Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সিএএ এখন বিজেপির গলার কাঁটা! সীমান্তের মতুয়া অধ্যুষিত কেন্দ্রে নাম বাদে চাপ বাড়ছে পদ্ম শিবিরে

বিগত কয়েকটি নির্বাচনে সিএএ নিয়ে মতুয়া অধ্যুষিত এলাকায় গালভার প্রতিশ্রুতিতেই এতদিন বাজিমাত করে এসেছে বিজেপি।

সিএএ এখন বিজেপির গলার কাঁটা! সীমান্তের মতুয়া অধ্যুষিত কেন্দ্রে নাম বাদে চাপ বাড়ছে পদ্ম শিবিরে
  • ২৭ মার্চ, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

অগ্নিভ ভৌমিক, কৃষ্ণগঞ্জ: বিগত কয়েকটি নির্বাচনে সিএএ নিয়ে মতুয়া অধ্যুষিত এলাকায় গালভার প্রতিশ্রুতিতেই এতদিন বাজিমাত করে এসেছে বিজেপি। নদীয়া জেলার সীমান্তবর্তী বিধানসভা কৃষ্ণগঞ্জ তার ব্যাতিক্রম নয়। কিন্তু, এসআইআরের শেষ পর্যায়ে এসে নাগরিকত্ব শংসাপত্র প্রদানের বিজেপির ভাঁওতাবাজি ধরা পড়ে গিয়েছে বলে মত রাজনৈতিক মহলের। নির্বাচনের প্রাক্কালে নাগরিকত্ব শংসাপত্র দেওয়ার যে ঢাকঢোল পেটানো‌ হয়েছিল, তা সময়ের সঙ্গে ফিকে হয়েছে। প্রতারণার খোঁচায় বিদ্ধ মতুয়াদের মধ্যেও ক্ষোভের সঞ্চার হচ্ছে। ফলে নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে একসময় মতুয়া এলাকায় নাগরিকত্ব দেওয়ার যে ‘টোপ’ কে হাতিয়ার করেছিল বিজেপি, এবার ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে তা গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমনটাই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। ফলে নির্বাচনে মুখে চাপ বাড়ছে পদ্ম শিবিরে।

Advertisement

এনিয়ে কৃষ্ণগঞ্জের বিধানসভার বিজেপি প্রার্থী সুকান্ত বিশ্বাসকে ফোন করলে তিনি দায় এড়িয়ে যান। তিনি বলেন, এবিষয়ে দলের মুখপাত্রের সঙ্গে কথা বলুন। বুঝতেই পারছেন কেন বলছি। আর আমার যেটা বলার সেটা বুথে গিয়ে বলব। এনিয়ে আমি কিছু বলতে চাই না।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ লাগোয়া এই কৃষ্ণগঞ্জ বিধানসভায় মতুয়া সম্প্রদায় বহু মানুষের বাস। বিশেষ করে কৃষ্ণগঞ্জ বিধানসভার শিবনিবাস, তারকনগর, দক্ষিণপাড়া, বগুলা এলাকায় মতুয়া ভোটের জোরেই বিগত কয়েকটি নির্বাচনে পদ্মফুল ফুটেছিল। ভোট চাওয়ার সময় বিজেপি নেতারা সাধারণ মানুষকে নিশ্চিন্ত করেছিলেন, পদ্ম ফুটলেই নাগরিকত্ব মিলবে। কিন্তু, ছাব্বিশের নির্বাচনের মুখে দেখা যাচ্ছে, তাঁরা নাগরিকত্ব এবং ভোটাধিকার পাবেন কি না তা নিয়ে অনিশ্চিয়তায় রয়েছেন।
কৃষ্ণগঞ্জের বাসিন্দা গণেশচন্দ্র অধিকারী বলেন, আমার কাছে যা যা নথিপত্র ছিল সবকিছুই দিয়েছিলাম। তাও ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়েছে। গতবছর দুর্গাপুজোর আগে আমি সিএএ’তে আবেদন করেছিলাম। শুনানিও হয়েছিল। কিন্তু, এখনো শংসাপত্র পাইনি। আমাদেরই কিই বা করার আছে? 
সত্তরোর্ধ্ব সরেন পাল বলেন, ‘বহুদিন আগে আমি এসেছিলাম। এসআইআরে নথিপত্র জমা করেছিলাম। আমার ও স্ত্রীর নাম বাদ গিয়েছে। এবার মতুয়া অধ্যুষিত বিধানসভায় উল্টো স্রোত বইছে।  সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় কৃষ্ণগঞ্জ বিধানসভার সমস্ত বুথের তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। যতটুকু প্রকাশিত হয়েছে তাতে দেখা যাচ্ছে, ১৯টি বুথের প্রায় ৫০০ জন ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। যার মধ্যে মতুয়া অধ্যুষিত হাঁসখালির দক্ষিণপাড়া-২ পঞ্চায়েতের ১৪১ নম্বর বুথে মতুয়াপাড়া হাজারিনগরে ১৬৪ জনের নাম বাদ যাওয়ার বিষয়টি আগেই সামনে এসেছিল। বৃহস্পতিবার সকালে জানা যায়,  ওই পঞ্চায়েতেরই ১৩৭ নম্বর বুথে ২৩ জন, ১৩৮ নম্বর বুথে ১৫ জন। এখানে মোট ৮টি বুথে সাড়ে তিনশোর বেশি নাম বাদ পড়েছে বলে জানা গিয়েছে। এছাড়াও কৃষ্ণগঞ্জ ব্লকে ৬৭ নম্বর বুথে ২২ জন, ৬৩ নম্বর বুথে ১৭ জন, ৬৯ নম্বর বুথে ১৪ জনের নাম বাদ গিয়েছে। 
এসআইআরে হয়রানি এবং সিএএর গাজরের বিষয়টি বুঝতে মানুষ এখন মতুয়ারা এখন বিজেপির প্রতি ক্ষুব্ধ। অনেক জায়গাতেই দল বদল হচ্ছে। গত বুধবার কৃষ্ণগঞ্জ ব্লকের জয়ঘাটা অঞ্চলে ভগবানপুর বুথ থেকে ২৫ জন বিজেপি কর্মী তৃণমূল কংগ্রেস যোগদান করেন বলে ঘাসফুল শিবিরের দাবি। কৃষ্ণগঞ্জের ব্লক সভাপতি সমীর বিশ্বাস বলেন, বিজেপির উপর সাধারণ মানুষ এবং তাদের দলের কর্মীরা বীতশ্রদ্ধ হয়ে পড়েছেন। তাই উন্নয়নে শামিল হতেই আমাদের দলে যোগদান করেছেন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ