দিব্যেন্দু বিশ্বাস, নয়াদিল্লি: আচ্ছে দিন। নতুন ভারত। ডিজিটাল ইন্ডিয়া। এবং সবটাই প্রচারসর্বস্ব। ফ্লপ। কারণ, এর বাস্তব রূপ দেখার সৌভাগ্য হয়নি দেশবাসীর। অনলাইন লেনদেন নিয়ে বিপুল চর্চা মানেই কিন্তু তা সফল নয়! কারণ, এই ধরনের ‘যুগান্তকারী’ উদ্যোগের সাফল্য নির্ভর করে সমাজের ভিতের উপর। অর্থাৎ শিক্ষা। আর নরেন্দ্র মোদির এই সাধের স্লোগানের ছিটেফোঁটাও পৌঁছয়নি দেশের সিংহভাগ স্কুলে। সংসদে কেন্দ্রীয় সরকারই জানিয়েছে, ভারতের ৭৬ শতাংশ সরকারি স্কুলে ইন্টারনেট সংযোগ নেই। সংখ্যার বিচারে ৭ লক্ষ ৭৫ হাজার ৩৮৬টি। সমাজ গড়ার কারিগর তৈরি হয় বিদ্যালয়ে। আর সেখানেই যখন ন্যূনতম ইন্টারনেট পরিষেবা দিতে সরকার ব্যর্থ হয়, তাহলে কীসের সফল ডিজিটাল ভারত?
Advertisement
সোমবার লোকসভায় শিক্ষামন্ত্রকের কাছে কংগ্রেস সাংসদ জিকে পারাভি এবং আইইউএমএলের সাংসদ এমপিএ সামাদানি জানতে চেয়েছিলেন, এই মুহূর্তে দেশের কতগুলি সরকারি এবং বেসরকারি বিদ্যালয়ে ইন্টারনেট সংযোগ রয়েছে। তারই লিখিত জবাবে কেন্দ্রীয় শিক্ষা রাষ্ট্রমন্ত্রী জয়ন্ত চৌধুরীর পেশ করা পরিসংখ্যানে চোখ কপালে উঠেছে শিক্ষা মহলের। উদ্বেগের ভাঁজও বেড়েছে। তাতে দেখা যাচ্ছে, দেশের মোট ১০ লক্ষ ২২ হাজার ৩৮৬টি সরকারি স্কুলের মধ্যে ইন্টারনেট সংযোগ রয়েছে মাত্র ২ লক্ষ ৪৭ হাজার বিদ্যালয়ে। অর্থাৎ, মাত্র ২৪.১৬ শতাংশ। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, বহু বিজেপি শাসিত রাজ্যেই সরকারি স্কুলে ইন্টারনেট সংযোগের হার জাতীয় গড়ের তুলনায় লক্ষণীয়ভাবে কম। যেমন, উত্তরপ্রদেশে মাত্র ৮.৮১ শতাংশ, ত্রিপুরায় ১৬ শতাংশ, উত্তরাখণ্ডে ১৫.৬২ শতাংশ, মধ্যপ্রদেশে ১৭.৭৭ শতাংশ, অসমে ১০.২৯ শতাংশ সরকারি বিদ্যালয়ে ইন্টারনেট সংযোগ রয়েছে। আর এক ‘ডাবল ইঞ্জিন’ রাজ্য বিহারের সরকারি স্কুলে এই হার মাত্র ৫.৮৫ শতাংশ। অর্থাৎ, কেন্দ্রের যে বিজেপি সরকার ডিজিটাল ইন্ডিয়া নিয়ে প্রবল ঢাকঢোল পিটিয়ে যাচ্ছে, সেই গেরুয়া শিবিরই ‘ডাবল ইঞ্জিন’ রাজ্যগুলিতে তা বাস্তবায়িত করতে হিমশিম খাচ্ছে। এরই পাশাপাশি কেন্দ্রীয় শিক্ষা রাষ্ট্রমন্ত্রীর সংসদে পেশ করা রিপোর্ট দেখাচ্ছে, ইন্টারনেট সংযোগের ক্ষেত্রে দেশের বেসরকারি স্কুলগুলির পরিস্থিতি তুলনায় ঢের ভালো। কারণ, সারা দেশে বেসরকারি স্কুলের সংখ্যা ৩ লক্ষ ৩৫ হাজার ৮৪৪টি। এর মধ্যে ইন্টারনেট সংযোগ রয়েছে ২ লক্ষ ২৭৪টিতে। অর্থাৎ, দেশের প্রায় ৬০ শতাংশ বেসরকারি স্কুলই ইন্টারনেট পরিষেবা পায়। তার মানে কি সরকারি বিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা সার্বিক পরিকাঠামো থেকেই বঞ্চিত হচ্ছে? এই প্রশ্ন কিন্তু উঠছে। বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই রীতিমতো চর্চা শুরু হয়েছে। প্রসঙ্গত, পশ্চিমবঙ্গের ১২ হাজার ৯১৮টি সরকারি স্কুলে রয়েছে ইন্টারনেট সংযোগ। রাজ্যের এমন বেসরকারি বিদ্যালয়ের সংখ্যা ২ হাজার ৫৬৫টি। শিক্ষামন্ত্রকের পরিসংখ্যানেই এর উল্লেখ রয়েছে। এদিন লিখিত প্রশ্নের জবাবে কেন্দ্রীয় শিক্ষা রাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে ২০১৯-২০ অর্থবর্ষ থেকেই ‘নিষ্ঠা’ (ন্যাশনাল ইনিশিয়েটিভ ফর স্কুল হেডস অ্যান্ড টিচার্স হোলিস্টিক অ্যাডভান্সমেন্ট) কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। ২০২০ সালের অক্টোবর থেকে অনলাইন মাধ্যমেও ‘নিষ্ঠা’ প্রকল্প চালু হয়েছে। বিরোধীদের কটাক্ষ, এটা কি সাফাই নয়? পঠনপাঠনে কোনও খামতি রাখা হচ্ছে না—এটা বুঝিয়ে কি ড্যামেজ কন্ট্রোল করতে চাইছে কেন্দ্র? নাকি ডিজিটাল ভারত ব্যাপারটাই মোদি সরকারের আরও এক জুমলা? ওই প্রত্যেকের অ্যাকাউন্টে ১৫ কোটি টাকার মতো।



