নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে একুশে জুলাই শহিদ দিবসের কর্মসূচিকে সফলভাবে রূপায়িত করার জন্য প্রস্তুতি শুরু করে দিল তৃণমূল। আগামী ১৪ জুন, শনিবার একুশে জুলাই সমাবেশ কেন্দ্রিক প্রস্তুতি বৈঠক ডেকেছেন তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সি। ওই দিন ভবানীপুরে সুব্রত বক্সির অফিসে দুপুর ১টার সময় অনুষ্ঠিত হবে এই বৈঠক। বৈঠকে ডাকা হয়েছে তৃণমূলের জেলা সভাপতি, জেলা চেয়ারম্যানদের। এছাড়াও উত্তর কলকাতা এবং বীরভূম জেলার জন্য দলের তরফে যে কোর কমিটি তৈরি করে দেওয়া হয়েছে, তার সদস্যদেরও বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। বৈঠকে থাকবেন রাজ্য কমিটির বাছাই করা কিছু নেতৃত্ব। এছাড়াও প্রতিবছর একুশে জুলাইয়ের সভা সফল করতে যাঁরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকেন, সেই সমস্ত নেতাদেরও বৈঠকে ডাকা হয়েছে। সব মিলিয়ে শ’খানেক নেতৃত্ব এই বৈঠকে উপস্থিত হতে চলেছেন। বৈঠকে বিস্তারিতভাবে আলোচনা হবে, একুশে জুলাইয়ের সমাবেশ সফল করার লক্ষ্যে জেলায় জেলায় প্রস্তুতি সভাগুলি নিয়ে। মিটিং, মিছিল, দেওয়াল লিখনের মাধ্যমেও একুশে জুলাই সমাবেশকে বৃহৎ মাত্রায় পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নিচ্ছে তৃণমূল। যেহেতু সামনের বছর একুশে জুলাইয়ের আগে বিধানসভার ভোট হয়ে যাবে, ফলে এ বছরের শহিদ সমাবেশ থেকে ভোট কেন্দ্রিক ‘নিদান’ তৃণমূল সুপ্রিম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দেবেন বলেই অভিমত। তাই এবারের সমাবেশে সর্বস্তরের নেতা, কর্মীদের উপস্থিতির দিকে বেশি জোর দিচ্ছে তৃণমূল। ওই সমাবেশ থেকেই বিধানসভা নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক রণডঙ্কা তৃণমূল বাজিয়ে দেবে বলেই মনে করছ রাজনৈতিক মহল। এমনকী একুশে জুলাইয়ের সভা থেকে ভোট কেন্দ্রিক কর্মসূচিও ঘোষণা করা হতে পারে। তাছাড়া ভুয়ো ভোটার খুঁজতে রাজ্যজুড়ে যে স্ক্রুটিনি তৃণমূল জারি রেখেছে, সে বিষয়েও সুস্পষ্ট বার্তা উঠে আসার সম্ভাবনা সমাবেশ থেকে। ২৬’ এর বিধানসভা নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে দলের নেতাকর্মীদের রাজনৈতিক পাঠও ওই সমাবেশ থেকে সুপ্রিমো দেবেন, এমনটাই ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের। ফলে সব মিলিয়ে ভোটের কাউন্টডাউন একুশে জুলাই থেকেই জোড়াফুল শিবিরে শুরু হয়ে যাচ্ছে। তার আগে আগামী শনিবার ঘরোয়া বৈঠক করে তৃণমূল সমাবেশের একটা রূপরেখা স্থির করে নিতে চাইছে। দলের নেতা-কর্মী, সমর্থকরা প্রতিবছর যে সংখ্যায় সমাবেশে আসেন, এ বছর তার সংখ্যা আরও বাড়বে বলে ধারণা। তাই কর্মী সমর্থকদের থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা, আসা যাওয়ার জন্য পরিবহণ সংক্রান্ত বিষয় আগামী শনিবারের বৈঠকে উঠে আসবে।



