জনগণনার কাজে বেসরকারি স্কুলের শিক্ষকরাও, নতুন নির্দেশিকা কেন্দ্রের
  • ১৮ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নয়াদিল্লি: জনগণনা আইনে বড়োসড়ো বদল আনল কেন্দ্র। এখন থেকে রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলি বেসরকারি স্কুলের শিক্ষকদেরও জনগণনার কাজে লাগানো যাবে। এমনকি কোনো সোসাইটি বা ট্রাস্ট পরিচালিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরাও এই কাজের আওতায় আসবেন। সেজন্য ১৯৯০ সালে সেন্সাস রুলে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনা হয়েছে। গত শুক্রবার রেজিস্ট্রার জেনারেল অব ইন্ডিয়া (আরজিআই) মৃত্যুঞ্জয় কুমার নারায়ণ এই নিয়ে গেজেট নোটিফিকেশন জারি করেছেন। সেই বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বেসরকারি স্কুলের শিক্ষকের পাশাপাশি কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মী ও আধিকারিকদেরও জনগণনার কাজে নিয়োগ করা যাবে। স্থানীয় প্রশাসন, রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা, ব্যাংক, সোসাইটি ও ট্রাস্টের কর্মীরাও এই দায়িত্ব পেতে পারেন। এছাড়া রাজ্য সরকার বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল মনে করলে অন্য কোনো ব্যক্তিকেও গণনার দায়িত্ব দিতে পারে। বিষয়টি সামনে আসার পরেই সরব হয়েছে কংগ্রেস। তাদের অভিযোগ, এই পদক্ষেপের পিছনে কেন্দ্রের ‘কারসাজি’ রয়েছে। এটি আসলে হাজার হাজার আরএসএস ও বিজেপি কর্মীদের জন্য ‘রোজগার গ্যারান্টি যোজনা’।

Advertisement

বেসরকারি স্কুলের শিক্ষকদের জনগণনার কাজে নিয়োগকে চ্যালেঞ্জ করে সম্প্রতি পাঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেছিল একটি সংগঠন। তারা জানায়, জনগণনা আইন বা তার অধীনে তৈরি বিধিতে বেসরকরি স্কুলের শিক্ষকদের গণনাকারী হিসাবে নিযুক্ত করার ক্ষমতা সরকারকে দেওয়া হয়নি। এরপর হরিয়ানা সরকারের জারি করা দু’টি নির্দেশিকায় স্থগিতাদেশ দেয় হাইকোর্ট। তার প্রেক্ষিতেই এবার নিয়মে বদল আনল কেন্দ্র। তা নিয়ে কংগ্রেস সাংসদ জয়রাম রমেশ এক্স হ্যান্ডলে লিখেছেন, ‘২০২৬ সালের জুলাইয়ে আরএসএস বেলগাঁওয়ে কর্মীদের জন্য একটি বিরাট প্রশিক্ষণ শিবিরের আয়োজন করেছিল। যার একমাত্র আলোচ্য বিষয় ছিল ২০২৭ সালের জনগণনা। ২০২৬ সালের ২৬ মে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক জনবিন্যাস বদল বিষয়ক উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করে। এই কমিটি ‘উচ্চ পর্যায়’-এর হওয়ার একমাত্র কারণ হল, সদস্যদের সঙ্গে আরএসএস ঘনিষ্ঠ সংগঠন ও ব্যক্তিদের গভীর সম্পর্ক। ফলে ১৬ অক্টোবর জারি করা জনগণনা সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিকে আরএসএসের প্রশিক্ষণ শিবির এবং জনবিন্যাস পরিবর্তন বিষয়ক কমিটির প্রেক্ষাপটে দেখা প্রয়োজন। এটা স্পষ্ট যে, পুরো বিষয়টি হাজার হাজার আরএসএস বা বিজেপি কর্মীদের জন্য কর্মসংস্থান নিশ্চয়তা প্রকল্প হিসাবে কাজ করছে। এসআইআরের মতো জনগণনার পরিসংখ্যানও বিপজ্জনক কারসাজির শিকার হবে।’ তাঁর 
অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জুটির ষড়যন্ত্রের কোনো শেষ নেই।