Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

প্রধান শিক্ষক ছুটিতে, সহকারী শিক্ষক অনিয়মিত, বিষ্ণুপুরের স্কুলে লাটে উঠেছে পড়াশোনা

প্রধান শিক্ষক ছুটিতে, সহকারী শিক্ষক অনিয়মিত, বিষ্ণুপুরের স্কুলে লাটে উঠেছে পড়াশোনা
  • ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: প্রধান শিক্ষক ছুটিতে। সহকারী শিক্ষক অনিয়মিত। একজন মাত্র পার্শ্বশিক্ষক পড়ুয়া আগলে বসে রয়েছেন। টাকার অভাবে মিড ডে মিলও বন্ধ। এই অবস্থায় বিষ্ণুপুরের কুলুপুকুর প্রাইমারি স্কুলে পড়াশোনা কার্যত লাটে উঠেছে। এনিয়ে ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা সোমবার বিডিওর কাছে অভিযোগ জানান। তার ভিত্তিতে বিষ্ণুপুরের অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক অভিযুক্ত শিক্ষককে শোকজ করেছেন। 
Advertisement
বিষ্ণুপুরের বিডিও সোমশঙ্কর মণ্ডল বলেন, কুলুপুকুর প্রাইমারি স্কুলে একজন সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়মিত বিদ্যালয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মিড ডে মিলও অনিয়মিত করার অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত ওই শিক্ষকের সঙ্গে বেশ কিছুদিন ধরে ফোনেও যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছিল না। এরকম ঘটনা মোটেই বরদাস্ত করা হবে না। সেই জন্য তাঁকে শোকজ করা হয়েছে। 
অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক চিন্ময় ধীবরকে এদিন ফোন করা হলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধি শুনেই ‘ব্যস্ত আছি’ বলে ফোন কেটে দেন। ওই বিদ্যালয়ের প্যারাটিচার রীনা পাত্র বলেন, প্রধান শিক্ষক অসুস্থতার কারণে ছুটিতে রয়েছেন। স্কুলের সহকারী শিক্ষক সরস্বতী পুজোর পর থেকেই বিদ্যালয়ে অনিয়মিত আসছেন। আমাকেই স্কুল সামলাতে হচ্ছে। আমার ফিল্ড ওয়ার্ক থাকে। সেগুলি করতে পারছি না। এমনকী সহকারী শিক্ষক না আসায় মিড ডে মিলও চালানো সম্ভব হচ্ছে না। অভিভাবকরা স্কুলে এসে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। সহকারী শিক্ষকের সঙ্গে ফোনে বারবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছি। তিনি ফোন ধরেননি। বিষয়টি অবর বিদ্যালয় পরিদর্শককে জানানো হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, মড়ার গ্রাম পঞ্চায়েতের কুলুপুকুর প্রাইমারি স্কুলে প্রায় ১০০জন পড়ুয়া রয়েছে। একজন প্যারাটিচার ও দু’জন স্থায়ী শিক্ষক রয়েছেন। শিক্ষকদের একাংশের খামখেয়ালিপনার কারণে পড়াশোনা লাটে উঠেছে। মোট তিনজন শিক্ষকের মধ্যে দু’জন আসছেন না। একজন প্যরাটিচার আসছেন। তাঁর পক্ষে এতজন ছাত্রছাত্রীকে পড়াশোনা করানো সম্ভব নয়। আমরা অপর দুই শিক্ষকের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছি। কিন্তু, তাঁরা কেউই ফোন ধরেননি। স্কুলে মিড ডে মিলও অনিয়মিত হয়ে পড়েছে। চলতি মাসের ১৫তারিখ কোনও শিক্ষক না আসায় ওইদিন স্কুল তালাবন্ধ ছিল। এভাবে একটা স্কুল চলতে পারে না। অভিভাবকরাও চিন্তিত হয়ে পড়েছেন। সেজন্য বিডিওর কাছে লিখিত অভিযোগ জানানো হয়েছে। 
কুলুপুকুর গ্রামের বাসিন্দা স্বরাজ মণ্ডল বলেন, আমাদের প্রাইমারি স্কুলে নানা অনিয়ম চলছে। শিক্ষকরা অনিয়মিত আসছেন। মিড ডে মিলও নিয়মিত হচ্ছে না। আমরা ছেলেমেয়েদের কথা ভেবে বিদ্যালয়ে গিয়ে এব্যাপারে বারবার অভিযোগ জানিয়েছি। কিন্তু, কোনও কাজ হয়নি। এভাবে চলতে থাকলে আমরা বৃহত্তর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হব।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ