাই দেওয়া হচ্ছে পুজোর থিমে।’ এবছর পুজোর ৮০তম বর্ষ। শিল্পী রিন্টু দাস। তিনি সাজিয়ে তুলছেন মণ্ডপ। দেখিয়েছেন, কুসংস্কারকে বধ করে দেবী নিজে দাঁড়িয়ে বিয়ে দিচ্ছেন এক যুগলের। উদ্যোক্তাদের প্রশ্ন, নারী যদি নিজের পছন্দের মানুষকে বিয়েই করতে না পারেন, তাহলে নারী ক্ষমতায়নের কথা বলা হচ্ছে কেন? সে কারণেই অনার কিলিংয়ের মতো নৃশংস প্রথা বন্ধের ডাক দিচ্ছেন দুর্গা।



