Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ভোটের প্রচারে ব্যস্ত প্রধানমন্ত্রী, উপেক্ষিত বিশ্বভারতীর সমাবর্তন

আজ, বৃহস্পতিবার সিউড়িতে  নির্বাচনি জনসভা করবেন দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তাঁর এই সফর ঘিরেই ক্ষোভ ও আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন বিশ্বভারতীর ছাত্র সংগঠনগুলি ও পড়ুয়া ও প্রাক্তনীদের একাংশ।

ভোটের প্রচারে ব্যস্ত প্রধানমন্ত্রী, উপেক্ষিত বিশ্বভারতীর সমাবর্তন
  • ১০ এপ্রিল, ২০২৬ ১৪:০৪
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বোলপুর: আজ, বৃহস্পতিবার সিউড়িতে  নির্বাচনি জনসভা করবেন দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তাঁর এই সফর ঘিরেই ক্ষোভ ও আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন বিশ্বভারতীর ছাত্র সংগঠনগুলি ও পড়ুয়া ও প্রাক্তনীদের একাংশ। তাঁরা বলছেন প্রধানমন্ত্রী বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে আসার সময় পাচ্ছেন না।  অথচ নির্বাচনি জনসভা করতে বীরভূমে আসতে পারছেন। যা খুবই হতাশাজনক। 

Advertisement

প্রসঙ্গত, গত ফেব্রুয়ারি থেকে মার্চ মাসের মধ্যে সমাবর্তন অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল। ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে। যদিও এই বিষয়ে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত জনসংযোগ আধিকারিক অতিগ ঘোষ বলেন, রাজনৈতিক সভা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়। আমাদের সমাবর্তনের প্রস্তুতি নেওয়াই আছে। প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত থাকবেন কি না, তা সম্পূর্ণভাবে তাঁর দপ্তরের উপর নির্ভর করছে। এই নিয়ে অসন্তোষের কোনো কারণ নেই।
বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাবর্তন কবে হবে তা নিয়ে জল্পনা বাড়ছে। শেষবার ২০২৩ সালে অনুষ্ঠান হলেও দীর্ঘদিন স্থায়ী উপাচার্য না থাকায় তা বন্ধ ছিল। নতুন উপাচার্য প্রবীরকুমার ঘোষ দায়িত্ব নেওয়ার পর আবার সমাবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বার্ষিক সমাবর্তনের ঐতিহ্য থাকলেও মাঝে ব্যাঘাত ঘটেছে। বিশেষ করে ২০১৮ সালের সমাবর্তনে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যা বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে রয়েছে।  
প্রশাসনিক অনিশ্চয়তায় সমাবর্তনের ধারা আবার থেমে যায়। চলতি বছরে ফেব্রুয়ারির শেষ বা মার্চের শুরুতে অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নেওয়া হয়। আম্রকুঞ্জে আয়োজনের পরিকল্পনাও ছিল। প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু ও আগের রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসকে আমন্ত্রণ জানানোর কথা শোনা গেলেও মার্চ পেরিয়ে এপ্রিল চললেও এখনো দিন ঘোষণা হয়নি। এরই মধ্যে রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন হবে। ফলে সমাবর্তন অনুষ্ঠান কবে হবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এখন সমাবর্তন কবে হবে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন বিশ্বভারতী ছাত্র সংগঠনগুলি।
তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সভাপতি সৌমিক আচার্য বলেন, দেশের প্রধানমন্ত্রী আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য হলেও বহু বছর সমাবর্তনে আসেননি। কয়েক মাস আগে থেকেই তাঁর আসার কথা শোনা গেলেও তিনি আসেননি। আমাদের মনে হয়, ছাত্রছাত্রীদের প্রতিবাদের আশঙ্কাতেই তিনি আসছেন না। আগে যারা আচার্য ছিলেন তাঁরা সমাবর্তনে উপস্থিত থেকেছেন। কিন্তু বর্তমান আচার্য নরেন্দ্র মোদীর কাছে নির্বাচনী প্রচারই বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। 
এসএফআইয়ের পক্ষে সৌভিক দাস বক্সি বলেন, বিশ্বভারতীর ঐতিহ্যবাহী সমাবর্তনের ইতিহাস ও সংস্কৃতি এই আচার্য বোঝেন না। যদি বুঝতেন তাহলে এই বিশ্ববিদ্যালয়কে আলাদাভাবে গুরুত্ব দিতেন। প্রতিবছর নিয়ম করে সমাবর্তনে কেন একটা দিনের জন্য উপস্থিত থাকতে পারেন না তিনি? সমাবর্তন না হলে পড়ুয়াদের শংসাপত্র নিয়ে নানা সমস্যায় পড়তে হয়। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উত্তীর্ণ ছাত্র সুদীপ্ত ঘোষ, ঐশ্বর্য মুখোপাধ্যায়রা বলেন, সমাবর্তনের জন্য আমরা অপেক্ষা করেছিলাম। বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে পাঠানো গুগল ফর্ম ফিলআপ করে উপস্থিতির কথা জানিয়েছিলাম। এপ্রিল মাস হয়ে গেল এই বছরে আর কবে হবে। আমাদের আচার্য যদি একদিন সমাবর্তন অনুষ্ঠানে আসতেন আমরা খুব খুশি হতাম।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ