নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি ও সংবাদদাতা, রাজগঞ্জ: স্বামীর পরকীয়ায় বাধা দিলে জুটত মার। একাধিকবার খুনের চেষ্টাও করা হয় বলে অভিযোগ। অবশেষে শ্বশুরবাড়িতে উদ্ধার হল অন্তঃসত্ত্বা বধূর ঝুলন্ত দেহ। মৃতার নাম সান্ত্বনা রায় (২৪)। তাঁর বাবা বীরেন্দ্রনাথ রায়ের অভিযোগ, মেয়েকে খুন করে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে তাঁদের সন্দেহ। এনিয়ে বৃহস্পতিবার বিকেলে জলপাইগুড়ি মহিলা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন তিনি। থানার আইসি ডিকি লামু ভুটিয়া বলেন, বধূ নির্যাতনের অভিযোগে মৃতার স্বামী হরিকিশোর রায়কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। সেইমতো পরবর্তী পদক্ষেপ করব আমরা।
জলপাইগুড়ির বেলাকোবা পঞ্চায়েতের সাঙ্গিপাড়ার এ ঘটনায় এলাকায় আলোড়ন ছড়িয়েছে। বুধবার মাঝরাতে শ্বশুরবাড়িতে বন্ধ ঘরের ভিতর থেকে গলায় ওড়নার ফাঁস দেওয়া অবস্থায় সান্ত্বনার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয় বলে অভিযোগ। পরে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এদিন জলপাইগুড়ি মেডিক্যালের মর্গে মৃতার দেহের ময়নাতদন্ত হয়। মৃতার স্বামী অবশ্য তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা পরকীয়া ও স্ত্রীকে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। গ্রেপ্তারের আগে তাঁর দাবি,বুধবার বাড়ির পাশে একটি বাড়িতে নিমন্ত্রণ ছিল। সেখানে গিয়েছিলেন তিনি। বাড়ি ফিরতে রাত দু’টো বেজে যায়। ফিরে দেখেন, ঘরের দরজা বন্ধ। ডাকাডাকি করে সাড়া না মেলায় দরজা ভেঙে দেখেন, স্ত্রী গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় ঝুলছে।
এদিকে, এদিন জলপাইগুড়ি মেডিক্যালের মর্গ চত্বরে দাঁড়িয়ে রাজগঞ্জের চালহাটির বাসিন্দা মৃতার দাদা সুমন্ত রায় বলেন, বছর ছ’য়েক আগে বোনের বিয়ে হয়। বিয়ের ছ’মাসের মধ্যে বোন জানতে পারে,তাঁর স্বামীর এলাকার এক মেয়ের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। এনিয়ে বোনের সঙ্গে ওর স্বামীর অশান্তি হয়। সদ্য বিয়ে হওয়ায় সেসময় আমরা বোনকে অনেক বুঝিয়ে সংসার করতে রাজি করাই। কিন্তু বোনের উপর অত্যাচার বন্ধ হয়নি। বোনের পাঁচ বছরের মেয়ে রয়েছে। বর্তমানে সাতমাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিল বোন। কিন্তু স্বামী ওকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যেত না। পরকীয়ায় মেতে থাকত। বোন এসবের প্রতিবাদ করলেই ওকে মারধর করা হতো।
মৃতার বাবার বক্তব্য, জামাইয়ের একাধিক বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক রয়েছে। মেয়ে প্রতিবাদ করলেই নেশা করে এসে জামাই মারধর করত। ঠিকমতো খেতে দিত না। মেয়েকে ডাক্তার দেখাতে নিয়ে যেত না জামাই। বাধ্য হয়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ডাক্তার দেখানোর জন্য মেয়ে নিজে পাঁচ কিমি দূরে হাঁটতে হাঁটতে যেত। জামাইয়ের একাধিক অবৈধ সম্পর্ক থাকায় স্ত্রীর প্রতি তার কোনও হুঁশ ছিল না। বুধবারও মেয়েকে মারে জামাই। তাঁর দাবি, একবার মেয়েকে পুকুরে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করে ওর স্বামী। আর একবার চলন্ত ট্রেনের তলায় দেওয়ার জন্য টানতে টানতে রেললাইনের ধারে নিয়ে যাওয়া হয়। বুধবার রাত সোয়া দু’টো নাগাদ মেয়ের শ্বশুরবাড়ি থেকে আমাদের খবর দেওয়া হয়। গিয়ে দেখি, শোবার ঘরে মেয়ে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় ঝুলছে। কিন্তু তার হাঁটু দু’টি ভাঁজ করা। এ কারণে আমাদের সন্দেহ, মেয়েকে মেরে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে।
মৃতার দাদার দাবি, বুধবার বোনকে ডাক্তার দেখাতে নিয়ে যাবে বলেছিল ওর স্বামী। কিন্তু শেষপর্যন্ত নিয়ে যায়নি। উল্টে মাছ রান্না করতে না চাওয়ায় বোনকে মারধর করে মেয়েকে নিয়ে নিমন্ত্রণ খেতে চলে যায়।