Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দোলের আগে অগ্নিমূল্য বাজার, ভোগের আয়োজন করতে সমস্যায় মন্দির কর্তৃপক্ষ

দোলের আগে অগ্নিমূল্য বাজার, ভোগের আয়োজন করতে সমস্যায় মন্দির কর্তৃপক্ষ
  • ১৩ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, নবদ্বীপ: নবদ্বীপ বাজারে সব্জির দাম অগ্নিমূল্য। দোলের সময় মঠ মন্দিরের ভোগ প্রসাদের আয়োজনে তার প্রভাব পড়ছে। বাজার থেকে সব্জি কিনে ভোগের আয়োজন করতে নাজেহাল মঠ মন্দির কর্তৃপক্ষ। দোল উৎসবে অংশ নেওয়া অধিকাংশ ভক্তই মঠ মন্দিরে তিনবেলা ভোগ প্রসাদ পান। আগামীকাল, ১৪ মার্চ দোল উৎসব তথা গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর আবির্ভাব তিথি। মঠ মন্দিরগুলিতে প্রতিদিনই দেবতার উদ্দেশ্যে ভোগ নিবেদন করতে হয়। তাতে যেমন চাল লাগে তেমনি লাগে শাকসব্জিও। কিন্তু কয়েকদিন ধরেই আলু, উচ্ছে, বেগুন, শিম, ঝিঙে, মটরশুটি, বিম, টমেটো, ফুলকপি, শাকসব্জি থেকে ছানা, পনির সবকিছুর দাম বেড়ে গিয়েছে। মঠ মন্দির কর্তৃপক্ষের দাবি, বাজারের দাম নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে প্রশাসনের নজর দেওয়া উচিত। জানা গিয়েছে, আলু ১৩ থেকে বেড়ে হয়েছে ১৬ টাকা কেজি, বেগুনের দাম ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি। উচ্ছের দাম ২৫-৩০ টাকা থেকে বেড়ে পাইকারি হারেই ৪৫ থেকে ৫০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। শিম কয়েকদিন আগেও ১০-১২ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছিল, এখন সেই শিম খুচরো ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পেঁপে ২০-২৫ টাকা বেড়ে এখন ৪০-৫০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। বিম ২০ টাকা থেকে বেড়ে এখন ৫০-৬০ টাকা কেজি খুচরো বিক্রি হচ্ছে। মটরশুটি কয়েকদিন আগে ২০ টাকা কেজি বিক্রি হলেও এখন বেড়ে তা ৬০ টাকা কেজি দরে খুচরো বিক্রি হচ্ছে। লাউ ৮ থেকে ৯ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও এখন ২৫-৩০ টাকা কেজি। আর ফুলকপি বেড়ে এখন প্রতি পিস ২৫ টাকা। তবে লঙ্কা, পটল, সজনে ডাঁটার দামের তেমন হেরফের হয়নি। নবদ্বীপ রাজার বাজারের সব্জি বিক্রেতা উৎপল সরকার বলেন, সব্জির দাম বেড়েছে। কেন না মঠ মন্দিরগুলোতে উৎসব শুরু হয়ে গিয়েছে। তবে যেসব সব্জি নতুন উঠছে যেমন পটল, সজনে ডাঁটা সেইসব সব্জির দাম আগে তুলনায় সামান্য কম। নবদ্বীপ গৌরাঙ্গ জন্মস্থান মন্দিরের অধ্যক্ষ অদ্বৈতদাস বাবাজি মহারাজ বলেন, নবদ্বীপ সংলগ্ন পারুলিয়া, মুকুন্দপুর , ভালুকা পাইকারি বাজার থেকে এক সঙ্গে প্রচুর পরিমাণ সব্জি আনা হয়েছে বলে কিছুটা কম দামে পাওয়া গিয়েছে। স্থানীয় বাজারগুলিতে দাম অনেকটাই বেশি। আমাদের মন্দিরে প্রতিদিন পাঁচ থেকে সাতশো ভক্তের জন্য দিনে ও রাতে প্রসাদের আয়োজন করতে হয়। স্থানীয় গঙ্গানগরের বাসিন্দা পরিমল দেবনাথ বলেন, এই পূর্ণিমার সময়ে বাড়িতে একটু ভোগরাগের ব্যবস্থা করতে হয়। সব্জির দামে সমস্যা তো হচ্ছেই।

Advertisement

নবদ্বীপ গৌড়ীয় বৈষ্ণব সমাজের মহাসচিব প্রভুপাদ কিশোরকৃষ্ণ গোস্বামী বলেন, নবদ্বীপে প্রায় দেড়শোর মত মঠ মন্দির রয়েছে। এমন কোনও মন্দির নেই, যেখানে অন্তত ১০০ জন লোক নেই। নবদ্বীপ পুরসভার চেয়ারম্যান বিমানকৃষ্ণ সাহা বলেন, কেন্দ্রীয় সরকারের অর্থনীতির কারণে আজ প্রতিটা জিনিসের দামই আকাশছোঁয়া। সেই অনুপাতে মানুষের ক্রয় ক্ষমতা বাড়েনি। পুরসভার পক্ষ থেকে ব্যবসায়ীদের কাছে আবেদন রাখা হয়েছে, কোনও ভাবেই 
জিনিস মজুত করে দ্রব্যমূল্য বাড়ানো যাবে না। -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ