সংবাদদাতা, বহরমপুর: অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে নৃশংসভাবে পিটিয়ে খুনের অভিযোগ উঠেছে স্বামী সহ শ্বশুরবাড়ির চারজনের বিরুদ্ধে। মৃতার নাম মৌসুমি খাতুন(২৫)। তিনি সাতমাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। মৃতার শ্বশুরবাড়ি ডোমকল থানার মিঞাখারপাড়ায়। তাঁর বাপেরবাড়ি ওই গ্রামেরই মালোপাড়ায়। মৃতার বাপেরবাড়ির লোকজনের অভিযোগ, স্বামীর পরকীয়ায় বাধা দেওয়ায় মৌসুমিকে খুন করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তরা পলাতক। এমনকি মৃতের পাঁচ বছরের ছেলেরও কোনো হদিশ মেলেনি।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, সাত বছর আগে মৌসুমির বিয়ে হয় পেশায় গাড়িচালক সাজাহান মণ্ডলের সঙ্গে। দম্পতির পাঁচ বছরের একটি পুত্রসন্তান রয়েছে। বাপেরবাড়ির লোকজনের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই শ্বশুরবাড়িতে মৌসুমির উপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হত। তা সহ্য করেই শ্বশুরবাড়িতে ও থাকত। মৃতার বাবা ইয়ার আলি মণ্ডল বলেন, জামাইয়ের সঙ্গে অন্য একটি মেয়ের অবৈধ সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। মেয়ে জানতে পেরে বাধা দেওয়ায় তার উপর অত্যাচারের মাত্রা বাড়ে। গত বৃহস্পতিবার রাত ১০টা নাগাদ মেয়ের বাড়ির পাশের একজন জানায়, মৌসুমিকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ডোমকল সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, মৌসুমিকে হাসপাতালে ফেলে রেখে শ্বশুরবাড়ির লোকজন চম্পট দিয়েছে। ডোমকল থেকে মেয়েকে মুর্শিদাবাদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। সেখানেই রাত দেড়টা নাগাদ তার মৃত্যু হয়। ইয়ার আলির দাবি, মেয়েকে নৃশংসভাবে মারধর করে খুন করা হয়েছে। শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। মেয়ের স্বামী, শ্বশুর, শাশুড়ি, ননদ সহ এক মহিলার নামে খুনের অভিযোগ দায়ের করে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছি।
মৃতার আত্মীয় সার্জেন মণ্ডল বলেন, অভিযুক্তদের ফাঁসির সাজার দাবি জানাচ্ছি। পরকীয়ায় জড়িত মহিলাকে যেন কোনোভাবেই ছাড়া না হয়। শোকার্ত মৃতার বাবা। নিজস্ব চিত্র