নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: পিচের চাদর উধাও। গোটা রাস্তায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে পাথর। কিছু কিছু জায়গায় রাস্তার দু’পাশের মাটি ধসে গিয়েছে। এটা ১০ নম্বর জাতীয় সড়কের সংযোগকারী পাথারঘাটা গ্রাম পঞ্চায়েতের ‘লাইফ লাইনের’ দশা। এর জেরে চরম সমস্যায় পড়েছেন ছ’টি গ্রামের গর্ভবতী মহিলারা। প্রসবের আগে অনেকেই গ্রামের বাইরে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের কাছে বাড়ি ভাড়া করে থাকতে হচ্ছে বলে অভিযোগ। শুধু গর্ভবতীরা নন, সরকারি-বেসরকারি স্কুলের ছাত্রছাত্রী, বয়স্ক এবং চা শ্রমিকরা দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। গ্রামবাসীরা এনিয়ে রীতিমতো ক্ষুব্ধ। তাঁরা স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে বিস্তর প্রশ্ন তুলেছেন।সংশ্লিষ্ট গ্রাম পঞ্চায়েতের মিরজাংলা গ্রামে মাটিগাড়া-নকশালবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক আনন্দময় বর্মনের বাড়ি। তিনি বলেন, দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে রাস্তাটি বেহাল। স্কুল পড়ুয়া, গর্ভবতী মহিলা সহ সকলেই এরজেরে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।
আমি মাঝেমধ্যে ঘুরপথে শিলিগুড়ির সঙ্গে যোগাযোগ করছি। রাস্তাটি নিয়ে বিধানসভায় এবং প্রশাসনের কাছে একাধিকবার জানিয়েও লাভ হয়নি।এবিষয়ে চেষ্টা করেও পাথরঘাটা পঞ্চায়েতের প্রধান তৃণমূলের মহম্মদ সাহিদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। মোবাইল এসএমএস পাঠিয়েও তাঁর প্রতিক্রিয়া মেলেনি। মাটিগাড়া পঞ্চায়েত সমিতির সহকারী সভাপতি সুশান্ত ঘোষ বলেন, ওই বেহাল রাস্তাটি নজরে রয়েছে। সেখানকার মানুষদের কষ্ট হচ্ছে, সেটাও জানি। তবে সংশ্লিষ্ট রাস্তা এসজেডিএ’র সহযোগিতায় সংস্কার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।মাটিগাড়ার উপর দিয়ে বিস্তৃত ১০ নম্বর জাতীয় সড়ক। এই রাস্তার সংযোগকারী হল পাথরঘাটার লাইফ লাইন। হর সুন্দরী হাইস্কুল মোড় থেকে পাথরঘাটা পঞ্চায়েত পর্যন্ত রাস্তাটি প্রায় ৭ কিলোমিটার লম্বা। ঘোলাজোত, ধুকুরিয়া, মিরজংলা, ভেঞ্চিজোত, পাথরকলোনি প্রভৃতি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ রাস্তাটি ব্যবহার করেন। তাঁদের কেউ চা শ্রমিক, কেউ কৃষক, আবার ব্যবসায়ী ও দিনমজুর।স্থানীয়রা বলেন, বেহাল এই রাস্তায় দিয়ে বাইক, অটো, টোটো, গাড়ি নিয়ে যাতায়াত করাই কষ্টকর। অসম্ভব ঝাঁকুনির ঠেলায় টোটো, অটো ও গাড়ির সিটে বসে থাকা যায় না। ফলে, গর্ভবতী মহিলাদের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার সময় সমস্যায় পড়তে হয়। ঝাঁকুনির জেরে অনেক মহিলা রাস্তাতেই সন্তান প্রসব করেছেন। তাই গ্রামবাসীদের একাংশ গর্ভবতী মহিলাদের নির্ধারিত সময়ের আগে গ্রামের বাইরে ভাড়া বাড়িতে কিংবা আত্মীয়ের বাড়িতে নিয়ে যান। এছাড়া, এই রাস্তা দিয়ে ১০টির বেশি স্কুলের পড়ুয়া, চা বাগানের শ্রমিক যাতায়াত করেন। কাজেই দ্রুত রাস্তাটি মেরামত করা জরুরি।