


নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: আলুর দাম না পাওয়ায় চাষিদের মাথায় হাত পড়ে গিয়েছে। জলের দরে আলু বিক্রি করতে হওয়ায় অনেকেই জমি থেকে তা তুলছেন না। এই অবস্থায় বস্তা ব্যবসায়ীরা ফায়দা তোলার চেষ্টা করছে। ১৫ টাকার প্লাস্টিকের বস্তা তারা ৩৫ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি করছে। ইচ্ছাকৃতভাবে সংকট তৈরি করে তারা কালোবাজারি করছে। তাতে চাষিদের সমস্যা আরও বেড়ে গিয়েছে। তাঁদের দাবি, এবার লাভের মুখ দেখা যাচ্ছে না। তার উপর এক শ্রেণির ব্যবসায়ী পকেট ভারী করার জন্য বস্তার দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। প্রশাসনের উচিত কড়া পদক্ষেপ নেওয়া। চাষিরা প্লাস্টিকের বস্তায় আলু ভরে হিমঘরে নিয়ে যায়। দাম বেড়ে যাওয়ায় বস্তা কেনাও দায় হয়ে গিয়েছে।
মেমারি-২ ব্লকের বাসিন্দা সঞ্জয় দে বলেন, আলু চাষিদের নিয়ে ছেলেখেলা করা হচ্ছে। খোলাবাজারে সাড়ে চার থেকে পাঁচ টাকা কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে। অনেক জায়গায় সেই দামও পাওয়া যাচ্ছে না। তারপর এবার দ্বিগুণের বেশি দাম দিয়ে বস্তা কিনতে হচ্ছে। চাষিরা আরও বেশি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের মেন্টর মহম্মদ ইসমাইল বলেন, কয়েক দিন ধরেই ব্যবসায়ীরা চড়া দামে বস্তা বিক্রি করছে। এবছর আলুর ফলন অনেক বেশি হয়েছে। সেই কারণে অতিরিক্ত বস্তা কিনছে। অথচ দাম পাওয়া যাচ্ছে না।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্য সরকার সহায়ক মূল্য আলু কেনার কাজ শুরু করেছে। সুফল বাংলার জন্যও কেনা হচ্ছে। সরকার সাড়ে ন’টাকা কেজি দলের আলু কিনছে। তাতে, চাষিরা কিছুটা হলেও স্বস্তি পেয়েছে। তবে, চাষিরা বলছেন, আলু কেনার ক্যাম্প আরও বাড়ানো দরকার। সব জায়গার চাষিরা আলু বিক্রি করতে পারছেন না। তাঁরা খোলা বাজারে আলু বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। ফলন বেশি হওয়ার জন্য বহু ক্ষুদ্র এবং প্রান্তিক চাষি হিমঘরে আলু রাখার ঝুঁকি নিচ্ছে না। সরকার তাঁদের জন্য হিমঘরের ৩০ শতাংশ জায়গা সংরক্ষিত করেছে।
পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের কৃষি কর্মাধ্যক্ষ মেহেবুব মণ্ডল বলেন, বস্তা নিয়ে কোথাও কালোবাজারি করা যাবে না। যেসব ব্যবসায়ীরা বেশি দাম নিচ্ছেন, তাঁদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকার সব সময় আলু চাষিদের পাশে রয়েছে। সেই কারণে সহায়ক মূল্য দিয়ে আলু কেনা শুরু হয়েছে। সমবায় সমিতি ছাড়া হিমঘর মালিকরাও আলু কেনা শুরু করেছে। প্রতিটি এলাকার চাষিরাই আলু বিক্রি করতে পারছেন। কোথাও বিক্রি করতে সমস্যা হলে চাষিরা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। পদক্ষেপ নেওয়া হবে। জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, আলুর বস্তা নিয়ে কালোবাজারি করা যাবে না। কী কারণে দাম বেশি নেওয়া হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।-নিজস্ব চিত্র