Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ভুয়ো শিক্ষকদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের প্রস্তুতি শুরু, হাইকোর্টের নির্দেশে তোলপাড় পূর্ব মেদিনীপুর

ভুয়ো শিক্ষকদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের প্রস্তুতি শুরু, হাইকোর্টের নির্দেশে তোলপাড় পূর্ব মেদিনীপুর
  • ১৯ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: ভুয়ো শিক্ষক নিয়োগ মামলায় তমলুক ব্লকের খামারচক হাইস্কুলের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অশোককুমার হাটুয়ার ১০ দিনের সিআইডি হেফাজত হল। সোমবার দিনভর জিজ্ঞাসাবাদের পর সন্ধ্যায় তাঁকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি। এর আগেও ভুয়ো শিক্ষক নিয়োগ মামলায় তিনি গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। তমলুকের ওই হাইস্কুলে অশোকবাবু প্রধান শিক্ষক থাকাকালীন দু’জন ভুয়ো শিক্ষক নিযুক্ত হন। বেআইনিভাবে তাঁরা রেগুলার শিক্ষক হিসেবে মাইনে পেতেন। এজন্য সরকারের প্রায় এক কোটি টাকা অপচয় হয়েছে। এই এক কোটি টাকা অভিযুক্তদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে বিক্রির পর সরকারি কোষাগারে ফেরানোর নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্টের বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু। সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত সংক্রান্ত নির্দেশিকা তমলুক থানায় এসে গিয়েছে।

Advertisement

জানা গিয়েছে, তমলুক ব্লকের খামারচক হাইস্কুলের দুই ভুয়ো শিক্ষক শুভেন্দু হাটুয়া ও অয়নকুমার দাস, অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অশোকবাবু এবং প্রাক্তন ডিআই(সেকেন্ডারি) চাপেশ্বর সর্দারের সম্পত্তি  বাজেয়াপ্ত করা হবে। সেই সম্পত্তি বিক্রি করে ভুয়ো শিক্ষকদের দেওয়া মাইনে বাবদ টাকা ফেরানো হবে। পূর্ব মেদিনীপুর জেলার মধ্যে একমাত্র খামারচক হাইস্কুলে একসঙ্গে দু’জন ভুয়ো শিক্ষক নিয়োগ হয়েছিল। এসএসসি পরীক্ষা ছাড়াই তাঁদের নিয়োগ করা হয়েছিল। কয়েকবছর ভলান্টারি সার্ভিস দেওয়ার পরই তাঁরা রেগুলার শিক্ষক হিসেবে স্কুলশিক্ষা দপ্তর থেকে মাইনে পেতেন। দুই ভুয়ো শিক্ষক নিয়োগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল তৎকালীন প্রধান শিক্ষক অশোকবাবুর। 
২০২৩ সালে নভেম্বর মাসে সর্বপ্রথম খামারচক হাইস্কুলে শুভেন্দু হাটুয়ার নামে একজন ভুয়ো শিক্ষক থাকার বিষয়টি ডিআই অফিসের নজরে আসে। কারণ, শিক্ষকদের নথি ভেরিফিকেশন চলাকালীন ওই শিক্ষক কোনও নথি দেখাতে পারেননি। হাইকোর্টের নির্দেশে তৎকালীন ডিআই শুভাশিস মিত্র এফআইআর করেন। ডিসেম্বর মাসে প্রধান শিক্ষক অশোকবাবু এবং প্রাক্তন ডিআই চাপেশ্বরবাবু গ্রেপ্তার হন। ছ’মাসের বেশি সময় জেল খাটার পর দু’জনে জামিন পান। তবে, ভুয়ো শিক্ষক শুভেন্দু হাটুয়া এখনও জেলে আছেন। এবছর জানুয়ারি মাসে আবারও ওই হাইস্কুলে অয়নকুমার দাস নামে আরেক ভুয়ো শিক্ষক থাকার ঘটনা সামনে আসে। এরপর হাইকোর্টের নির্দেশে গত ৬ মার্চ এফআইআর করেন ডিআই(সেকেন্ডারি) পলাশ রায়। ১১ মার্চ সিআইডি অয়নকুমার দাসকে গ্রেপ্তার করে। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে সোমবার ফের অশোকবাবুকে গ্রেপ্তার করা হয়।
জানা গিয়েছে, শুভেন্দুবাবু ২০১৭ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৩ সালের নভেম্বর মাস পর্যন্ত রেগুলার শিক্ষক হিসেবে মাইনে পেয়েছেন। হাইকোর্টের নির্দেশে তাঁর চাকরি বাতিল হয়েছে। অপর ভুয়ো শিক্ষক অয়নবাবু ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত রেগুলার শিক্ষক হিসেবে মাইনে পেয়েছেন। জোড়া ভুয়ো শিক্ষকের পিছনে রাজ্য সরকারের মাই঩নে বাবদ এক কোটি টাকা খরচ হয়েছে। সেই টাকা দুই ভুয়ো শিক্ষক, ধৃত অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এবং ডিআই চাপেশ্বরবাবুর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে বিক্রির পর ফেরানো হবে।   
স্কুল সার্ভিস কমিশনের পরীক্ষায় না বসেই দু’জনে রেগুলার শিক্ষক হিসেবে মাইনে পেতেন। তাঁদের নামে অ্যাপ্রুভাল স্কুলশিক্ষা দপ্তরে পৌঁছেছিল। এসএসসি-র সুপারিশপত্র ছাড়াই কীভাবে তাঁদের অ্যাপ্রুভ্যাল মঞ্জুর হল এনিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এই ঘটনায় পূর্ব মেদিনীপুর ডিআই অফিসের একজন মাথা আছে বলে তদন্তকারী অফিসারদের ধারণা। সেই মাথার খোঁজ চলছে। এছাড়াও ধৃত ভুয়ো শিক্ষক অয়নবাবুর অ্যাপ্রুভাল চিঠিতে তৎকালীন ডিআই(সেকেন্ডারি) আমিনুল আহসানের সই আছে। সেই সই নকল বলে আমিনুল সাহেব জানিয়েছেন। ওই স্বাক্ষর পরীক্ষা করতে পাঠানো হচ্ছে বলে তদন্তকারী অফিসাররা জানিয়েছেন।

সম্পর্কিত সংবাদ