নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: উগ্র হিন্দুত্ব বনাম নরম হিন্দুত্ব। আসন্ন নির্বাচনী যুদ্ধে বিজেপির বিরুদ্ধে দুই অস্ত্রে ময়দানে নেমেছেন অরবিন্দ কেজরিওয়াল। আর্থিক অনুদানের সঙ্গে হিন্দুত্বের মিশ্রণ। বস্তুত দক্ষিণ ভারতের রাজনীতি খয়রাতি প্রবণতার আবিষ্কারক হলেও কেজরিওয়াল ২০১৩ সাল থেকে এই প্রবণতাকে হাতিয়ার করছেন। তিনি দিল্লিতে একটি বিশেষ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ ফ্রি করেছেন। জল ফ্রি করেছেন (দিল্লিতে জল সরকারিভাবেই কিনতে হয়, অর্থাৎ জল বিল আসে নিয়মিত)। বাসে মহিলাদের যাতায়াত ফ্রি করেছেন। ছাত্রছাত্রীদের সরকারি স্কুলে সবকিছুই ফ্রি। বৃত্তির টাকা দেওয়া হয়। এবার আবার ভোটের প্রাক্কালে মহিলা সম্মান যোজনার ঘোষণা করেছেন। ক্ষমতাসীন হলে প্রত্যেক মহিলা পাবেন মাসে ২১০০ টাকা করে। এবার বছরের শেষ লগ্নে এসে কেজরিওয়াল ঘোষণা করেছেন, দিল্লির মন্দিরের পুরোহিত এবং গুরুদ্বারর গ্রন্থিরা পাবেন মাসে ১৮ হাজার টাকা করে অনুদান। স্বাভবিকভাবেই বিজেপি এই সিদ্ধান্তে ব্যাকফুটে। কারণ ভোটের প্রচারে এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করা হলে পাল্টা আম আদমি পার্টি প্রচার করবে, বিজেপি হিন্দু ও শিখ বিরোধী। আর মন্দির ও গ্রন্থিদের অনুদানের ঘোষণা করে কেজরিওয়াল নিজের হিন্দু ও শিখভক্তিও প্রকাশ করলেন। কারণ দিল্লিতে এই দুই ধর্মসম্প্রদায় সংখ্যাগরিষ্ঠ। যদিও বিজেপি নীরবে বসে থেকে ভোটের ফায়দা কেজরিওয়ালকে তুলতে দিতে নারাজ।
Advertisement
এদিনই দিল্লির বিজেপি নেতা পরবেশ ভার্মা, মনোজ তিওয়ারিরা বলেছেন, এটা হল কেজরিওয়ালের আর একটা জুমলা। এই টাকা দেওয়ার মতো আর্থিক শক্তিই নেই দিল্লি সরকারের। সরকারের আমলারাই বলছে একথা। বিজেপি নেতাদের দাবি, কেজরিওয়াল যদি সত্যিই এই প্রকল্প চালু করতে ইচ্ছুক হন, তাহলে আগামী মাস থেকেই শুরু করে দিন। সেটা না করে তিনি শর্ত রাখছেন যে, ক্ষমতাসীন হলে তবেই এই প্রকল্প চালু হবে। অথচ রেজিস্ট্রেশন এখন থেকে শুরু হয়ে যাচ্ছে। কেজরিওয়াল নিজেই জানেন, তিনি ক্ষমতায় আর ফিরবেন না। তাই মানুষকে অযথা বিভ্রান্ত করে রেজিস্ট্রেশন করাচ্ছেন। মুখ্যমন্ত্রী আতিশী এবং এমপি সঞ্জয় সিং জবাবে বলেছেন, বিজেপি যে এবারও দিল্লিতে জিততে পারবে না, সেটা তারা ১০০ শতাংশ বুঝে গিয়েছে। তাই যে প্রকল্প নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রবল আগ্রহ তৈরি হয়েছে, সেটার বিরোধিতায় নেমেছে নরেন্দ্র মোদির দল।
এদিকে যেদিন পুরোহিতদের ১৮ হাজার টাকা অনুদানের ঘোষণা করা হয়েছে, সেদিনই দুপুর থেকে দিল্লির ইমাম সংগঠনের তরফে প্রতিবাদে রাস্তায় নামা হয়েছে। তাদের দাবি, আমাদের ১৮ হাজার টাকা করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত আগেই হয়েছিল। অথচ বিগত ১৭ মাস ধরে আমরা সেই অনুদান পাইনি। ওয়াকফ বোর্ড বলছে, তাদের দিল্লি সরকার ১৭ মাস ধরে টাকা দেয়নি।
এদিকে যেদিন পুরোহিতদের ১৮ হাজার টাকা অনুদানের ঘোষণা করা হয়েছে, সেদিনই দুপুর থেকে দিল্লির ইমাম সংগঠনের তরফে প্রতিবাদে রাস্তায় নামা হয়েছে। তাদের দাবি, আমাদের ১৮ হাজার টাকা করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত আগেই হয়েছিল। অথচ বিগত ১৭ মাস ধরে আমরা সেই অনুদান পাইনি। ওয়াকফ বোর্ড বলছে, তাদের দিল্লি সরকার ১৭ মাস ধরে টাকা দেয়নি।



