নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: নিমতলা ঘাটের কাছে একটি লজিস্টিক কোম্পানির অফিস থেকে নিষিদ্ধ ব্যথার ওষুধ বাজেয়াপ্ত করল শুল্কদপ্তর। মুরগির খাবারের প্যাকেটের আড়ালে এই ওষুধ কলকাতায় নিয়ে আসা হয়েছিল। এখান থেকে তা পাচার হওয়ার কথা ছিল উত্তর-পূর্ব ভারতে। ক্যুরিয়ার সংস্থার সূত্র ধরে এই ওষুধ কোথা থেকে এসেছিল এবং কারা পাঠিয়েছিল, তা জানার চেষ্টা চলছে।
কয়েকদিন আগে কৃষ্ণনগরে একটি বাস থেকে প্রচুর নিষিদ্ধ ব্যথার ওষুধ বাজেয়াপ্ত করে শুল্কদপ্তর। এইসব ওষুধ থাইল্যান্ডে পার্টি ড্রাগ হিসাবে ব্যবহৃত হয়। মুরগির খাবারের প্যাকেটের আড়ালে এগুলি পাচার করা হচ্ছিল। মুরগির খাবারে জিএসটি লাগে না। তাই এই প্যাকেটকে ব্যবহার করছে চোরাকারবারিরা। তদন্তে জানা যায়, নিমতলা ঘাটের কাছে একটি লজিস্টিক কোম্পানিতে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ ব্যথার ওষুধ আনা হয়েছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার ওই লজিস্টিক অফিসে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ এই ব্যথার ওষুধ বাজেয়াপ্ত করে কমিশনারেট অব কাস্টমসের প্রিভেনটিভ ও ইন্টেলিজেন্স ব্রাঞ্চ (গ্রুপ ২)। যার বাজারমূল্য প্রায় ৪ কোটি ৩০ লক্ষ টাকা বলে জানা গিয়েছে। যে জায়গা থেকে ওই সামগ্রী এসেছিল, তার নথি বাজেয়াপ্ত করেছেন তদন্তকারীরা। একটি সংস্থা এই প্যাকেটগুলি পাঠিয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। সম্ভবত উত্তরাখণ্ডের কোনো এক বা একাধিক ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থা এই মেডিসিন উৎপাদন করে। চক্রের লোকজন সেখান থেকে ক্যুরিয়ার সংস্থা মারফত তা পাঠায় বিভিন্ন জায়গায়। পাছে পুলিশের সন্দেহ না হয়। প্যাকেটের গায়ে প্রেরকের নাম, ঠিকানা বা ফোন নম্বর যা লেখা থাকে, তার আদৌ অস্তিত্ব আছে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। গোটা বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
শুল্ক দপ্তরের অফিসাররা জানতে পেরেছেন, এর পিছনে একটি সংগঠিত চক্র রয়েছে। যারা এই নিষিদ্ধ ওষুধের ব্যবসা ফেঁদে বসেছে। ওই ওষুধ উৎপাদনের পর মুরগির খাবারের প্যাকেটে ভরে সেগুলি ট্রেনে বা সড়কপথে কলকাতায় পাঠায় চক্রের লোকজন। এরপর এই নিষিদ্ধ ওষুধ চলে যায় উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলিতে। সেখান থেকে তা মায়ানমারে পাচার হয়ে যায় বলে জানতে পেরেছেন তদন্তকারীরা। এই নিষিদ্ধ ব্যথার ওষুধ দক্ষিণ এশিয়ার আর কোন কোন দেশে পাচার হয়, তাও জানার চেষ্টা করছেন অফিসাররা।



