সুব্রত ধর, শিলিগুড়ি: শিলিগুড়িতে রথযাত্রাতেই সূচনা হয় বাঙালির মেগা উৎসব দুর্গাপুজোর প্রস্তুতি। আজ, শুক্রবার কোথাও খুঁটিপুজো, আবার কোথাও কাঠামোপুজো হবে। এরপরই পুজো কমিটির সদস্য, মৃৎশিল্পী ও মণ্ডপ শিল্পীদের ব্যস্ততা তুঙ্গে উঠবে। তবে টক-মিষ্টি ফল লটকার আমদানি কমেছে এবার। এনিয়ে হতাশ রথযাত্রার ভক্তরা।
শিলিগুড়িতে রথযাত্রা থেকেই ক্লাবে ক্লাবে শুরু হয় বাঙালির মেগা উৎসব দুর্গাপুজোর প্রস্তুতি। শহরে বিগ বাজেটের দুর্গাপুজো কমিটিগুলির মধ্যে হায়দরপাড়া স্পোটিং ক্লাব একটি। আজ, রথযাত্রার সকালে তারা খুঁটিপুজো করে দুর্গাপুজোর মণ্ডপ তৈরির কাজে হাত দেবে। ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নিমাই পাল বলেন, এবার এখানকার দুর্গাপুজো ৫৬তম বর্ষে পড়বে। ক্লাবের পাশের জমিতে খুঁটিপুজো করে মণ্ডপ নির্মাণের কাজে হাত দেওয়া হবে। পুরোহিত দিয়ে মন্ত্রোচ্চারণ করে, ঢাক বাজিয়ে ওই পুজো করা হবে। ক্লাবের সদস্যরা ছাড়াও এলাকার মহিলারা শামিল হবেন।
শহরের আরএকটি বিগ বাজেরে পুজো কমিটি সুব্রত সঙ্ঘ। তারাও খুঁটিপুজোর মধ্য দিয়ে দুর্গাপুজোর মণ্ডপ নির্মাণ শুরু করবে আজ। ক্লাবের সভাপতি ভাস্কর বিশ্বাস বলেন, এবার পুজো ৬৮তম বর্ষে পড়বে। দুর্গাপুজোর প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছি। এবার খুঁটিপুজো করে আনুষ্ঠানিভাবে মণ্ডপ নির্মাণের কাজ শুরু হবে।
শুধু এই দু’টি ক্লাব নয়, শহরের পূর্ব, পশ্চিম, উত্তর ও দক্ষিণ সব প্রান্তের পুজো কমিটিগুলির মধ্যেও ইদানিং খুঁটিপুজোর চল শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে কিছু ক্লাব পুজোর ব্যানার, ফ্লেক্স ঝুলিয়েছে। প্রস্তুতি মিটিং করে প্রতিমা, মণ্ডপ ও আলোকসজ্জার বায়নাও করে দিয়েছে। তবে কোনও পুজো কমিটিই এখনই মণ্ডপ, প্রতিমা ও আলোকসজ্জার থিম প্রকাশ করতে নারাজ। সকলেরই বক্তব্য, এখন পুজো নিয়েও প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। প্রতিটি পুজো কমিটি একে অপরকে টেক্কা দিতে প্রস্তুতি নিচ্ছে। পুজোতে থাকছে চমক। তাই তারা আগেভাগে থিম প্রকাশ করতে নারাজ।
মৃৎশিল্পীরাও দুর্গা প্রতিমা তৈরি করার প্রস্তুতি শুরু করেছেন। কাঠামো তৈরি, খড় কাটা ও মাটি ছানার কাজ করছেন তাঁরা। কুমোরপাড়ার এক মৃৎশিল্পী বলেন, কাঠামো পুজো করতে কয়েকটি বাড়ি ও মন্দিরের পুজো কমিটি যোগাযোগ করেছে। সেই সঙ্গে রথযাত্রা থেকেই প্রতিমার বায়না আসতে শুরু করবে। এরপরই প্রতিমা বানানোয় আরও জোর দেওয়া হবে। কুমোরটুলির শিল্পী শ্যাম পাল বলেন, এবার ৩০ থেকে ৩৫টি প্রতিমা তৈরি করব। তার প্রস্তুতি শুরু করেছি।
তবে আবহাওয়া নিয়ে সকলেরই কপালে পড়েছে চিন্তারভাঁজ। পুজোর উদ্যোক্তা থেকে মৃৎশিল্পী সকলেই বলেন, রাতে বৃষ্টি হচ্ছে। রথযাত্রার পর বৃষ্টির তীব্রতা বাড়লে সমস্যায় পড়তে হবে। পুজোর প্রস্তুতিতে কিছুটা সমস্যা হতে পারে। কারণ এবার সেপ্টেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহেই পুজো।
এদিকে, রথযাত্রার অন্যতম আকর্ষণ ‘লটকা’। জায়গা বিশেষে এই ফলের নাম একাধিক। কোথাও লটকা, কোথাও লটকন, আবার কোথাও নটকোনা। এই ফলের স্বাদ টাক, মিষ্টি। বুনো গাছে জন্মালেও রথযাত্রায় এই ফলের কদর অস্বাভাবিক। ফল বিক্রেতা ও ভক্তদের বক্তব্য, শিলিগুড়ি সহ উত্তরবঙ্গে রথযাত্রা উৎসবে লটকা ফলের কদর বাড়ে। চিনি, কলা, বাতাসার পাশাপাশি হরিরলুটের মতো লটকা বিলি করা হয়। এবার বাজারে এই ফলের জোগান অনেকটাই কম। কারণ এখানে বাণিজ্যিকভাবে এই ফলের চাষ হয় না। আগের মতো গ্রামগঞ্জে লটকার গাছও নেই। কাজেই, এর জোগান কমেছে।