Bartaman Logo
১৭ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / ব্ল্যাকবোর্ড

প্রেমের সমাধি

প্রেমের সমাধি
  • ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নাগরপোঁতার শাল-পিয়ালের জঙ্গল। সেখানে বাসন্তি বাতাসে ভেসে বেড়ায় বহুদিনের পুরনো এক মন কেমন করা প্রেমের কাহিনি। এখনকার আউশগ্রামের দেবশালা ছিল সেকালের গোপভূম। সেই রাজ্যের রাজার ছিল এক কন্যা। বাংলা তখন বর্গি হামলায় জেরবার। গোপভূমের রাজা বর্গিদের থেকে রক্ষা পেতে তার রাজবাড়ির চতুর্দিকে পরিখা খুঁড়ে দিয়েছিলেন। সেই পরিখার কিছু অংশ আজও বিদ্যমান। ওই পরিখা দিয়ে পানসি বেয়ে রাজবাড়িতে দুধ দিতে আসত এক গোপ কিশোর। একদিন রাজবাড়ির অলিন্দে চোখ আটকে গেল তার। অলিন্দে দাঁড়িয়ে তার দিকেই তাকিয়ে পরমাসুন্দরী রাজকন্যা। দু’জনেরই দুজনের চোখের ভাষা বুঝতে দেরি হয়নি। দুটি হৃদয় অজান্তেই প্রেমের বিনি সুতোর মালায় জড়িয়ে পড়ে। কিন্তু মন দেওয়া-নেওয়ার ঘটনা চাপা থাকেনি। তাদের অসম প্রেমের কথা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।  রাজার কানেও পৌঁছয় সেই গুঞ্জন। রাজকন্যার সঙ্গে গোপ কিশোরের এই প্রেম কোনওভাবেই মানতে রাজি ছিলেন না রাজা। এদিকে রাজরোষে পড়ার ভয়ে রাজকন্যার হাত ধরে ঘর ছাড়ল গোপ কিশোর। আশ্রয় নিল ঘন শাল-পলাশের জঙ্গলে। ফুঁসে উঠলেন রাজা। সেনাদের আদেশ দিলেন, দুজনকে যেখানেই  দেখতে পাবে যেখানেই মেরে ফেলতে হবে। যেমন আজ্ঞা, তেমনি কাজ। নাগরপোঁতার জঙ্গলে প্রেমিক যুগলকে হত্যা করল রাজার সেনারা। তারপর পুঁতে দিল সেখানেই। তৈরি হল ‘প্রেমের সমাধি’। আজও ‘প্রেমের সমাধি’-তে গাছের ঝরাপাতা ছড়িয়ে আসেন প্রেমিক-প্রেমিকারা। আউশগ্রাম ২ ব্লকের দেবশালায় নাগরপোঁতা জঙ্গল। দেবশালা বাসস্ট্যান্ড থেকে বাঁ দিকের জঙ্গলের রাস্তা ধরে দুর্গাপুরের দিকে গেলেই চোখে পড়বে সেই প্রেমের সমাধি। দেবশালার বাসিন্দা ক্ষেত্রনাথ মণ্ডল বলেন, তখনকার দিনে সমাজ অসম প্রেম মেনে নিত না। তাই দু’জনকে মেরে ফেলা হয়েছিল। জঙ্গলে আমরা গেলে প্রেমের সমাধিতে শুকনো ঝরাপাতা দিই। সম্মান জানাই ভালোবাসার শহিদদের।
Advertisement
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ