Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পরকীয়া করে মেয়ে উধাও, জামাইয়ের বিয়ে দিতে চান শাশুড়ি

পরকীয়া করে মেয়ে উধাও, জামাইয়ের বিয়ে দিতে চান শাশুড়ি
  • ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
সংবাদদাতা, ঘাটাল: শাশুড়ি জামাইয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে সান্ত্বনা দিয়ে বলেছেন, মেয়ে ফিরে না এলে নিজে দাঁড়িয়ে থেকে জামাইয়ের বিয়ে দেবেন। অগত্যা বউ পালানো স্বামী ন’ বছরের কন্যাকে নিয়ে শ্বশুরবাড়িতেই দিন কাটাচ্ছেন। হুগলি জেলার ঢলডাঙার বাসিন্দা দেবাশিস বেরার ঠিকানা আপাতত ঘাটাল থানার অজবনগরে।
Advertisement
দেবাশিস বলেন, শনিবার আমার শ্বশুরবাড়ি থেকেই স্ত্রী পিউ পণ্ডিত বেরা পালিয়ে গিয়েছে। শ্বশুর-শাশুড়িকে নিয়ে গোটা এলাকায় তন্ন তন্ন করে স্ত্রীকে খুঁজছি। ঘাটাল থানাতে অভিযোগও করা হয়েছে। কিন্তু তাঁর সন্ধান মেলেনি। দেবাশিসের শাশুড়ি মালা পণ্ডিত বলেন, ‘আর ক’টা দিন খুঁজব। যদি না পাই নিজে দাঁড়িয়ে থেকে জামাইয়ের বিয়ে দেব। কারণ আমার মেয়ের জন্য তো এই নিরীহ ছেলেটার আর নাতনির জীবনটা বরবাদ করে দিতে পারি না।’
দেবাশিসের যখন আট বছর বয়স তখনই তাঁর বাবা মারা যান। মা অন্যকে বিয়ে করেন। আত্মীয় প্রতিবেশীদের সহযোগিতায় কিছুদূর পড়াশোনা করার পরই দেবাশিস সোনার কাজে লেগে যান। দিল্লিতে তাঁর নিজের সোনার গয়না তৈরির দোকান রয়েছে। ১০-১১ বছর আগে দেবাশিসের বিয়ের জন্য পাত্রী দেখা শুরু হলে পরিচিতদের মাধ্যমে মালার কানে প্রস্তাব যায়। মালা বলেন, বাবা-মা হারা দেবাশিসকে দেখে আমার খুব মায়া হয়। সেই অনুকম্পা থেকেই ওর সঙ্গে আমার মেয়ের বিয়ে দিই।
যেহেতু গ্রামের বাড়িতে দেবাশিসের সে অর্থে কেউ নেই। বিয়ের অষ্টমঙ্গলার পরেই স্ত্রীকে নিয়ে দিল্লি চলে যান ওই যুবক। সেখানেই সুখের সংসার চলছিল। বিয়ের দু’ বছরের মধ্যে একটি কন্যা সন্তানও হয়। কিন্তু বছর দেড়েক হল পিউ হঠাৎ বদলাতে শুরু করে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা মোবাইলে এনগেজ থাকত বলে দেবাশিসের অভিযোগ। তিনি বলেন, আমার ফেব্রুয়ারি মাসের ৬ তারিখে বাড়ি আসার কথা ছিল। সেই প্রোগ্রামকে বাদ দিয়ে হঠাৎ আমার স্ত্রী রাগারাগি করে ডিসেম্বরের ১৫ তারিখে মেয়েকে নিয়ে বাপের বাড়ি চলে আসে। সেখান থেকেই শনিবার অন্য এক যুবকের সঙ্গে পালিয়ে যায়। ওই খবর শুনেই দোকান ছেড়ে শনিবার রাতেই প্লেনে করে এ রাজ্যে ফেরেন দেবাশিস।
শ্বশুরবাড়ির লোকেদের নিয়ে রবিবার থেকেই পিউকে খুঁজে চলেছেন। কিন্তু কোথাও না পাওয়ায় মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত দেবাশিসকে দিল্লি ফিরে যেতে দিচ্ছেন না শাশুড়ি। শাশুড়ি বলেন, আর ক’টা দিন খুঁজে দেখি। মেয়েকে না পাওয়া গেলে আমিই নিজে দাঁড়িয়ে থেকে জামাইয়ের বিয়ে দিয়ে দিল্লি পাঠাব। আমার জামাই খুব ভালো মানুষ। আমার ওকেও  চাই, নাতনিকেও চাই। তাই আমরাই জামাইয়ের বিয়ে দেব।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ