সংবাদদাতা, জঙ্গিপুর: বন্ধুকে নৃশংসভাবে খুন করে ঝাড়খণ্ড সীমানায় গা ঢাকা দিয়েও শেষরক্ষা হল না। মাত্র আট ঘণ্টার মধ্যেই পুলিশের জালে ধরা পড়ল মূল অভিযুক্ত। শুক্রবার রাতে ঝাড়খণ্ড সীমানায় চাঁদপুর এলাকা থেকে অভিযুক্ত যুবককে গ্রেপ্তার করে সামশেরগঞ্জ থানার পুলিশ। ধৃতের নাম রহিম শেখ। বাড়ি স্থানীয় দুর্গাপুর গ্রামে। সে এলাকায় সমাজবিরোধী হিসাবে পরিচিত এবং এলাকায় নিয়মিত জুয়ার আসর চালাত। শনিবার সকালে ধৃতকে জঙ্গিপুর মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক পাঁচদিনের পুলিশি হেপাজতের নির্দেশ দেন। খুনে ব্যবহৃত অস্ত্রটির খোঁজে পুলিশ তল্লাশি চালাচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, খুনের প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখতে ধৃতকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করার প্রয়োজন রয়েছে। তাছাড়া খুনে ব্যবহৃত মূল অস্ত্রটি এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। তা উদ্ধারের চেষ্টা করা হবে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত শুক্রবার দুপুরে সামশেরগঞ্জের দুর্গাপুর গ্রামে সাদেক শেখ নামে এক যুবককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে খুন করা হয়। শুক্রবার দুপুরে দুই যুবকের সঙ্গে রহিমের ঝামেলা চলছিল। সেই সময় সাদেক মধ্যস্থতা করার চেষ্টা করে। তাদের ঝামেলায় সাদেকের এই নাক গলানো একেবারেই পছন্দ হয়নি রহিমের। এনিয়ে দু’জনের মধ্যে তীব্র বচসা শুরু হয়। সেই সময় উত্তেজিত হয়ে রহিম ঘর থেকে একটি ধারালো অস্ত্র এনে সাদেকের উপর চড়াও হয় এবং এলোপাথাড়ি কোপাতে থাকে। সাদেক রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এরপরই বেগতিক বুঝে রহিম এলাকা ছেড়ে চম্পট দেয়। ঘটনার তদন্তে নেমে সামশেরগঞ্জ থানার পুলিশ জানতে পারে, অভিযুক্ত এলাকা ছেড়ে ভিন রাজ্যে পালানোর ছক কষছে। সেই সূত্র ধরেই ঝাড়খণ্ড সীমানায় ওত পেতে বসে থাকে পুলিশ বাহিনী। অবশেষে রাতেই তাকে পাকড়াও করা হয়।
ওইদিন কী ঘটেছিল, তা জানতে ধৃতকে নিয়ে শীঘ্রই ঘটনার পুনর্নির্মাণ করবে পুলিশ। তার আগে খুনে ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করতে চাইছে পুলিশ।