Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

প্রাক্তন আইসির ১৫ লক্ষ টাকা প্রতারণার অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য 

প্রাক্তন আইসির ১৫ লক্ষ টাকা প্রতারণার অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য 
  • ১৭ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
সংবাদদাতা, পুরুলিয়া: সদর থানার প্রাক্তন আইসির প্রায় ১৫ লক্ষ টাকা প্রতারণার অভিযোগ ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পুরুলিয়া সদর থানাতে এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ করেছেন তিনি। গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে সদর থানার পুলিস। প্রাক্তন আইসি দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায় পুরুলিয়া শহরের তিন নম্বর ওয়ার্ড এলাকার বাসিন্দা। পুরুলিয়া সদর থানা ছাড়াও তিনি জেলার একাধিক থানায় ওসির দায়িত্ব সামলেছেন। 
Advertisement
তিনি সদর থানাতে লিখিত অভিযোগ করে জানান, পুরুলিয়া শহরের মুনসেফ ডাঙা এলাকার এক বাসিন্দার কাছ থেকে বাঘমুণ্ডি থেকে কলকাতা রুটের দু’টি বাস কেনেন তিনি। চুক্তি মতো সব টাকাও দিয়ে দেন। পরে তাঁর মনে হয় তিনি বাস দু’টি চালাতে পারবেন না। তাই নতুন কাউকে ওই দু’টি বাসই পারমিট সহ বিক্রি করে দেওয়ার কথা ভাবেন। সেই মতো মুনসেফ ডাঙার ব্যক্তিকে জানিয়েও দেন যে নতুন করে যাঁকে তিনি বাসটি বিক্রি করবেন তাঁর নামেই সরাসরি এসটিএ পারমিট ও নাম পরিবর্তন করে দেওয়ার জন্য। সেই মতো কাশীপুর থানায় এলাকার চিত্রা গ্রামের এক ব্যক্তিকে ৩২ লক্ষ টাকার বিনিময়ে দু’টি বাসই রুট পারমিট সহ বিক্রি করার জন্য এগ্রিমেন্ট করা হয়। কাশীপুরের ওই ব্যক্তির দাদা বাঁকুড়া জেলার বেলিয়াতোড়ের বাসিন্দা পেশায় শিক্ষক। শিক্ষক দাদাও তাঁর সঙ্গে রয়েছে বলে জানিয়েছিলেন কাশীপুরের ওই বাসিন্দা। তাঁদের একাধিক বাস রয়েছে বলে জানিয়েছিল। দেবাশিসবাবু আরও জানান, চুক্তিপত্র অনুযায়ী নাম ট্রান্সফার হয়ে যাওয়ার পর একটি ব্যাঙ্ক থেকে লোন নিয়ে ১৬ লক্ষ টাকা  দেওয়ার কথা ছিল।  চুক্তি অনুযায়ী মোট ৩২ লক্ষ টাকার মধ্যে ১৬ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা দিয়েছিলেন কাশীপুরের ওই ব্যক্তি। বাকি প্রায় ১৫ লক্ষ টাকা চেক এবং নগদে মিলিয়ে দেওয়ার কথা ছিল। যার মধ্যে ৩ লক্ষ ২৯ হাজার টাকা করে চারটি চেকও দিয়েছিল। ওই চেকগুলি লোন হওয়ার পর তোলা যাবে বলা হয়েছিল। ইতিমধ্যে ওই ব্যক্তিকে বিশ্বাস করে তাঁর নামে বাস এবং রুট পারমিট ট্রান্সফার করে দেওয়া হয়। লোন হয়ে যাওয়ার পর গত বছর নভেম্বর মাসের ২৪ তারিখের মধ্যে সমস্ত টাকা মিটিয়ে দেওয়ার চুক্তি হয়েছিল। কিন্তু লোন হয়ে যাওয়ার পর ওই চেকগুলি ভাঙাতে ব্যাঙ্কে গিয়ে জানতে পারি চেকগুলিতে ‘স্টপ পেমেন্ট’ করা হয়েছে। চুক্তি করার পরেও এখনও পর্যন্ত প্রায় ১৫ লক্ষ টাকা ওই ব্যক্তি দেননি বলে অভিযোগ দেবাশিসবাবুর। তিনি এ বিষয়ে বলেন, ওই দুইভাই মিলে একসঙ্গে ষড়যন্ত্র করে আমার সঙ্গে প্রতারণা করেছে। বাকি টাকা চাইতে গেলে প্রাণে মারার হুমকিও দিয়েছে। বিষয়টি সদর থানাতে লিখিতভাবে জানিয়েছি। গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে সদর থানার পুলিস। 
সম্পর্কিত সংবাদ