


নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি ও সংবাদদাতা, ময়নাগুড়ি: বৃষ্টিতে জলপাইগুড়ি জেলায় ৭৩৪১ হেক্টর জমির আলুর ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের পাশে দাঁড়াতে জেলায় চালু হয়েছে মোট ২৫টি সরকারি হেল্প ডেস্ক। সেখান থেকে আলুচাষিদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়ার কাজ চলছে। পাশাপাশি কোথায়, কতটা আলুচাষের ক্ষতি হয়েছে তা খতিয়ে দেখতে সরেজমিনে পরিদর্শন চালাচ্ছেন কৃষিদপ্তরের কর্তারা। এজন্য কলকাতা থেকেও বেশ কয়েকজন কৃষিকর্তা এসেছেন। তাঁরা আলুচাষিদের জমিতে গিয়ে ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করছেন। তারই ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় রিপোর্ট তৈরি করে পাঠানো হচ্ছে রাজ্যে।
রবিবার ছুটির দিনেও ময়নাগুড়ি ও ধূপগুড়িতে কৃষিদপ্তরের অফিস খুলে ওই কাজ চলে। যেসব কৃষকের আগে থেকে বাংলা শস্যবিমা করা আছে, তাঁরা নিয়ম মেনে আলুর ক্ষতিপূরণ পাবেন বলে জানিয়েছেন কৃষি আধিকারিকরা। এরই পাশাপাশি আলু সংরক্ষণের কাজে যাতে কোনো অসুবিধা না হয়, তা দেখতে প্রতিটি হিমঘরে একজন করে সহকারী কৃষি অধিকর্তা পদমর্যাদার আধিকারিককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে কৃষিদপ্তর সূত্রে খবর।
বৃষ্টিতে ভিজে যাওয়া আলু সরকারিভাবে চাষিদের কাছ থেকে কিনে সুফল বাংলায় বিক্রির ব্যবস্থা করা হয়েছে। এখনও পর্যন্ত জলপাইগুড়ি জেলায় প্রায় এক হাজার কৃষকের কাছ থেকে তাদের তরফে আলু কেনা হয়েছে বলে কৃষি বিপণন দপ্তর সূত্রে খবর।
এনিয়ে ময়নাগুড়িতে রাজ্যের অতিরিক্ত কৃষি অধিকর্তা (পরিকল্পনা) রামপ্রসাদ ঘোষ বলেন, প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে ফসলের ক্ষতি হলে কৃষকরা যাতে প্রয়োজনীয় ক্ষতিপূরণ পান, সেজন্য রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে আগেই বাংলা শস্যবিমা করে দেওয়া হয়েছে। এর প্রিমিয়ামও সরকার দিয়ে দিয়েছে। আমরা এখন সরকারি নিয়ম মেনে কৃষকের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ খতিয়ে দেখছি। ফলে এতে নির্বাচনি আচরণ বিধি লঙ্ঘনের বিষয় নেই।
কৃষিদপ্তর সূত্রে খবর, বৃষ্টির জেরে জলপাইগুড়ি জেলার মধ্যে আলুচাষের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে ময়নাগুড়ি ও ধূপগুড়িতে। এবার ময়নাগুড়ি ব্লকে প্রায় ছ’হাজার হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছিল। বৃষ্টির কারণে এই ব্লকের ১৬টি পঞ্চায়েতের মধ্যে এগারোটিতে খেতে থাকা আলুর ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতির পরিমাণ ১৯০৫ হেক্টর। ময়নাগুড়ি ব্লকে ক্ষতিগ্রস্ত আলুচাষির সংখ্যা ৫২৫০ জন। ধূপগুড়ি ব্লকে ন’টি পঞ্চায়েত এলাকায় প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার হেক্টর জমির আলুচাষের ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত আলুচাষির সংখ্যা প্রায় সাড়ে ২২ হাজার। জেলায় এবার প্রায় ৩৩ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে আলুচাষ হয়েছিল। বৃষ্টির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত আলুচাষির সংখ্যা ৩২ হাজারের বেশি।
রাজ্যের অতিরিক্ত কৃষি অধিকর্তা রামপ্রসাদ ঘোষ বলেন, আমরা গ্রাউন্ড লেভেল সমীক্ষা করছি। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের কী করণীয়, বলা হচ্ছে। আমাদের রিপোর্টের পাশাপাশি বিমা সংস্থা স্যাটেলাইট ইমেজের সাহায্যে ক্ষতির পরিমাণ খতিয়ে দেখবে। সেইমতো যেসব আলুচাষির বাংলা শস্যবিমা করানো আছে, তাঁরা তার ক্ষতিপূরণ পাবেন।