হিন্দুস্থান পার্কে শিশু শ্রমের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, দুর্গাদালান হিন্দুস্থান ক্লাবে
  • ১১ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সায়নদীপ ঘোষ, কলকাতা: হিন্দুস্থান পার্কের মণ্ডপের সামনে দাঁড়াতেই চোখে পড়ল এক কিশোরীর মুখ। খুব একটা খুশি নয়। জীবনে আনন্দ করার সময়টা যে পরাধীনতার অন্ধকারে ডুবে গিয়েছে। শিশু শ্রমিক হিসাবে দেশলাইয়ের কারখানায় কাজ করতে হচ্ছে। তা সত্ত্বেও মনের মধ্যে রয়েছে মুক্তির আশা। সেই চাপা ইচ্ছেটাই প্রতিবাদের সময় ‘স্ফুলিঙ্গ’ হিসাবে প্রকাশ পাবে। ৯৬ তম বর্ষে এভাবেই শিশু শ্রমের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাচ্ছে গড়িয়াহাট অঞ্চলের এই পুজো। ভাবনায় শিল্পী মলয়-শুভময়। মণ্ডপে ঢুকলেই উনিশ শতকের ব্রিটেনে পৌঁছে যাবেন দর্শনার্থীরা। পূর্ব লন্ডনের বাও অঞ্চলের ‘ব্রায়ান্ট অ্যান্ড মে’ নামক দেশলাই কোম্পানির কারখানায় কাজ চলছে। কাঠ কেটে তৈরি হচ্ছে হাজার হাজার দেশলাই। কর্মীদের মধ্যে অধিকাংশই শিশু শ্রমিক। মালিকের কড়া নজরদারিতে কাজ করতে হচ্ছে। অবসর সময় নেই বললেই চলে। কাজ ফেলে একটু গল্প করলেই কাটা যাবে বেতন। কারখানার মধ্যেই রয়েছে কারাগারের মতো ঘর। কেউ ইনস্পেকশনে এলে এখানেই শিশু শ্রমিকদের আটকে রাখা হয়। আবার কখনো তাদের বস্তায় আটকে রাখেন মালিক। বেরিয়ে থাকে শুধু হাতটা। মণ্ডপের আনাচে কানাচে বিভিন্ন ইনস্টলেশনের মাধ্যমে সেই ছবি তুলে ধরা হয়েছে। হাতে এঁকে শিশুদের হাহাকারের চিত্র ফুটিয়ে তুলেছেন শিল্পীরা। কাজ করতে করতে হঠাৎ একদিন প্রতিবাদ জানাল খুদে শ্রমিকরা। তাদের পাশে দাঁড়ালেন বিশিষ্ট সমাজকর্মী অ্যানি বেসান্ত। ইতিহাসে যা ‘ম্যাচগার্লস স্ট্রাইক’ নামে পরিচিত। মামলা গড়াল আদালতে। চাপে পড়ে শেষমেশ পিছু হটল কোম্পানির কর্তৃপক্ষ। ১৮৮৮ সালের জুলাই মাসে কারখানা থেকে প্রায় ১ হাজার ৪০০ শিশু শ্রমিক মুক্তি পায়। মুক্তির পর তারা আশ্রয় নিল দেবী দুর্গার চরণে। তাই তো দেবী প্রতিমার সামনে থাকছে অসংখ্য শিশু। 

Advertisement

শিশু শ্রমিকদের আন্দোলন দেখে কয়েক পা গেলেই একটি সুন্দর দুর্গাদালান চোখে পড়বে। সামনে বড়ো বড়ো থাম। খিলানের চারপাশে হরেক রকমের নকশা। ঝাড়বাতির রোশনাইয়ে ঝলমল করছে চারিদিক। সেখানেই পূজিত হচ্ছেন দেবী দশভুজা। একচালার প্রতিমা যেন যৌথ পরিবারের প্রতীক। মহিলা শিল্পীদের হাতে সেজে উঠছেন তিনি। ৬৪ তম বর্ষে বাংলার এই ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতিকে তুলে ধরছে গড়িয়াহাট হিন্দুস্থান ক্লাব। এবছরের থিম ‘দুর্গাদালান’। রূপায়ণে শিল্পী রাজু সরকার। আলোয় চিত্রলেখা পাল।
দেখতে দেখতে শতবর্ষে পা দিল আদি বালিগঞ্জ সর্বজনীন। বিশেষ এই মুহূর্ত উদযাপন করতে মানুষের বিবর্তনের কাহিনি তুলে ধরছে দক্ষিণ কলকাতার এই পুজো। এবারের থিম ‘ভিত’। ২১ ফুটের প্রতিমা তৈরি করছেন শিল্পী নব পাল। বিষয়ভাবনা সম্পর্কে উদ্যোক্তারা জানালেন, আজ থেকে কয়েক হাজার বছর আগে মানুষ ছিল গুহাবাসী। গুহার দেওয়ালচিত্রেরমাধ্যমে মনের ভাব প্রকাশ করা হতো। আজ অট্টালিকায় ভরা আধুনিক যুগে প্রবেশ করেছে মানব সমাজ। এই উত্থানের ভিত তৈরি করে গিয়েছেন গুহা মানবরা। মণ্ডপে প্রবেশ করলে দীর্ঘ এই যাত্রাপথ চাক্ষুষ করতে পারবেন দর্শনার্থীরা।  হিন্দুস্থান পার্কের প্রতিমা।-নিজস্ব চিত্র