Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

পরীক্ষার খাতা গায়েব রহস্যের হয়নি কিনারা, বিরাটি কলেজে তদন্ত কমিটি

পরীক্ষার খাতা গায়েব রহস্যের হয়নি কিনারা, বিরাটি কলেজে তদন্ত কমিটি
  • ১৩ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: রহস্যজনক ভাবে কলেজের ভিতর থেকে গায়েব হয়ে গিয়েছিল তৃতীয় বর্ষের ষষ্ঠ সেমেস্টারের ২১টি খাতা। চার মাস পরও সেই খাতা উদ্ধার হয়নি। খাতা হারানোর দায়ে কারও বিরুদ্ধে পদক্ষেপও নেওয়া হয়নি। এই পরিস্থিতিতে এবার বারাসত স্টেট ইউনিভার্সিটি কিছুটা হলেও গা ঝাড়া দিল। বৃহস্পতিবার ১০ জন অধ্যাপকের তদন্ত কমিটি কলেজে এসে পরীক্ষার সঙ্গে যুক্ত অধ্যাপক সহ সকলের সঙ্গে কথা বলেন। যদিও তাতে লাভ হবে কি না, তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে সংশয় তৈরি হয়েছে। 
Advertisement
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত জুলাই মাসে বিরাটির মৃণালিনী দত্ত মহাবিদ্যালয়ে ষষ্ঠ সেমিস্টারের পরীক্ষা হয়েছিল। সেখান থেকে বারাসত স্টেট ইউনিভার্সিটির চারটি কলেজের স্নাতক স্তরের ২১টি পরীক্ষার খাতা হারিয়ে যায়। কলেজ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ২২ জুলাই কলেজের তিনতলার ২০৭ নম্বর ঘরে বাণিজ্য বিভাগের ‘রিসার্চ এন্ড প্রোজেক্ট ওয়ার্কের’ পরীক্ষা চলছিল। পরীক্ষার শেষে খাতা জমা দিয়ে ছাত্রছাত্রীরাও বেরিয়ে যান। পরিদর্শকের দায়িত্বে থাকা অধ্যাপকরা ছাত্র সংখ্যা ও পরীক্ষার খাতা মিলিয়ে সবকিছু ঠিকঠাক পেয়েছিলেন। পরীক্ষা কেন্দ্র থেকে ওই খাতা কলেজ ক্যাম্পাসের মধ্যে এনসিসি হলের পরীক্ষা বিভাগে গিয়েছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ে ওই খাতা পাঠানোর আগে সেখানে নতুন করে তা গোনার সময় দেখা যায়, ৫৮টি খাতার মধ্যে ২১টি খাতা গায়েব। কলেজ কর্তৃপক্ষ নিমতা থানায় ডায়েরি করেছিল। কিন্তু আজও রহস্যের জট খোলেনি।
বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বারাসত স্টেট ইউনিভার্সিটির তরফে ১০ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। অধ্যাপক সুবীর বিশ্বাসের নেতৃত্বে কমিটির সদস্যরা এদিন সকাল সাড়ে ১১টা নাগাদ বিরাটি কলেজে আসেন। তাঁরা পরীক্ষার সঙ্গে যুক্ত অধ্যাপক ও অশিক্ষক কর্মচারীদের সঙ্গে পৃথকভাবে কথা বলেন। ওইদিন কলেজের সিসি ক্যামেরার ফুটেজও খতিয়ে দেখেন। এরপর বিকেলে তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরে যান। এই বিষয়ে কলেজের তৃণমূল ছাত্র পরিষদের ইউনিট সভাপতি সৌমেন দাস বলেন, আমরা চাই, ছাত্রছাত্রীদের স্বার্থে দ্রুত খাতা হারানো রহস্যের কিনারা হোক। কলেজের একাংশ পড়ুয়াদের দাবি, পরীক্ষা কেন্দ্র থেকে খাতা পরীক্ষা বিভাগে আসার সময় গায়েব হয়েছে। অর্থাৎ পরিকল্পনা করে কলেজ প্রশাসনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা এই ঘটনা ঘটিয়েছেন। চক্রান্তের পিছনে কলেজের কোনও অধ্যাপক বা কর্মীদের যোগ না থাকলে খাতা গায়েব হওয়া সম্ভব ছিল না। অথচ এই ঘটনায় দোষীদের শনাক্ত করার বদলে তা ধাপাচাপা দিতেই একের পর এক কমিটি গড়ে সময় নষ্ট করা হচ্ছে।
সম্পর্কিত সংবাদ