সংবাদদাতা, বহরমপুর: মুর্শিদাবাদ জেলায় এবার আলুর উৎপাদন বিগত পনেরো বছরের রের্কড ছাড়াল। এদিকে স্টোর লোডিংয়ের সময়ে আলু বিক্রি না হওয়ায় চাষিরা চরম বিপাকে পড়েছেন। প্রতিদিন আলুর দাম নীচে নামায় তাদের উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে। আলু চাষি ও ব্যবসায়ীদের দাবি, এবার হিমঘরে লোড হওয়ার পর প্রচুর আলু উদ্বৃত্ত হবে। রাজ্য সরকার সহায়ক মূল্যে চাষিদের থেকে আলু কেনা শুরু করেছে। কিন্তু রাজ্য সরকার কেবলমাত্র জ্যোতি আলুই কিনছে। মুর্শিদাবাদের আলু চাষিদের দাবি, এই জেলায় জ্যোতি আলু চাষের পরিমাণ খুবই সামান্য। হাইব্রিড পোখরাজ আলুর চাষ বেশি। আলু চাষিরা সরকারের কাছে পোখরাজ আলু কেনার দাবি তুলেছেন। সরকার এই উদ্যোগ নিলে চাষিরা বিড়ম্বনার হাত থেকে বাঁচবে।মুর্শিদাবাদ জেলায় এবার প্রায় সাড়ে তেরো হাজার হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছে। জেলার ৮টি হিমঘরে আলুর ধারণ ক্ষমতা ৭১ হাজার মেট্রিক টন। বিগত বছরগুলিতে বিঘা প্রতি আলুর গড় ফলন হয়েছে ১০০ প্যাকেট (১ প্যাকেটে ৫০ কেজি আলু ধরে)। এবার তা পৌঁছে গিয়েছে ১২০-১৪০ প্যাকেটে। যা গত পনেরো বছরে হয়নি। জেলার ৫০ শতাংশেরও বেশি জমির আলু কাঁচাই বিক্রি হয়। আমন ধানের জমিতে চাষ করা আলু চাষিরা পাকিয়ে বিক্রি করেন বা হিমঘরে রাখেন। এবার উৎপাদন বেশি হওয়ায় চাষিদের ঘরে প্রচুর আলু মজুত রয়েছে। কিছু চাষি ঝুঁকি নিয়ে হিমঘরে রাখলেও অধিকাংশ চাষিই বিক্রির অপেক্ষায় রয়েছেন। কিন্তু কম দামেও ব্যবসায়ীরা আলু কিনতে আগ্রহ না দেখাচ্ছেন না।



