কমলাকান্তের ব্রহ্মময়ীর পুজো ঘিরে বজবজে জোরকদমে চলছে প্রস্তুতি
  • ৭ নভেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

বিমল বন্দ্যোপাধ্যায়, বজবজ: দেড় ফুটের কষ্টিপাথর দিয়ে তৈরি ব্রহ্মময়ী কালী। গলায় নরমুণ্ডের মালা। পায়ের তলায় মহাদেব নেই। ‌ইনি সাধক কমলাকান্তের পূজিতা ব্রহ্মময়ী। বজবজ চিত্রগঞ্জ কালীবাড়িতে ‘খুকি মা’ নামে পরিচিত। ভক্তরা বলেন, মা মাছ খেতে ভালোবাসেন। তাই প্রতিদিন তাঁকে ভোগের অন্যান্য পদের সঙ্গে  রান্না করা মাছ দেওয়া হয়। তবে বছরে একদিন তিনি নিরামিষ আহার করেন। দিনটি হল কালীপুজো।

Advertisement

নিরামিষ কেন তার সঠিক উত্তর নেই। তবে পুজো কমিটি ও এই কালীবাড়ির সঙ্গে দীর্ঘ সময় ধরে যাঁরা যুক্ত তাঁরা বলেন, ১৩৩ বছর ধরে এ নিয়ম চলে আসছে। ভক্তরা মনে করেন দেবীর এটাই ইচ্ছে। ৪ নম্বর কালী টেম্পল রোডের বজবজ চিত্রগঞ্জ কালীবাড়ির পুজো এবার ১৩৩ বছরে পা দেবে। প্রতিদিন সকাল ও সন্ধ্যা পুজো ও ভোগ রান্নার জন্য ৪ স্থায়ী পুজারি আছেন। দেবীর স্নান, তাঁকে সাজানো ও পুজোর যাবতীয় কাজ করেন ৩ জন। একজন ভোগ রান্না করেন। রবিবার রাত ন’টা থেকে খুকি মা’র পুজো শুরু হবে। সন্ধ্যায় জোয়ারের সময় পুজারি গঙ্গায় গিয়ে ডুব দিয়ে নতুন ঘটে জোয়ারের জল এনে দেবীকে স্নান করাবেন। এরপর ভক্তদের দেওয়া নতুন বেনারসি শাড়ি পরানোর পর আসনে বসে পুজোগ্রহণ করবেন কালী। তাঁকে সোনার মুকুট, হার, নাকচাবি, চুড়ি ইত্যাদি অলঙ্কারে সাজানো হয়। দেওয়া হয় লাল জবার মালা। ভোগে দেওয়া হবে খিচুড়ি, পোলাও, তিন রকমের ঝোল, তরকারি, ফুলকপি, পনির ও আলুর দম আর আলু, উচ্ছে, বেগুন, কাঁচকলা, কুমড়ো, ঢেঁড়স ও সিম ভাজা। এছাড়া কাঁচাআমের চাটনি, গোরুর দুধের পায়েস, ঘরে তৈরি রসগোল্লা ও মিষ্টি দই দেওয়া হবে। এখানে আলাদা ভোগ ঘর রয়েছে। সেখানে উপোস করে রান্নার পুজারি এই সব পদ তৈরি করবেন। পুজো কমিটির সম্পাদক স্মৃতিরঞ্জন ঘোষাল বলেন, কালীপুজোর দিন আড়াশো থেকে তিনশো ভক্ত উপোস করে পুজো দেখতে আসেন। সারারাত থাকেন। অঞ্জলি দেন। পুজো শেষে প্রসাদ খেয়ে উপোস ভাঙেন। সন্ধ্যায় ভক্তিমূলক গানের আসর বসবে। হবে গঙ্গা আরতি। কয়েকহাজার মানুষের অংশগ্রহণে গঙ্গায় প্রদীপ ভাসানো হবে। পরের রবিবার হবে নরনারায়ণ সেবা।  নিজস্ব চিত্র