নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘দেওয়াল যুদ্ধ’ তো লেগেই আছে। বামপন্থী ছাত্ররা দেওয়ালে লিখলেই তা মুছে দেওয়া হচ্ছে। তারপর ছাত্ররা ফের সেই দেওয়ালে লিখেছে। এবার দেখা গিয়েছে দক্ষিণপন্থী পড়ুয়ারাও পাল্টা দেওয়ালে তাদের স্লোগান লিখেছে। কিন্তু বিষয় এখন শুধু ‘দেওয়াল যুদ্ধে’ আটকে নেই। কিছুদিন আগে যাদবপুরের ক্যাম্পাসের ত্রিগুণা সেন প্রেক্ষাগৃহে একটি সংগঠনের তরফে বেদপাঠের আসর ও আলোচনা সভা করা হয়েছিল। সেখানে বিজেপি নেতারাও উপস্থিত ছিলেন। ‘বন্দে মাতরম’ও গাওয়া হয়েছে। এবার এসএফআইয়ের তরফে ক্যাম্পাসের ভিতরেই গান্ধী ভবনে ‘এ দেশ তোমার আমার’ নামাঙ্কিত অনুষ্ঠানের ডাক দেওয়া হয়েছে। যদিও এখানে কোনো বামনেতা উপস্থিত থাকবে না। পড়ুয়ারাই দেশাত্মবোধক গণসংগীত গাইবেন। দিনকয়েক আগেই যাদবপুরের মিছিল থেকে এসএফআই রাজ্য সম্পাদক দেবাঞ্জন দে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, ‘আমাদের লেখা দেওয়ালের পাশে তোমরাও লেখো। তারপর ছাত্র-ছাত্রীরা কার দেওয়াল দাঁড়িয়ে পড়বে, সেটা তাঁদের ব্যাপার।’ এবিভিপি সেই পথেই হেঁটেছে।
এসএফআই নেতা তথা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তনী শুভদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় বলছিলেন, ‘দেওয়াল যে কেউ লিখতে পারে। আমাদের সেই বিষয়ে কোনো আপত্তি নেই। আমাদের কথা হল, ছাত্র সংসদ নির্বাচন করুন। তাহলেই দেখা যাবে, বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা কাদের সঙ্গে রয়েছেন। বাইরে থেকে লোক নিয়ে এসে তাহলে আর ক্যাম্পাস ভরাতে হবে না।’ যদিও এখন বিষয় আর দেওয়ালে আটকে নেই। আজ, সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের গান্ধী ভবনে বিকেল সাড়ে চারটে থেকে অনুষ্ঠিত হবে ‘এ দেশ তোমার আমার’।
এসএফআইয়ের যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় আঞ্চলিক কমিটির ডাকে এই অনুষ্ঠানের ট্যাগ লাইন ‘স্বপ্ন দিয়ে তৈরি সে দেশ, স্মৃতি দিয়ে ঘেরা’। কী হবে এখানে? শুভদীপ বলছিলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা দেশাত্মবোধক গণসংগীত গাইবেন। দেশাত্মবোধক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হবে। এখানে বাইরে থেকে কেউ এসে যোগ দেবেন না।’ তবে কি বেদপাঠের বিপরীতে এই অনুষ্ঠান? শুভদীপের কথায়, ‘বামপন্থীদের ইতিহাস দেশপ্রেমের। আর যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে উঠেছিল স্বাধীনতা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে। ফলত, এই বিশ্ববিদ্যালয়ের মাটিতে দেশপ্রেমের কথা আমরাই বলব।’