Bartaman Logo
৭ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

রাজ্য স্বাস্থ্য কমিশনের নয়া কমিটিতে বেসরকারি ক্ষেত্রের রমরমা, বিতর্ক, প্রাইভেট হাসপাতালের বিরুদ্ধে পদক্ষেপে সংশয়

বেসরকারি হাসপাতালের গাফিলতির বিচারে ২০১৭ সালে ওয়েস্ট বেঙ্গল ক্লিনিকাল এস্টাব্লিশমেন্ট রেগুলেটরি কমিশন বা স্বাস্থ্য কমিশন তৈরি করা হয়।

রাজ্য স্বাস্থ্য কমিশনের নয়া কমিটিতে  বেসরকারি ক্ষেত্রের রমরমা, বিতর্ক, প্রাইভেট হাসপাতালের বিরুদ্ধে পদক্ষেপে সংশয়
  • ৭ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বেসরকারি হাসপাতালের গাফিলতির বিচারে ২০১৭ সালে ওয়েস্ট বেঙ্গল ক্লিনিকাল এস্টাব্লিশমেন্ট রেগুলেটরি কমিশন বা স্বাস্থ্য কমিশন তৈরি করা হয়। সেই কমিশন ঢেলে সাজতে কমিটি বদল করল নতুন সরকার। কলকাতা হাইকোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি অসীমকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে আগে ১৩ জনের যে কমিটি গঠিত হয়েছিল তাতে ছিলেন চারজন কর্মরত সরকারি চিকিৎসক। চাঞ্চল্যকর ঘটনা হল, এবারের কমিটির চেহারা ঠিক উলটো! নয়া কমিটিতে বেসরকারি হাসপাতালের নামী ফুল টাইম এবং ভিজিটিং কনসালট‌্যান্ট চিকিৎসকের ছড়াছড়ি। যেমন—ডাঃ নারায়ণ বন্দ্যোপাধ্যায়, ডাঃ শ্যামাশিস বন্দ্যোপাধ্যায়, ডাঃ সন্দীপ রায় প্রমুখ। অথচ আগের কমিটিতে রাখা হয়েছিল ডাঃ অভিজিৎ চৌধুরী, ডাঃ গোপালকৃষ্ণ ঢালির মতো সিনিয়র কর্মরত সরকারি চিকিৎসকদের (একজন তখন কর্মরত ছিলেন)। 

Advertisement

বুধবার স্বাস্থ্যভবন জানিয়েছে, নতুন কমিটির মাথায় বসেছেন কলকাতা হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বিশ্বজিত্ বসু। ভাইস চেয়ারপার্সন হয়েছেন আইএএস আধিকারিক মৌমিতা গোদারা বসু। এবারের ১৩ জনের কমিটিতে নেই  আগের কমিটির সদস্য প্রবীণ ফিজিশিয়ান ডাঃ সুকুমার মুখোপাধ্যায়। উল্লেখ্য, কিছুদিন আগেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তাঁকে বিশেষভাবে সম্মানিত করেছেন।  প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার গৌতমমোহন চক্রবর্তী রয়েছেন এই কমিটিতে। আগের কমিটিতে ছিলেন বিনোদ কুমার, দময়ন্তী সেন প্রমুখ সিনিয়র আইএএস এবং আইপিএস অফিসার। 
গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে এই যে, নয়া কমিটির যেসব সদস্য বেসরকারি হাসপাতালে প্র্যাকটিস করছেন, তাঁদেরই কর্মস্থল বা কোনো প্রাইভেট হাসপাতাল অভিযুক্ত হলে সেই গাফিলতির তদন্ত তাঁরা কীভাবে করবেন? কে নিশ্চয়তা দেবে যে সেই তদন্ত পক্ষপাতমূলক হবে না এবং বাধবে না স্বার্থের সংঘাত?  সাধারণ মানুষের মনেও নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। অনেকেরই প্রশ্ন, কমিটিতে না-থাকলেও স্বাস্থ্যদপ্তরের মাথায় যিনি বসে আছেন, সেই স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়ই তো দীর্ঘদিন যাবৎ শহরের একটি বড়ো প্রাইভেট হাসপাতাল গোষ্ঠীতে কনসালট্যান্ট রেডিয়েশন অনকোলজিস্ট হিসাবে কাজ করেছেন। প্রাইভেট হাসপাতালের বিরুদ্ধে গুরুতর গাফিলতির অভিযোগ উঠলে নতুন ব্যবস্থায় ভুক্তভোগী রোগী বা তাঁর পরিবার আদৌ বিচার পাবেন তো?
যেভাবে প্রাইভেট ব্লাড ব্যাংকের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে, অভিযোগ পেলে সেরকম তদন্ত প্রাইভেট হাসপাতালগুলির বিরুদ্ধেও হবে তো? নতুন কমিটির সদস্য বিশিষ্ট ফিজিশিয়ান শ্যামাশিসবাবু বলেন, অসংখ্য পেশাদার নিয়ামক সংস্থার মাথায় সেই পেশার মানুষজনই আছেন। আমার কাজ সৎভাবে নিয়ম মেনে সবকিছু হচ্ছে কি না দেখা এবং চেয়ারম্যানকে সাহায্য করা। সেটাই করব। 
অন্যদিকে, বিশিষ্ট প্র্যাক্টিসিং স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ এবং পিজি হাসপাতালের প্রাক্তন বিভাগীয় প্রধান ডাঃ সুভাষ বিশ্বাস বলেন,  সরকারি-বেসরকারি এমন কোনো ভাগাভাগি নেই। প্রথম পরিচয়—আমরা ডাক্তার। যেকোনো ধরনের অভিযোগ উঠলে, সৎভাবে নিরপেক্ষতার সঙ্গেই সেসবের বিচার করা হবে।
এই ব্যাপারে স্বাস্থ্যমন্ত্রী অবশ্য দাবি করেছেন, নতুন কমিটি হয়েছে অত্যন্ত ব্যালান্সড। শারদ্বতবাবু বলেন, বিল সংক্রান্ত অভিযোগই বেশি ওঠে। তাই সদস্য আছেন চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট। বিজ্ঞানী সদস্যও রাখা হয়েছে। কথা দিতে পারি, বেসরকারি হাসপাতালের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে নিরপেক্ষভাবেই তদন্ত হবে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ