সংবাদদাতা, খড়্গপুর: ৩৪টি হিন্দুমন্দির রক্ষা করেছিলেন। পাথরা পুরাতত্ত্ব সংরক্ষণ কমিটি গড়ে আজও বুক দিয়ে আগলে রেখেছেন মন্দিরগুলি। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার জন্য ১৯৯৪ সালে রাষ্ট্রপতির হাত থেকে পেয়েছেন ‘কবীর পুরস্কার’। পশ্চিম মেদিনীপুরের পাথরার সেই ইয়াসিন পাঠানের ছেলে এবং দুই মেয়ের নামই রয়েছে ‘বিচারাধীন’ তালিকায়। সমস্ত নথি জমা দেওয়ার পরেও নাম কেন বিচারাধীন তালিকায়? এই প্রশ্ন তুলে ইয়াসিন সাহেব জানিয়েছেন, এই সমস্যার সমাধান না হলে তিনি এবং তাঁর স্ত্রী সহ পরিবারের সকলেই এবার ভোট দান থেকে বিরত থাকবেন।
খড়্গপুর গ্রামীণ বিধানসভার অধীন পাথরার বাসিন্দা তথা মন্দিরময় পাথরার প্রাণপুরুষ ইয়াসিন পাঠান বুধবার বলেন, আমি ১৯৭৮ সাল থেকে ভোট দিয়ে আসছি। ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় আমার এবং আমার স্ত্রীর নাম রয়েছে। আমার ছেলের তসবীর পাঠান বাদশার বয়স ৪০ বছর।
দুই মেয়ে তানিয়া পরভিন ও তামান্না পারভিনের বয়স যথাক্রমে ৩৭ ও ৩৪ বছর। তারা বেশ কয়েকবার ভোট দিয়েছে। ২০২৬-এর প্রথম ভোটার তালিকায় বিচারাধীন ছিল ওরা। মঙ্গলবারের তালিকাতেও বিচারাধীন রয়েছে ওরা। অথচ, একাধিকবার সমস্ত নথিপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। এই অবস্থায় আমরা কী করব বুঝতে পারছি না। ছেলে-মেয়েদের ভোটের অধিকার যদি না থাকে, আমি এবং আমার পরিবারের কেউই এবার ভোটাধিকার প্রয়োগ করব না। ভোট বয়কট করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলাম।’ বিজেপির জেলা সহ-সভাপতি শঙ্কর গুছাইত বলেন, ভরসা রাখুন। নির্বাচন কমিশন নিশ্চয়ই যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। খড়্গপুর গ্রামীণের তৃণমূল বিধায়ক দীনেন রায় বলেন, নির্বাচন কমিশন নির্যাতন কমিশনে পরিণত রয়েছে। এসআইআরের নামে সাধারণ মানুষকে চূড়ান্ত হেনস্তা করা হচ্ছে। এই ধরনের প্রহসনকে আমরা ধিক্কার জানাই। ইয়াসিন পাঠান।