নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পোস্ট অফিসে বিভিন্ন স্কিমে কষ্টার্জিত অর্থ জমা রাখেন বহু আমানতকারী। সেই টাকাই আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে এক এজেন্টের বিরুদ্ধে। যাদবপুর, বাঘাযতীন এলাকার একাধিক আমানতকারী প্রতারিত হয়েছেন। অভিযোগের ভিত্তিতে সিদ্ধার্থ কাঞ্জিলাল নামে ওই এজেন্টকে শনিবার রাতে গ্রেফতার করেছে যাদবপুর থানা। তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এই কারবারে অন্যতম অভিযুক্ত হিসেবে নাম উঠে এসেছে রিজেন্ট এস্টেট পোস্ট অফিসের পোস্টমাস্টারের! এখনও পর্যন্ত ১০ কোটি টাকা প্রতারণার হিসেব সামনে এসেছে। এই পরিমাণ আরও বাড়বে বলেই ধরাণা তদন্তকারীদের।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত সিদ্ধার্থ কাঞ্জিলালের বাবা রিজেন্ট এস্টেট পোস্ট অফিসেই এজেন্ট হিসেবে কাজ করতেন। যাদবপুর, বাঘাযতীন, রিজেন্ট পার্ক এলাকার অনেকেই তাঁর মাধ্যমে এমআইএস, এফডি, রেকারিং ডিপোজিট সহ বিভিন্ন স্কিম করাতেন। কয়েকশো গ্রাহকের পাশবুক নিজের কাছেই রাখতেন। বছর তিনেক আগে তিনি মারা যান। ছেলে সিদ্ধার্থ জানতেন, তাঁর বাবার মাধ্যমে কারা কারা স্কিম করিয়েছেন। বাবা যে পাশবুক বাড়িতে রাখেন, তাও তাঁর অজানা ছিল না। নিজের এজেন্ট লাইসেন্স না থাকলেও রিজেন্ট পার্ক এলাকার অন্য একজনের লাইসেন্স ‘ভাড়া’ নিয়ে গ্রাহকদের থেকে স্কিমের মাসিক কিস্তি তুলতেন সিদ্ধার্থ। পাশবুকে ডাকঘরের স্ট্যাম্প ও সিল দেখিয়ে বলতেন, টাকা যথাস্থানে জমা পড়ে গিয়েছে। কারও স্কিম ‘ম্যাচিওর’ হলে জাল ‘ম্যাচিওরিটি সার্টিফিকেট’ তৈরি করে তা দেখিয়ে বলতেন, টাকা তুলে ফের ওই স্কিমে বিনিয়োগ করা হয়েছে। ভুয়ো নথি গছিয়ে দিতেন গ্রাহকদের। কীভাবে সামনে এল প্রতারণা? সম্প্রতি কয়েকজন গ্রাহক তাঁদের পাশবুক চেয়ে নেন। তারপর টাকা ঠিকমতো জমা পড়েছে কি না, খোঁজ নিতে রিজেন্ট এস্টেট পোস্ট অফিসে যান। অফিসাররা জানান, কোনও টাকাই জমা পড়েনি বিগত তিন বছর ধরে। সার্টিফিকেটও ভুয়ো। পাশবুকে যে স্ট্যাম্প ও সিল রয়েছে, সেগুলি জাল। শনিবার সকালে প্রতারিতরা যাদবপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। রাতের মধ্যেই পুলিশ অভিযুক্ত সিদ্ধার্থকে ডেকে এনে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর গ্রেফতার করে। অভিযুক্ত পক্ষের আইনজীবী রাহুল ভৌমিক বলেন, ‘আমার মক্কেলের অ্যাকাউন্টে গ্রাহকদের টাকা গিয়েছে, এমন কোনও প্রমাণ নেই। তদন্তে এমন কোনও নথি মেলেনি, যা থেকে বোঝা যায় আমার মক্কেল জড়িত।’
তদন্তকারীদের সূত্রে খবর, গ্রাহকদের থেকে সংগৃহীত টাকা নিজের অ্যাকাউন্টেই জমা করতেন সিদ্ধার্থ। পোস্ট অফিসের স্ট্যাম্প ও সিল নকল করে বাড়িতে বসেই পাশবুক ‘আপডেট’ করে দিতেন। গ্রাহকদের অ্যাকাউন্টে যে কোনও টাকাই জমা পড়ছে না, তা জানতেন সংশ্লিষ্ট পোস্টমাস্টার। কিন্তু তিনি গ্রাহকদের কিছুই জানাননি। তাছাড়া, অন্যের লাইসেন্স ‘ভাড়া’ নিয়ে সিদ্ধার্থ কীভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। আরও অভিযোগ, তাঁর অফিসের স্ট্যাম্প ও সই জাল হওয়ার খবর জানার পরেও তিনি পুলিশকে কিছু জানাননি। বিস্তারিত জানতে পোস্টমাস্টারকে তলব করা হবে বলেই খবর।