Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬

প্রবীণ চম্পই সোরেনের মর্যাদার লড়াই, বাধা নবীন জয়রামের ক্রান্তিকারী মোর্চা

প্রবীণ চম্পই সোরেনের মর্যাদার লড়াই, বাধা নবীন জয়রামের ক্রান্তিকারী মোর্চা
  • ১২ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
প্রীতেশ বসু, সরাইকেলা (ঝাড়খণ্ড): ঝাড়খণ্ড আন্দোল থেকে শুরু করে আদিবাসী উন্নয়ন। সমস্ত ক্ষেত্রেই ‘গুরুজি’ শিবু সোরেনের পরেই নাম নেওয়া হয় চম্পই সোরেনের। কিন্তু আজ তাঁর নামের সঙ্গে জুড়ে গিয়েছে আরও একটি শব্দবন্ধ—‘দলবদলু’। কারণ, ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা (জেএমএম) ছেড়ে তিনি যোগ দিয়েছেন বিজেপিতে। তবে তিনি একাই নন, ঝাড়খণ্ডে সরাইকেলা বিধানসভা কেন্দ্রে তাঁর মূল প্রতিপক্ষ জেএমএমের যে গণেশ মাহালি, ভোটের মুখে বিজেপি ছেড়ে তিনি যোগ দিয়েছেন জেএমএমে। তির-ধনুক (জেএমএমের প্রতীক) চিহ্নে লড়াই করার টিকিটও পেয়েছেন তিনি। ফলে গত দু’টি (২০১৪ ও ২০২১) বিধানসভা ভোটে পদ্মফুল চিহ্নে লড়াই করা গণেশ এখন মানুষকে তির-ধনুক চিহ্নে ভোট দিতে আর্জি জানাচ্ছেন। আর তাঁর বিপরীতে একদা ‘ঝাড়খণ্ডের বাঘ’ বলে পরিচিত দীর্ঘ ২৫ বছর জেএমএম বিধায়ক এবং হেমন্ত সোরেনের গ্রেপ্তারির পর মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব সামলানো চম্পই বর্তমানে গলায় গেরুয়া ফেট্টি জড়িয়ে ভোট চাইতে যাচ্ছেন আম জনতার দোরগোড়ায়। ফলে দুই প্রধান দলের প্রার্থী বদল হওয়ায় কিছুটা হলেও ভোট দেওয়ার বিষয়ে বিভ্রান্ত সরাইকেলার ভোটাররা। এই পরিস্থিতিতে ৬৮ বছরের চম্পইয়ের আত্মমর্যাদার লড়াইয়ের পথে নবীন জয়রাম মাহাতোর আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল ঝাড়খণ্ড লোকতান্ত্রিক ক্রান্তিকারী মোর্চা (জেএলকেএম) গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলেই মত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের। এখানে জেএলকেএমের ৩৫ বছরের তরুণ প্রার্থী প্রেম মান্ডি।  
Advertisement
১৩ নভেম্বর ভোট সরাইকেলায়। শেষবেলার প্রচার চলছে জোর কদমে। রবিবার সন্ধ্যে সাড়ে ৬টা। সরাইকেলা গ্যারেজ চকের ভিড় বাজার এলাকা। জেএমএমের প্রচার গাড়িতে তারস্বরে মাইকে বাজছে জেএমএমের স্লোগান—‘বিদ্যুৎ বিল জিরো, হেমন্ত ভাইয়া হিরো’। এই স্লোগান শুনে রাস্তার দাঁড়ানো জনৈক মানবোধ দারোগা বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর চারবছরে কিছুই করেননি হেমন্ত। চম্পই মুখ্যমন্ত্রী হয়েই মহিলাদের আর্থিক সহায়তা, বিদ্যুৎ বিল মকুব সহ একাধিক কর্মসূচি নেন। কিন্তু তাঁকে অপমান করে সরিয়ে দেওয়া হয়। আর এখন এরা (জেএমএম) এসব প্রকল্পেই নিজেদের ব্র্যান্ডিং করে ভোট চাইছে। ফলে সরাইকেলা জয় চম্পাই সোরেনের আত্মমর্যাদার লড়াই। মুখ্যমন্ত্রিত্ব থেকে অন্যায়ভাবে সরিয়ে দেওয়ার বদলা নেওয়ার লড়াই তাঁর।’
চম্পাইয়ের বাড়ি সরাইকেলার জিলিংগোড়ায়। একেবারে সাধারণ জীবনযাপনে অভ্যস্ত এই আদিবাসী নেতার বাড়িতে রোজ সকালে নিজ নিজ সমস্যা নিয়ে হাজির হন শতাধিক মানুষ। ফলে বছরের পর বছর তাঁর ব্যাপক জনপ্রিয়তা বজায় থাকার মতোই, এবারও নিজের জয়ের ব্যাপারে যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী তিনি। সোমবার সকালে এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলার মাঝেই, তিনি জানান, ‘আমার সঙ্গে মানুষ আছে। ফলে আমি যেখানেই থাকব (যে রাজনৈতিক দলে থাকব), মানুষ আমাকে ভালোবাসা দেবেন।’
তবে তাঁর বাড়ির অদূরে মহলডি গ্রামে রাস্তার ধারে খবরকাগজ পড়তে পড়তে সাধারণ মানুষের আলোচনায় বারবার উঠে আসছিল সরাইকেলায় ত্রিমুখী লড়াইয়ের কথা। কিন্তু কেন? তাঁদের কথায়, পদ্মের প্রার্থী তির-ধনুকে আর তির-ধনুকের প্রার্থী পদ্মে গিয়েছেন! এখানে ১০ শতাংশ নতুন ভোটার। দলবদলুদের কতটা সমর্থন করছে তারা, সেটা কিন্তু ভেবে দেখার বিষয়। সেই ক্ষেত্রে ভাষা খতিয়ান আন্দোলন করে উঠে আসা জেএলকেএমের নবীন প্রার্থী তাদের ফেভারিটের তালিকায় থাকতে পারেন। আবার, আদিবাসী ভোটেও থাবা বসাতে পারে জেএলকেএম। সেই নিরিখে সরাইকেলার পাঁচবারের বিধায়ক চম্পাই সোরেনের জয়ের পথ খুব একটা মসৃণ হবে না বলেই ধরে নিচ্ছে ওয়াকিবহাল মহল। 
সম্পর্কিত সংবাদ