Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬

মূল্যবৃদ্ধি চরমে, দাম বাড়বে আরও, ব্যবস্থা নিক কেন্দ্র রিপোর্ট রিজার্ভ ব্যাংকের

মূল্যবৃদ্ধি শুরু হয়েছে। ফেব্রুয়ারি মাসেই সেই আভাস মিলেছে। পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ সম্পূর্ণ অনিশ্চয়তার সৃষ্টি করেছে

মূল্যবৃদ্ধি চরমে, দাম বাড়বে আরও, ব্যবস্থা নিক কেন্দ্র রিপোর্ট রিজার্ভ ব্যাংকের
  • ২৫ মার্চ, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: মূল্যবৃদ্ধি শুরু হয়েছে। ফেব্রুয়ারি মাসেই সেই আভাস মিলেছে। পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ সম্পূর্ণ অনিশ্চয়তার সৃষ্টি করেছে। তাই পরিস্থিতি কোনদিকে যাচ্ছে, সেটা এখনও স্পষ্ট নয়। আরও কিছুদিন পর বোঝা যাবে যুদ্ধের জেরে অর্থনীতিতে কতটা বিরূপ প্রভাব পড়ছে। রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার মার্চ মাসের বুলেটিনে খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে সবথেকে বেশি উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের জেরে কোন সেক্টরে কতটা বিরূপ প্রতিক্রিয়া পড়তে চলেছে, সেটি নিয়ে খোদ রিজার্ভ ব্যাংকই অন্ধকারে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, সরকারকে এখন থেকেই আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। আশঙ্কা নয়, ইতিমধ্যেই খাদ্যদ্রব্যে মূল্য ঊর্ধ্বমুখী। 

Advertisement

গ্রামীণ এলাকায় খাদ্য  মূল্যবৃদ্ধির হার শহরের তুলনায় বেশি। রিজার্ভ ব্যাংক বলেছে, মূল্যবৃদ্ধি, বাণিজ্যের ঘাটতি, অশোধিত তেলের জোগান, এলপিজি এবং অভ্যন্তরীণ উৎপাদন সেক্টর কোনওটি সম্পর্কেই এখন পূর্বাভাস করা যাচ্ছে না। জানুয়ারি মাসে যে মূল্যবৃদ্ধির হার ছিল ২.৭ শতাংশ, সেটিই এক ধাক্কায় ফেব্রুয়ারি মাসে হয়েছে ৩.৪ শতাংশ। ফেব্রুয়ারিতে কিন্তু যুদ্ধ শুরু হয়নি। ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা ও ইজরায়েলের মিলিত আক্রমণ শুরু হয় এবং পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ দামামা বেজে যায়। প্রাথমিকভাবে আমেরিকা ও ইজরায়েলের হুংকারে মনে করা হচ্ছিল, এই যৌথ আক্রমণে ইরানকে আত্মসমর্পণ করানো কয়েকদিনের ব্যাপার। কিন্তু একমাস হতে চলেছে ইরান আত্মসমর্পণ করেনি। বরং বিপুল ক্ষতি করেছে সামগ্রিকভাবে আমেরিকা, ইজরায়েল ও তাদের বন্ধুরাষ্ট্রগুলির। স্বয়ং ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই পাঁচদিনের যুদ্ধ বিরতির প্রস্তাব ঘোষণা করে আমেরিকা যে ব্যাকফুটে, সেটা আন্তর্জাতিক মহলের কাছে প্রকট করে দিয়েছেন। আর এই সংঘাতে ভারতের সবথেকে বড় ক্ষতি হচ্ছে জ্বালানি ও মুদ্রায়। রিজার্ভ ব্যাংকই তাদের বুলেটিনে বলেছে বিদেশি আর্থিক সংস্থা লগ্নি করা অর্থ প্রত্যাহার করে নিচ্ছে। ফলে একদিকে ভারতের শেয়ারবাজারে ধস। আবার অন্যদিকে টাকার পতন প্রবল চিন্তার কারণ। এসবের মধ্যেই সবথেকে বেশি যে পণ্যের দাম বাড়ছে 
সেটি হল খাদ্য ও পানীয়। রিজার্ভ ব্যাংকের অবশ্য দাবি কিছু সবজির দাম এখনও আয়ত্তের মধ্যে রয়েছে। ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত গ্রামীণ ভারতের ক্রয় প্রবণতা কমবেশি একই থেকেছে। কিন্তু সেটি যে বাড়ছে এমন নয়। 
রিজার্ভ ব্যাংকের এই বুলেটিনের আভাস থেকে সংশয় তৈরি হচ্ছে, এপ্রিল মাসের প্রথম সপ্তাহে তিনদিনের জন্য যখন রিজার্ভ ব্যাংকের নীতি নির্ধাণ কমিটির বৈঠক হবে, তখন কি তাহলে রেপো রেট আবার বাড়ানো হবে? কারণ রিজার্ভ ব্যাংকই বলেছে, যুদ্ধ অব্যাহত থাকলে সব সেক্টরেই সঙ্কট বাড়বে এবং অর্থনীতি সম্পর্কে নিশ্চিত কোনও পূর্বাভাস দেওয়া যাবে না। বুলেটিনে বলা হয়েছে, আগামী মাসে যখন আরও কিছু ডেটা আসবে, তখন পরিস্থিতি কতটা উদ্বেগজনক, সেটা আরও স্পষ্ট করে করে বলা যাবে। যদিও এখনও পর্যন্ত যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব সামলাতে সরকার যথেষ্ট চেষ্টা করছে এবং বেশ কিছু পদক্ষেপনিয়েছে বলে রিজার্ভ ব্যাংক মনে করছে। তবে সরকারকে সতর্কতামূলক আরও ব্যবস্থা এখনই নিতে হবে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ