সংবাদদাতা, রানাঘাট: শান্তিপুরের হরিপুরে ভাগীরথীর তীরে ভাঙনে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। এর স্থায়ী সমাধানের দাবিতে সরব এলাকাবাসী।
সংবাদদাতা, রানাঘাট: শান্তিপুরের হরিপুরে ভাগীরথীর তীরে ভাঙনে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। এর স্থায়ী সমাধানের দাবিতে সরব এলাকাবাসী।
শান্তিপুরের হরিপুর পঞ্চায়েতের নতুনগ্রাম এলাকায় ভাগীরথীর পাড়ে ভাঙ্গন দেখা দেয় বুধবার। বর্ষার মরশুমে নদীর জলস্তর বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হয়েছে এই ভাঙ্গন। প্রতি বছরই বিঘের পর বিঘে চাষের জমি তলিয়ে যাচ্ছে নদীগর্ভে। এবছর নতুন করে ভাঙ্গনের রূপ দেখে নদী পাড়ে বসবাসকারী বাসিন্দাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ দেখা দিয়েছে। বাসিন্দারা ক্ষোভ উগরে বলেন, আগেও ভাঙ্গন রুখতে নদীপাড় বাঁধানোর কাজ হয়েছিল। কিন্তু তা অত্যন্ত নিম্নমানের ছিল। বর্ষার সময় জল বাড়লে তার কোনো সুরাহা হয়নি। এবার আমাদের ঘরবাড়িও নদীতে তলিয়ে যাবে।
এলাকার যুবক দিব্যেন্দু রায় বলেন, বিগত সরকারের জমানায় নদী পাড় বাধানোর যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল তা সঠিক পরিকল্পনা মেনে এবং মজবুতভাবে হয়নি। ফলে সামান্য জলের চাপেই সেই বাঁধ ভেঙে পড়ছে। এখানকার মানুষ ও কৃষকদের একটাই দাবি, বর্তমান ডবল ইঞ্জিন সরকার যেন দ্রুত হস্তক্ষেপ করে এই ভাঙ্গন রোধে স্থায়ী ব্যবস্থা নেয়।
হরিপুর পঞ্চায়েতের তৃণমূলের প্রধান বীরেন মাহাতো জানান, সদস্যদের সঙ্গে এনিয়ে আলোচনা হয়েছে। সদস্যরা জানিয়েছেন বিধায়ককে জানানো হয়েছে। আমরা এই বিষয়ে প্রশাসনকে জানাবো। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করব। হরিপুর পঞ্চায়েতের বিজেপির বিরোধী দলনেতা সদানন্দ হালদার জানান, গঙ্গা ভাঙনের এই বিষয়টি বিধায়ককে জানানো হয়েছে। বিধায়ক এক বৈঠকে আমাদের সঙ্গে এনিয়ে আলোচনা করেন। পঞ্চায়েত প্রধানের এই বিষয় নিয়ে কোনো হেলদোল নেই। ভাঙ্গন দেখতে যাওয়া তো দূরস্ত সেখানকার মানুষের সঙ্গে কথাও বলেননি তিনি। আগামী দিনে নদীর পাড় পুরো বাঁধিয়ে একটি স্থায়ী সমাধানের ব্যবস্থা হবে।
শান্তিপুর বিধানসভার বিজেপি বিধায়ক স্বপনকুমার দাস জানান, কিছুদিন আগে হরিপুর নতুন গ্রামের ওই এলাকায় গিয়েছিলাম। দেখে এসেছিলাম পরিস্থিতি। আগের সরকার কোনো কাজ করেনি। আমরা নদীভাঙন রুখতে ভালো কিছু হয় তাই করব।