সংবাদদাতা, তেহট্ট: পথ দুর্ঘটনায় প্রেমিকের মৃত্যুর খবর সইতে না পেরে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মঘাতী হল প্রেমিকা। আত্মঘাতীর নাম পূজা রায়। বেতাই উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী সে। বুধবার বিকেলের দিকে ঘটনাটি ঘটেছে তেহট্ট থানার বেতাই উত্তর জিতপুর তাবুপাড়ায়। পুলিস ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, সরস্বতী পূজার দিন রাত্রে ঠাকুর দেখে ফেরার পথে পথ দুর্ঘটনায় যে চার বন্ধুর মৃত্যু হয় তাদের মধ্যে একজনের সঙ্গে পূজার সম্পর্ক ছিল। দুর্ঘটনায় প্রেমিকের মৃত্যু কোনওভাবেই মেনে নিতে পারছিল না সে। মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিল। যে কারণে পরিবারের পক্ষ থেকে পূজাকে কখনও একা থাকতে দেওয়া হতো না। সব সময়ে ওর সঙ্গে কেউ না কেউ থাকত। দুর্ঘটনার কিছুক্ষণ আগে বড় বোন টিউশন পড়তে চলে যায়। মা ব্যক্তিগত কাজে বাড়ির বাইরে যান। বাবা মঙ্গল রায় দেশের বাইরে কাজ করেন। দাদাও বাড়িতে ছিল না। পূজা জানত বাড়ি একদম ফাঁকা। এই সময়ে পূজার সঙ্গে থাকা বাড়ির পাশে এক নিকট আত্মীয়র কাছ থেকে কিছু একটা কিনে খাবে বলে কুড়ি টাকা চেয়ে নেয়। টাকা নিয়ে সোজা তার ফাঁকা বাড়িতে ঘরের দরজা আটকে গলায় ফাঁস লাগিয়ে ঝুলে পড়ে। তার আত্মীয় পূজার খোঁজ না পেয়ে বাড়িতে গিয়ে দেখে, ঘরের ভিতর থেকে খিল লাগানো। ডাকাডাকি করে দরজা না খুললে ভেঙে ভিতরে গিয়ে দেখতে পান, সিলিংয়ের সঙ্গে ঝুলছে পূজা। তাকে নামিয়ে তেহট্ট মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পূজার মা পায়েল রায় বার বার জ্ঞান হারাচ্ছেন। তাঁর মুখ থেকেই জানা যায়, সরস্বতী পূজোর রাত্রে যে চার জন বন্ধু পথ দুর্ঘটনায় মারা যায় তার মধ্যে একটি ছেলের সঙ্গে মেয়ের পরিচয় ছিল। হঠাৎ ছেলেটির মৃত্যুতে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিল মেয়ে। অল্প বয়সের ছেলেমেয়ে কখন কী করে বসে। তাই তাকে সব সময় নজরে রাখতাম। কিছু সময়ের জন্য আমি একটু বাইরে যাব বলে আমার এক নিকট আত্মীয়কে বলে গিয়েছিলাম। বাড়িতে কেউ ছিল না, সেই সুযোগে আত্মীয়র কাছ থেকে কিছু খাবে বলে কুড়ি টাকা চেয়ে নিয়ে সোজা বাড়িতে এসে ঘরে ঢুকে গলায় ফাঁস লাগিয়ে ঝুলে পড়ে। খবর পেয়ে বাড়িতে এসে দেখি সব শেষ। দেহটি উদ্ধার করেছে তেহট্ট থানার পুলিস। বৃহস্পতিবার কৃষ্ণনগর শক্তিনগর জেলা হাসপাতালে ময়নাতদন্ত হবে।



