Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মুর্শিদাবাদে রেকর্ড ফলন আলুর দাম পড়তে থাকায় বিপাকে চাষিরা

মুর্শিদাবাদ জেলায় এবার আলুর উৎপাদন বিগত পনেরো বছরের রের্কড ছাড়াল।

মুর্শিদাবাদে রেকর্ড ফলন আলুর  দাম পড়তে থাকায় বিপাকে চাষিরা
  • ১১ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বহরমপুর: মুর্শিদাবাদ জেলায় এবার আলুর উৎপাদন বিগত পনেরো বছরের রের্কড ছাড়াল। এদিকে স্টোর লোডিংয়ের সময়ে আলু বিক্রি না হওয়ায় চাষিরা চরম বিপাকে পড়েছেন। প্রতিদিন আলুর দাম নীচে নামায় তাদের উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে। আলু চাষি ও ব্যবসায়ীদের দাবি, এবার হিমঘরে লোড হওয়ার পর প্রচুর আলু উদ্বৃত্ত হবে। রাজ্য সরকার সহায়ক মূল্যে চাষিদের থেকে আলু কেনা শুরু করেছে। কিন্তু রাজ্য সরকার কেবলমাত্র জ্যোতি আলুই কিনছে। মুর্শিদাবাদের আলু চাষিদের দাবি, এই জেলায় জ্যোতি আলু চাষের পরিমাণ খুবই সামান্য। হাইব্রিড পোখরাজ আলুর চাষ বেশি। আলু চাষিরা সরকারের কাছে পোখরাজ আলু কেনার দাবি তুলেছেন। সরকার এই উদ্যোগ নিলে চাষিরা বিড়ম্বনার হাত থেকে বাঁচবে।মুর্শিদাবাদ জেলায় এবার প্রায় সাড়ে তেরো হাজার হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছে। জেলার ৮টি হিমঘরে আলুর ধারণ ক্ষমতা ৭১ হাজার মেট্রিক টন। বিগত বছরগুলিতে বিঘা প্রতি আলুর গড় ফলন হয়েছে ১০০ প্যাকেট (১ প্যাকেটে ৫০ কেজি আলু ধরে)। এবার তা পৌঁছে গিয়েছে ১২০-১৪০ প্যাকেটে। যা গত পনেরো বছরে হয়নি। জেলার ৫০ শতাংশেরও বেশি জমির আলু কাঁচাই বিক্রি হয়। আমন ধানের জমিতে চাষ করা আলু চাষিরা পাকিয়ে বিক্রি করেন বা হিমঘরে রাখেন। এবার উৎপাদন বেশি হওয়ায় চাষিদের ঘরে প্রচুর আলু মজুত রয়েছে। কিছু চাষি ঝুঁকি নিয়ে হিমঘরে রাখলেও অধিকাংশ চাষিই বিক্রির অপেক্ষায় রয়েছেন। কিন্তু কম দামেও ব্যবসায়ীরা আলু কিনতে আগ্রহ না দেখাচ্ছেন না।

Advertisement

গোপালনগরের আলু চাষি সুব্রত ঘোষ বলেন, দু’ বিঘা জমিতে এখনও আলু পড়ে রয়েছে। খরিদ্দারের অভাবে তুলতে পারছি না। ইঁদুরে নষ্ট করছে। কুরিচার বাসিন্দা গৌতম ঘোষ বলেন, সব্জি বাজারের কিছু ফড়ে ছাড়া ব্যবসায়ীরা মাঠে নেমে অন্য বছরের মতো আলু কিনছেন না। এত আলু নিয়ে কী করব জানি না।
রাজ্য সরকারের মার্কেটিং দপ্তর চাষিদের কাছ থেকে জ্যোতি আলু কিনছে। হিমঘর ডেলিভারি পর্যন্ত দাম ৯০০ টাকা প্রতি কুইন্টাল। মুর্শিদাবাদের চাষিরা জ্যোতি আলুর চাষ না করায় তাঁরা সহায়ক মূল্যে আলু বিক্রি করতে পারছেন না। মুষ্টিমেয় কয়েকজন চাষি বাড়িতে খাওয়ার জন্য জ্যোতি আলু চাষ করেন। সরকার জ্যোতির পাশাপাশি পোখরাজ আলু কিনুক, বলে দাবি করছেন চাষিরা। তাঁদের বক্তব্য, সরকার এগিয়ে এলেই চাষিদের উদ্বেগ কাটবে। সোমবার চাষিরা প্যাকেট প্রতি ৩১০-৩২০ টাকা হিসেবে আলুর দাম পেয়েছেন। আলু চাষি নিবারণ মণ্ডল বলেন, ওই দামে আলু বিক্রি করা লস। কিন্তু ওই দামেও বিক্রি হচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে সরকার পাশে দাঁড়ালে চাষিরা বাঁচবে। ডাকবাংলা আলু ব্যবসায়ী সমিতির সদস্য পলাশ ঘোষ বলেন, এবার স্টোর লোডের পর প্রচুর আলু উদ্বৃত্ত হবে। ব্যবসায়ীরা ঝুঁকি নিয়ে এখনই আলু কিনতে চাইছে না।

সম্পর্কিত সংবাদ