Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

প্রচ্ছদে এআইয়ের দেদার ছোঁয়া, বই পার্বণে মর্যাদা হারাচ্ছে সৃজনশীলতা?

প্রচ্ছদে এআইয়ের দেদার ছোঁয়া, বই পার্বণে মর্যাদা হারাচ্ছে সৃজনশীলতা?
  • ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
সুদীপ্ত সেন, কলকাতা: বইমেলাতেও প্রযুক্তির রমরমা। বইয়ের প্রচ্ছদেও জায়গা করে নিচ্ছে এআই বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা)। চোখের নিমেষেই তৈরি হচ্ছে একের পর এক মলাট। সিংহভাগ বইয়ের স্টলে একই ছবি। তাহলে কী এআইয়ের ছোঁয়ায় মর্যাদা হারাচ্ছে হাতে আঁকা প্রচ্ছদ, সৃজনশীলতা? এব্যাপারে প্রকাশক, শিল্পী ও পাঠকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। কারও মতে, সময়ের সঙ্গে চলে এআইকে আপন করতে আপত্তি কোথায়! কেউ কেউ আবার বলছেন, হাতে আঁকা প্রচ্ছদে শিল্পীর মৌলিকত্ব অক্ষুণ্ণ থাকে। যন্ত্রের কাছে কী সেসব প্রত্যাশা করা যায়? 
Advertisement
প্রযুক্তির এই সংযোজনকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখতে চাইছেন দে’জ পাবলিশিংয়ের সুদীপ্ত দে। তাঁর কথায়, ‘প্রচ্ছদের উপরে বই বিক্রি অনেকটাই নির্ভর করে। আগে কভার যেভাবে তৈরি হতো, এখন তা অনেক বদলে গিয়েছে। এআই এসে কাজটা অনেক সহজ হয়ে গিয়েছে। আমরা যেমন চাই, পাঠক যেমন চায়, তেমন ডায়নামিক-আকর্ষণীয় কভার তৈরি হতে পারে।’ ‘দ্য কাফে টেবল’-এর কর্ণধার অভিষেক আইচ অবশ্য এব্যাপারে সাবধানী। তিনি বলেন, বিগত দু’বছরে এআইয়ের প্রভাব অনেকটাই বেড়েছে। পুরনো শিল্পীরা প্রচ্ছদ আঁকার ‘অ, আ, ক, খ’ জানেন।  তাঁরা যদি প্রযুক্তির সাহায্য নেন, তাহলে আরও উন্নতমানের কাজ হবে। কিন্তু এআইয়ের সাহায্যে নতুন শিল্পীদের তৈরি প্রচ্ছদ পাঠক মনে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা’র উপস্থিতি অস্বীকার না করলেও অহেতুক বাড়াবাড়িতে নারাজ নবজাতক প্রকাশনার বুলবুল ইসলাম। তাঁর মতে, দুটোই পাশাপাশি চলুক। একটার জন্য অন্যটা যেন বন্ধ না হয়।
শিল্পীদের কী মত? বর্ষীয়ান শিল্পী প্রণবেশ মাইতি থেকে শুরু করে প্রণব হাজরা, নচিকেতা মাহাত—কেউই প্রযুক্তির বিরুদ্ধে নন। কিন্তু, প্রয়োগের ক্ষেত্রে আরও বেশি-ভাবনাচিন্তার পরামর্শ দিচ্ছেন। প্রণবেশবাবুর কথায়, প্রযুক্তি ভালো বন্ধু হতে পারে। কিন্তু, তাকে চালানোর মতো ক্ষমতা থাকা জরুরি। আরও বেশি ভাবনা চিন্তার প্রয়োজন। তাহলে প্রচ্ছদ শুধু চোখ নয়, মনটাকেও টেনে নিয়ে যাবে। শিল্পী প্রণব হাজরার কথায়, ‘আমরা যখন এআইয়ের সাহায্য নিচ্ছি, তখন আসলে সৃজনশীলতা ধার নেওয়া হচ্ছে। তাতে আসল মজাটা থাকছে না।’ তবে কোনও ছুঁতমার্গ রাখতে রাজি নন শিল্পী নচিকেতা মাহাত। তাঁর কথায়, নতুন একটা জিনিসকে শুরুতেই বর্জন করলে পরে সমস্যা হতে পারে। এআই থেকে রেফারেন্স নেওয়ার ক্ষেত্রে ভুল কিছু দেখছি না। কিন্তু, যাঁদের জন্য এত কিছু, সেই পাঠককুল কী বলছেন? দে’জ-এর বাইরে সাহিত্যিক শংকরের সই নেওয়ার লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন ডানকুনি থেকে আসা দেবজ্যোতি। প্রশ্ন শুনেই তাঁর জবাব, নতুন কিছুতে আপত্তি নেই। থেমে গেলে এগব কী করে? 
বইমেলা উপলক্ষ্যে শ্রী সারদা মঠ থেকে প্রকাশিত হয়েছে স্বামী বিবেকানন্দের সান্নিধ্যে আসা ভারতীয় নারীদের নিয়ে তড়িৎকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের গবেষণামূলক বই ‘পুণ্যপদপরশে’। ইংরেজি ভাষায় প্রকাশিত হয়েছে 
সিস্টার ক্রিস্টিনের ডায়েরি। সেগুলির প্রচ্ছদ অবশ্য চিরাচরিত স্টাইলেই।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ