Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

প্রেম দিবসে প্রেমিকের সঙ্গে দেখা করে ফেরার পরই আত্মঘাতী ছাত্রী

প্রেম দিবসে প্রেমিকের সঙ্গে দেখা করে ফেরার পরই আত্মঘাতী ছাত্রী
  • ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: প্রেম দিবসে ‘প্রেমিক’-এর সঙ্গে দেখা করে ফেরার পরই আত্মঘাতী ছাত্রী! শুক্রবার রাতে জলপাইগুড়ির রাজগঞ্জের সহদেবভিটা এলাকার ওই ঘটনায় আলোড়ন ছড়িয়েছে। আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে বছর ঊনিশের এক তরুণকে গ্রেপ্তার করেছে রাজগঞ্জ থানার পুলিস। ধৃতের বাড়ি রাজগঞ্জের নিজেরহাট এলাকায়। রাজগঞ্জ থানার আইসি অনুপম মজুমদার বলেন, ছাত্রীর অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় আমরা একজনকে গ্রেপ্তার করে এদিন জলপাইগুড়ি আদালতে পাঠিয়ে দিয়েছি। তদন্ত শুরু হয়েছে।
Advertisement
স্থানীয় সূত্রে খবর, ভ্যালেন্টাইন্স ডে’র সন্ধ্যায় বাড়ির কাছে একটি চা বাগানে এক তরুণের সঙ্গে দেখা করতে যায় ওই ছাত্রী। তারপরই বাড়ি ফিরে সে কীটনাশক খায়। একইসঙ্গে গলায় ওড়নার ফাঁস দেওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু লোকজন চলে আসায় শেষপর্যন্ত গলায় ফাঁস দিতে পারেনি সে। কিন্তু কীটনাশক খেয়ে ফেলায় সঙ্গে সঙ্গে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
এদিকে, চা বাগানের ভিতর দিয়ে পালানোর চেষ্টা করতে গিয়ে স্থানীয়দের হাতে ধরা পড়ে যায় ওই ছাত্রীর সঙ্গে থাকা তরুণ। স্থানীয়রা তাকে ধরে মেয়েটির বাড়িতে নিয়ে আসার পথেই জানতে পারেন, ওই ছাত্রী বিষ খেয়েছে। ঘটনা জানাজানি হয়ে যাওয়ায় ছেলেটির পরিবারও চলে আসে।
মেয়েটির পরিবার সূত্রে খবর, ওই ছাত্রীকে প্রথমে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু ছেলের বাড়ির লোকজন জানান, তারা চিকিৎসার খরচ দেবে। ফলে বন্ডে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল থেকে বের করে ছাত্রীকে শিলিগুড়ির কাছে একটি নার্সিংহোমে ভর্তির জন্য আনা হয়। কিন্তু সেখানে চিকিৎসার খরচ শুনে টালবাহানা শুরু করে ছেলেটির পরিবার। ফলে মেয়েটিকে ফের উত্তরবঙ্গ মেডিক্যালে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় তার বাড়ির লোকজন। দ্বিতীয়বার উত্তরবঙ্গ মেডিক্যালে নিয়ে যাওয়ার পথেই মৃত্যু হয় ওই ছাত্রীর। ছাত্রীটিকে বেলাকোবা গ্রামীণ হাসপাতালে আনা হলে চিকিৎসক ওই ছাত্রীকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এদিন দুপুরে জলপাইগুড়ি মেডিক্যালের মর্গে ছাত্রীর দেহের ময়নাতদন্ত হয়।
এদিন মর্গ চত্বরে দাঁড়িয়ে মৃত ছাত্রীর বাবা বলেন, কোনও ছেলের সঙ্গে মেয়ের সম্পর্ক ছিল, এমনটা জানতাম না। তবে লোকজন জানিয়েছে, শুক্রবার সন্ধ্যায় বাড়ির কাছের একটি চা বাগানে এক তরুণের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিল মেয়ে। ফিরে এসেই সে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। আমাদের সন্দেহ, ছেলেটি আমার মেয়েকে এমন কিছু বলেছে, যে কারণে সে বাড়ি ফিরে কীটনাশক খায়। মৃত ছাত্রীর বাবার দাবি, আমি বাড়ি ছিলাম না। বাজারে গিয়েছিলাম। ফিরে এসে দেখি, এই কাণ্ড। এমনটা যে কখনও ঘটতে পারে ভাবতেই পারিনি।
স্থানীয় সূত্রে খবর, ছাত্রীর বাবা কৃষিকাজ করেন। কখনও আবার অন্যের চা বাগানেও কাজ করেন। তার একটি ট্রাক্টর রয়েছে। অভিযুক্ত তরুণ দিন দশেক আগে ছাত্রীর বাবার ট্রাক্টর চালানোর নাম করে প্রথম মেয়েটির বাড়িতে আসে।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ