নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কলকাতা পুরসভার আওতায় উচ্চ মাধ্যমিক স্কুল তৈরির ভাবনাচিন্তা শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ। পুর প্রশাসক তথা কমিশনার স্মিতা পান্ডে এই বিষয়ে বিশেষ উদ্যোগী হয়েছেন। সেই মতো পুরসভার শিক্ষা বিভাগ একটি খসড়া বানিয়েছে। প্রাথমিক আলোচনার ভিত্তিতে সেই প্রস্তাব নবান্নে পাঠানোর প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।
পুরসভা অন্দরের খবর, আপাতত চার থেকে পাঁচটি উচ্চ মাধ্যমিক স্কুল তৈরির প্রস্তাব উপরমহলে পাঠানো হবে। পুরসভার আধিকারিকরা জানাচ্ছেন, আমাদের বর্তমান স্কুলগুলি অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ছোটো। প্রাথমিক শিক্ষার নিরিখে কয়েকটি ক্লাস-ঘর রয়েছে। সব জায়গায় নতুন করে বিল্ডিং বানানোর সুযোগ নেই। তবে দু’তিনটে স্কুল রয়েছে, যেখানে জায়গা প্রচুর। বহু শ্রেণিকক্ষও রয়েছে। সেখানে উচ্চ মাধ্যমিক স্কুল চালানোর মতো পরিকাঠামো তৈরি করা সম্ভব। এর মধ্যে অন্যতম মার্টিনপাড়া পুর-স্কুল। ফিরহাদ হাকিম মেয়র থাকাকালীন এই স্কুলটি তৈরি হয়েছিল। সেখানে স্মার্ট ক্লাস রয়েছে। রয়েছে ২২টি কক্ষ। এর পাশাপাশি আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে সুলতান আহমেদ মেমোরিয়াল স্কুলেও রয়েছে ১৫-১৬টি শ্রেণিকক্ষ। সেখানেও সরকার চাইলে উচ্চ মাধ্যমিক স্কুল চালু করা যেতে পারে। এর বাইরে নয়াবাদের দাসপাড়া কিংবা এন্টালির সুন্দরীমোহন স্কুলও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের তৈরির ক্ষেত্রে বিবেচনাধীন। পুরসভার আধিকারিকদের বক্তব্য, শুধুমাত্র শ্রেণিকক্ষ কিংবা বিল্ডিং থাকলেই হবে না। এক একটি উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের স্কুল ঠিকঠাক ভাবে চালানোর জন্য অন্তত ২৫-৩০ জন শিক্ষক প্রয়োজন। কম্পিউটার থেকে শুরু করে ল্যাবরেটরি সহ আনুষঙ্গিক পরিকাঠামো তৈরি করতে হবে। যেখানে উচ্চ মাধ্যমিক স্কুল তৈরির জায়গা রয়েছে, গোটাটা ভেঙে নতুন করে বানাতে হবে। সেক্ষেত্রে শুধু বিল্ডিং বানাতেই কয়েক কোটি টাকা প্রয়োজন। আর এই সব কাজের জন্য রাজ্য সরকারের শিক্ষাদপ্তর, পুর ও নগরোন্নয়ন এবং অর্থ দপ্তরের অনুমোদন প্রয়োজন। তাই, প্রস্তাব সরকারের কাছে পাঠানো হচ্ছে। প্রচুর খরচের বিষয় রয়েছে। ফলে এই প্রক্রিয়া দীর্ঘ। আচমকা কেন এই পরিকল্পনা? কর্তৃপক্ষ জানাচ্ছে, বর্তমানে পুর-স্কুলে নার্সারি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ানো হয়। কোথাও কোথাও অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত ক্লাস চলে। কিন্তু উচ্চ মাধ্যমিক না থাকায় অনেককে এখানে পড়াশোনার পর নতুন স্কুলের খোঁজ চালাতে হয়। তাই গরিব-নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্ত পরিবারের অভিভাবকরা আবার স্কুল বদলের ঝঞ্ঝাটের জন্য পুর-স্কুলে সন্তানদের পড়াতে চান না। তাই উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত পড়ার সুযোগ থাকলে পড়ুয়া সংখ্যা বাড়তে পারে। সেই ভাবনা থেকেই পুর-কমিশনারের এই উদ্যোগ।
উল্লেখ্য, বর্তমানে পুরসভার আওতায় ৬৫টি ইংরেজি মাধ্যম স্কুল, ৭০টি বাংলা মাধ্যম, ১টি উড়িয়া এবং বাকি হিন্দি এবং উর্দু মাধ্যমের স্কুল চলে। এর বাইরেও ৫০টি শিশু শিক্ষাকেন্দ্র চলে পুরসভার অধীনে।