সংবাদদাতা, ঘাটাল: ঘাটালের একাধিক পুজো মণ্ডপ চত্বরে এখনও জল জমে। কোথাও এক কোমর সমান। কোথাও বা ডুবে যাচ্ছে হাঁটু। আর ক’দিন পরেই পুজো। অথচ, মণ্ডপ তৈরির কাজ শুরুই করা যায়নি। তবে, উৎসাহে ঘাটতি নেই ঘাটাল মহকুমার পুজো উদ্যোক্তাদের। ৩০ থেকে ৪০টি পুজোর কর্মকর্তারা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁরা আত্মবিশ্বাসী। পুজো হবেই।
ঘাটাল পুরসভার চেয়ারম্যান তুহিনকান্তি বেরা বলেন, ‘ওয়ার্ডগুলি থেকে সম্পূর্ণ জল এখনও নামেনি। ফি বছর পুজোর আগে এটাই চেনা ছবি শহরের। এবারও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। তবে, আমাদের এখানরার উদ্যোক্তারা প্রচণ্ড উদ্যোমী। অনেকে পৃথক জায়গাতে মণ্ডপের আনুষাঙ্গিক কাজকর্ম করছেন। দু’ চার দিন আবহাওয়া ঠিক হলেই সব কিছুই সামলে নেবেন তাঁরা।’
ঘাটালের বেশিরভাগ পুজো কমিটিগুলি পুজোর এক-দেড় মাস আগে থেকে পুজোর মণ্ডপ শুরু করে দেয়। এবার সেপ্টেম্বর মাসের শেষ দিকে পুজো। তাই, জুলাই মাসের মাসের শেষ সপ্তাহ থেকেই জোরকদমে মণ্ডপ তৈরির কাজ শুরু হয়েছিল। কাঠামো তৈরি করতে না করতেই শুরু হয় নিম্নচাপ। মহকুমার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া নদীগুলির কূল ছাপিয়ে জল ঢুকে পড়ে বিস্তীর্ণ এলাকায়। তৈরি হয় বন্যা পরিস্থিতি। সেই জল এখনও নামেনি। তাতেই দেখা দিয়েছে বিপত্তি। শহরের কেন্দ্রস্থল ৩ নম্বর ওয়ার্ড কৃষ্ণনগরের তিনের পল্লির পুজো কমিটির সম্পাদক পুরসভার চেয়ারম্যান নিজেই। তাঁদের এবার ৩৩ তম বর্ষ। থিম লাল কেল্লা। মণ্ডপ এলাকায় জল জমে। সেখানে কোনও কাজ করা যাচ্ছে না। তাই, মণ্ডপের বিভিন্ন অংশ শুকনো জায়গায় তৈরি করা চলছে। জল একটু একটু করে নামছে। পুজোর আগে ফের বৃষ্টি কিংবা বন্যা না হলে মণ্ডপ তৈরিতে কোনও সমস্যা হবে না।
এদিন, ঘাটাল শহরের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের চাউলি সার্বজনীন দুর্গাপুজো কমিটির কর্মকর্তারা বলেন, ‘মণ্ডপ এলাকায় এখনও জল। তবুও আমরা আত্মবিশ্বাসী। যে করেই হোক পুজো করবই। কারণ, বৃষ্টি তো আর সব দিন হবে না।’ শহরের ১ নম্বর ওয়ার্ড আগমনি স্টার সর্বজনীন দুর্গা পুজো কমিটির কর্মকর্তা জগদীশ শাসমল বলেন, ‘সোমবার পুরোপুরি জল নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা নতুন উদ্যমে কাজ শুরু করে দিয়েছি।’ হতাশ নন ঘাটাল ব্লকের আনন্দপুর-কামারডাঙা আমরা সবাই সার্বজনীন পুজো কমিটির কর্মকর্তারাও। কমিটির সম্পাদক সঞ্জয় পোড়ে জানালেন, ‘আমরা রেডিই ছিলাম। জল নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মণ্ডপ তৈরির কাজ শুরু করে দিয়েছি।
একইভাবে ওই ব্লকের দীর্ঘগ্রাম হোগলার মাঠ সার্বজনীন পুজোকমিটি, বরকতিপুর, মনশুকা, উত্তর খড়কপুর, ঘাটাল শহরের ৭ নম্বর ওয়ার্ড, ১০ নম্বর ওয়ার্ডের মতো পুজো কমিটিগুলির বন্যার জল নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মণ্ডপ তৈরির কাজ শুরু করে দিয়েছে। ঘাটাল শহরের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সৎসঙ্গ পল্লি সার্বজনীন পুজো কমিটিও আত্মবিশ্বাসী। কমিটির সম্পাদক পার্থ দাস বলেন, ‘এবারের আমাদের ষষ্ঠ বর্ষের থিম আঁচল। সোমবার সবে জল নেমেছে। মণ্ডপ তৈরি করতে আমাদের বেশি সময় লাগবে না।’