Bartaman Logo
১৫ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

উত্তরবঙ্গ মেডিকেল চত্বর থেকে সরছে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স

উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চত্বর থেকে সরে গিয়েছে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স।

উত্তরবঙ্গ মেডিকেল চত্বর থেকে সরছে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স
  • ১৯ মে, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সের দৌরাত্ম্য বন্ধ করতে কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে রাজ্য সরকার। নতুন নির্দেশিকা জারি হওয়ার পর থেকেই উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চত্বর থেকে সরে গিয়েছে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স। আর এই উদ্যোগের জেরেই সামনে এসেছে শিলিগুড়িতে অবৈধ অ্যাম্বুলেন্স চলাচলের অভিযোগ।

Advertisement

শিলিগুড়ি মহকুমা মোটর যান বিভাগ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১০ বছরে শিলিগুড়িতে মাত্র ৩২০টি অ্যাম্বুলেন্সের রেজিস্ট্রেশন হয়েছে। অভিযোগ, বাস্তবে এর থেকেও অনেক বেশি অ্যাম্বুলেন্স উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ, শিলিগুড়ি জেলা হাসপাতাল এবং শহরের বিভিন্ন  নার্সিংহোমে নিয়মিত চলাচল করছে।
উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রিন্সিপালের অফিসের বিপরীতে খোলা মাঠে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকত বহু বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স। এছাড়াও এমআরআই সেন্টার ও এমার্জেন্সির সামনে, হাসপাতালের পিছনের ফাঁকা জায়গা এবং সুপার স্পেশালিটি ব্লকের সামনেও দেখা যেত অসংখ্য বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সের ভিড়।
হাসপাতাল কর্মীদের একাংশের দাবি, প্রতিদিন প্রায় তিনশোর বেশি অ্যাম্বুলেন্স রোগী ধরার আশায় হাসপাতাল চত্বরে অপেক্ষা করত। প্রশ্ন উঠছে, যেখানে গোটা শিলিগুড়ি শহরে সরকারি হিসেবে নথিভুক্ত অ্যাম্বুলেন্সের সংখ্যা মাত্র ৩২০, সেখানে এত বিপুল সংখ্যক অ্যাম্বুলেন্স কোথা থেকে আসত?
শিলিগুড়ি মহকুমা মোটরযান বিভাগের এআরটিও বিশ্বজিৎ দাস জানান, রোগী আনা-নেওয়ার জন্য বাইরে থেকেও বহু অ্যাম্বুলেন্স আসে। তবে, উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজের পুরনো অ্যাম্বুলেন্স ব্যবসায়ী রাজেশ আচার্যের বক্তব্য, বাইরের অ্যাম্বুলেন্স সাধারণত রোগী নামিয়ে দ্রুত ফিরে যায়। তারা ঘণ্টার পর ঘণ্টা বা সারাদিন হাসপাতাল চত্বরে অপেক্ষা করে না। ফলে সন্দেহ আরও জোরালো হচ্ছে।
অভিযোগ উঠেছে, বহু ব্যক্তি নিজেদের সাধারণ ব্যক্তিগত গাড়িকে রং করে অ্যাম্বুলেন্সের চেহারা দিয়ে পরিষেবা চালাচ্ছিল। জরুরি পরিষেবার গাড়ি হওয়ায় ট্রাফিক পুলিশও অনেক সময় সেগুলির তল্লাশি করত না। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে একাংশ অবৈধভাবে অ্যাম্বুলেন্স ব্যবসা চালাচ্ছিল বলে অভিযোগ।
যদিও রাজেশ বলেন, বিপুল করের কারণে বহু অ্যাম্বুলেন্স মালিক রেজিস্ট্রেশন করাননি। যে পরিমাণ টাকা লাগে, তার থেকে অনেক কম আয় হয়। এরকম বেশকিছু বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স বাতিল রেজিস্ট্রেশন নিয়েই চলাচল করছে।
সব মিলিয়ে শিলিগুড়িতে অবৈধ অ্যাম্বুলেন্স কারবারের বড় চিত্র সামনে আসছে। এ প্রসঙ্গে এআরটিও বলেন, নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতেই আমাদের দপ্তর পদক্ষেপ করে থাকে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ