সুদীপ্ত রায়চৌধুরী, প্রয়াগরাজ: এলাহাবাদ থুড়ি প্রয়াগরাজ জংশন স্টেশন এমনিতে খুব শান্ত। স্থির পুকুরের মতো। শুধু ট্রেন ঢুকলেই বদলে যাচ্ছে ছবিটা। পুকুরের জলে বড় ঢিল পড়লে যেমন ঢেউয়ের পর ঢেউ ওঠে, ঠিক সেরকম। একের পর এক দূরপাল্লার ট্রেন থামছে। ঢল নামছে ভক্তকূলের। বর্ষাকালে খোলা লকগেট থেকে আছড়ে পড়া জলের মতো। তার সঙ্গে মিশে যাচ্ছে হাঁকডাক আর মাইকের অবিরত ঘোষণা। সব মিলিয়ে স্টেশন চত্বরে ঘুরপাক খাচ্ছে শব্দব্রহ্ম।
Advertisement
স্টেশন চৌহদ্দির সেই ঢেউ এসে পড়েছে বাইরেও। চারিদিকে সাজ সাজ রব। পুণ্যার্থীদের শশব্যস্ততা, পুলিসের হ্যান্ডমাইকে ঘোষণা, ব্যাজ আঁটা স্বেচ্ছাসেবকদের অবিরত হুইসেলের সঙ্গেই অটো-টোটো-গাড়ির হর্ন। অদ্ভুত এই ক্যাকাফোনির মধ্যেই হাসি হাসি মুখে চেয়ে হিন্দুত্বের দুই পোস্টার বয়-যোগী আদিত্যনাথ ও নরেন্দ্র মোদি। রক্তমাংসের নন, ইয়া ঢাউস ঢাউস পোস্টার থেকে। সিভিল লাইনস, নেতাজি মার্গ হয়ে থেকে সঙ্গম পর্যন্ত গোটা যাত্রাপথে রাস্তার ধারের ফুটপাথ, সরকারি বাসে ‘সনাতন গৌরব মহাকুম্ভে’র সগর্ব ঘোষণা।
হবে নাই বা কেন! অযোধ্যায় রামমন্দির উদ্বোধনের পর এবারই প্রথম কুম্ভ। দেড় মাসের এই ধর্মীয় মহামিলন সফলভাবে উতরোলে ব্যবস্থাপক হিসেবে (সু)নাম যে দেশের সীমানা ছাড়িয়ে বিদেশেও পৌঁছবে, তা বিলক্ষণ জানেন যোগী ও মোদি দুজনেই। এজন্য নিজের নিজের মুকুটে মহাগুরুত্বপূর্ণ ওই পালক জোড়ার প্রস্তুতিতে কোনও খামতি রাখেননি কেউই। সব কটি আখড়ার জন্য জায়গার সুবন্দোবস্ত করেছে যোগী সরকার। প্রতি পদক্ষেপে পাশে কেন্দ্র। ধর্ম সম্মেলনের মহামঞ্চে যাতে কোনও গোষ্ঠীরই বিরাগভাজন হতে না হয়। বৃহত্তর স্বপ্নপূরণের নিরিখে এ মূল্য বড়ই কম।
স্বপ্ন দেখছেন মোদি। আরও একবার নয়াদিল্লির তখতে বসার। তাই মহাকুম্ভের মহামঞ্চকে নিজের কর্মকাণ্ডের প্রচারমঞ্চ হিসেবে বেছে নিয়েছেন তিনি। লাগানো হয়েছে জল জীবন মিশন সহ একাধিক প্রকল্পের কয়েকশো ফ্লেক্স।সেগুলিতে জায়গা হয়নি যোগীর। সেখানে মোদী একই। কারণ একটাই। দেশ বিদেশের মানুষের সুবিশাল জনসমাগমের সামনে নিজের ইমেজকে আরও উঁচু করে তুলে ধরতে মরিয়া তিনি।
এর আঁচ সম্ভবত আগেই করতে পেরেছিলেন আদিত্যনাথ। সেই কারণেই বোধহয় এবারের কুম্ভমেলাকে ‘পাখির চোখ’ করে প্রস্তুতি শুরু করেছিলেন বছরদুয়েক আগে থেকেই। পূর্ণকুম্ভের প্রচার ফ্লেক্সে মোদির সঙ্গে জায়গা ভাগ করতে হলেও যাবতীয় ব্যবস্থাপনার নেপথ্যে যে তিনিই, সেকথা শোনা যাচ্ছে সরকারি কর্মকর্তা ও স্থানীয় জনতার মুখে।
প্রশাসন সূত্রে খবর, এবারের কুম্ভমেলায় রেকর্ড প্রায় ৪৫ কোটি মানুষের সমাগম হবে। এজন্য খাটানো হয়েছে সার সার তাঁবু। মাটির উপর সাদা বালি ফেলে তার উপরে প্রায় সাড়ে ৬০০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বসানো হয়েছে স্টিলের চেকার্ড প্লেট, তৈরি হয়েছে ৩০টি পন্টুন ব্রিজ। শাহি স্নান পর্বে আখড়ার সাধু-সন্ন্যাসী ও আমজনতার ভিড় সামাল দিতে থাকছে পৃথক ঘাটেরও ব্যবস্থা। একাধিক ঘাট বাঁধানো হয়েছে কংক্রিট দিয়ে। প্রতিটি দফায় নিজে এসে কাজ খুঁটিয়ে দেখেছেন যোগী। আসলে একটা হিসেব পরিষ্কার—কুম্ভ শেষ হলেও প্রয়াগরাজে পুণ্যার্থীদের ঢল আসবেই। যেমন আসছে অযোধ্যায়। তাই কুম্ভকে সামনে রেখেই একেবারে ভবিষ্যতের প্রস্তুতিও সেরে রাখলেন যোগী।
নিজের ময়দানে কাউকে সূচাগ্র মেদিনী ছাড়তে রাজি নন যোগী। সেই প্রতিপক্ষ স্বয়ং নরেন্দ্র মোদি হলেও নয়।
হবে নাই বা কেন! অযোধ্যায় রামমন্দির উদ্বোধনের পর এবারই প্রথম কুম্ভ। দেড় মাসের এই ধর্মীয় মহামিলন সফলভাবে উতরোলে ব্যবস্থাপক হিসেবে (সু)নাম যে দেশের সীমানা ছাড়িয়ে বিদেশেও পৌঁছবে, তা বিলক্ষণ জানেন যোগী ও মোদি দুজনেই। এজন্য নিজের নিজের মুকুটে মহাগুরুত্বপূর্ণ ওই পালক জোড়ার প্রস্তুতিতে কোনও খামতি রাখেননি কেউই। সব কটি আখড়ার জন্য জায়গার সুবন্দোবস্ত করেছে যোগী সরকার। প্রতি পদক্ষেপে পাশে কেন্দ্র। ধর্ম সম্মেলনের মহামঞ্চে যাতে কোনও গোষ্ঠীরই বিরাগভাজন হতে না হয়। বৃহত্তর স্বপ্নপূরণের নিরিখে এ মূল্য বড়ই কম।
স্বপ্ন দেখছেন মোদি। আরও একবার নয়াদিল্লির তখতে বসার। তাই মহাকুম্ভের মহামঞ্চকে নিজের কর্মকাণ্ডের প্রচারমঞ্চ হিসেবে বেছে নিয়েছেন তিনি। লাগানো হয়েছে জল জীবন মিশন সহ একাধিক প্রকল্পের কয়েকশো ফ্লেক্স।সেগুলিতে জায়গা হয়নি যোগীর। সেখানে মোদী একই। কারণ একটাই। দেশ বিদেশের মানুষের সুবিশাল জনসমাগমের সামনে নিজের ইমেজকে আরও উঁচু করে তুলে ধরতে মরিয়া তিনি।
এর আঁচ সম্ভবত আগেই করতে পেরেছিলেন আদিত্যনাথ। সেই কারণেই বোধহয় এবারের কুম্ভমেলাকে ‘পাখির চোখ’ করে প্রস্তুতি শুরু করেছিলেন বছরদুয়েক আগে থেকেই। পূর্ণকুম্ভের প্রচার ফ্লেক্সে মোদির সঙ্গে জায়গা ভাগ করতে হলেও যাবতীয় ব্যবস্থাপনার নেপথ্যে যে তিনিই, সেকথা শোনা যাচ্ছে সরকারি কর্মকর্তা ও স্থানীয় জনতার মুখে।
প্রশাসন সূত্রে খবর, এবারের কুম্ভমেলায় রেকর্ড প্রায় ৪৫ কোটি মানুষের সমাগম হবে। এজন্য খাটানো হয়েছে সার সার তাঁবু। মাটির উপর সাদা বালি ফেলে তার উপরে প্রায় সাড়ে ৬০০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বসানো হয়েছে স্টিলের চেকার্ড প্লেট, তৈরি হয়েছে ৩০টি পন্টুন ব্রিজ। শাহি স্নান পর্বে আখড়ার সাধু-সন্ন্যাসী ও আমজনতার ভিড় সামাল দিতে থাকছে পৃথক ঘাটেরও ব্যবস্থা। একাধিক ঘাট বাঁধানো হয়েছে কংক্রিট দিয়ে। প্রতিটি দফায় নিজে এসে কাজ খুঁটিয়ে দেখেছেন যোগী। আসলে একটা হিসেব পরিষ্কার—কুম্ভ শেষ হলেও প্রয়াগরাজে পুণ্যার্থীদের ঢল আসবেই। যেমন আসছে অযোধ্যায়। তাই কুম্ভকে সামনে রেখেই একেবারে ভবিষ্যতের প্রস্তুতিও সেরে রাখলেন যোগী।
নিজের ময়দানে কাউকে সূচাগ্র মেদিনী ছাড়তে রাজি নন যোগী। সেই প্রতিপক্ষ স্বয়ং নরেন্দ্র মোদি হলেও নয়।



