Bartaman Logo
২৫ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ভোট পরবর্তী হিংসা, এন্টালিতে খুন তৃণমূল ঘনিষ্ঠ প্রোমোটার, রাস্তায় বস্তাবন্দি দেহ

ভোটপর্ব ছিল শান্তিপূর্ণ। কিন্তু ফলাফল পরবর্তী হিংসা অব্যাহত। প্রাণহানিও ঘটছে। বেলেঘাটার পর এন্টালিতে ঘটল তেমনই ঘটনা। বুধবার এন্টালি থানা এলাকায় রাস্তা থেকে উদ্ধার হল এক যুবকের বস্তাবন্দি দেহ। ধারালো অস্ত্রের একাধিক কোপের চিহ্ন রয়েছে তাঁর ক্ষতবিক্ষত শরীরে। তাঁকে লক্ষ্য করে গুলিও চালানো হয়।

ভোট পরবর্তী হিংসা, এন্টালিতে খুন তৃণমূল ঘনিষ্ঠ প্রোমোটার, রাস্তায় বস্তাবন্দি দেহ
  • ৭ মে, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ভোটপর্ব ছিল শান্তিপূর্ণ। কিন্তু ফলাফল পরবর্তী হিংসা অব্যাহত। প্রাণহানিও ঘটছে। বেলেঘাটার পর এন্টালিতে ঘটল তেমনই ঘটনা। বুধবার এন্টালি থানা এলাকায় রাস্তা থেকে উদ্ধার হল এক যুবকের বস্তাবন্দি দেহ। ধারালো অস্ত্রের একাধিক কোপের চিহ্ন রয়েছে তাঁর ক্ষতবিক্ষত শরীরে। তাঁকে লক্ষ্য করে গুলিও চালানো হয়। 

Advertisement

পুলিশ জানিয়েছে, মৃত যুবকের নাম তাপস নস্কর। তিনি পেশায় প্রোমোটার। সক্রিয় তৃণমূল কর্মী হিসাবে এলাকায় পরিচিতি ছিল তাঁর। মৃতের পরিবার ও স্থানীয়দের অভিযোগ, মঙ্গলবার রাতে তৃণমূলেরই অপর এক গোষ্ঠীর লোকজন তাপসের উপর চড়াও হয়। মারধরের পর নৃশংসভাবে কোপানো হয় তাঁকে। লালবাজার জানিয়েছে, এই ঘটনায় ৫-৬ জনের বিরুদ্ধে খুনের মামলা রুজু করা হয়েছে। একজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। খোঁজ চলছে বাকি অভিযুক্তদের। 
এন্টালি থানা এলাকার কোহিনূর অ্যাপার্টমেন্টের বাসিন্দা তাপস নস্কর। তাঁর পরিবারের দাবি, এই বিধানসভা ভোটেও তৃণমূল প্রার্থীকে জেতাতে কাজ করেছেন তিনি। ভোট মিটতেই তাঁকে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল বলে অভিযোগ। উল্লেখ্য, এন্টালিতে মৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে ১১টি মামলা ঝুলে রয়েছে এন্টালি থানাতেই। তাঁর বিরুদ্ধেও খুনের চেষ্টা, তোলাবাজি, অপহরণ সহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে। মঙ্গলবার রাতে তাপসকে ফোন করে বাড়ির বাইরে আসতে বলে কয়েকজন। সেই ফোন পেয়েই বেরিয়ে যান তাপস। মৃত যুবকের মায়ের দাবি, তারপরই ওই ফোন বন্ধ হয়ে যায়। অনেক খোঁজাখুঁজি করা হলেও সন্ধান পাওয়া যায়নি তাঁর। ভোররাতে রাধানাথ চৌধুরী রোডের একটি নির্মীয়মাণ আবাসনের সামনে একটি বস্তা পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। বস্তার ভিতর থেকে পা বেরিয়েছিল। স্থানীয়রাই দ্রুত ১০০ ডায়ালে ফোন করে পুলিশকে বিষয়টি জানান। পৌঁছায় এন্টালি থানার পুলিশ। বস্তা থেকে দেহ উদ্ধার হয়। স্থানীয় সূত্রে খবর, তাপসের হাত ও পা বাঁধা ছিল। দেহে একাধিক কোপ ও পায়ে বুলেটের আঘাত রয়েছে। প্রাথমিকভাবে পুলিশের অনুমান, প্রোমোটারের পা লক্ষ্য করে গুলি করে প্রথমে তাঁকে ঘায়েল করা হয়। তারপরই যুবকের হাত-পা বেঁধে চপার জাতীয় কোনো অস্ত্র দিয়ে পরপর কোপ মারা হয়। ঘটনাস্থল ঘিরে দেয় পুলিশ। এনআরএস হাসপাতালে বুধবারই দেহের ময়নাতদন্ত হয়। প্রাথমিক রিপোর্ট বলছে, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণেই মৃত্যু। পরিবারের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে খুনের মামলা রুজু করা হয়েছে। কলকাতার পুলিশ কমিশনার জানিয়েছেন, এই ঘটনায় সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখে অভিযুক্তদের চিহ্নিত করা হয়েছে। যদিও তিনি এই ঘটনাকে রাজনৈতিক খুন বলতে অস্বীকার করেছেন। তাঁর বক্তব্য, এই ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে দু’পক্ষের লেনদেন সংক্রান্ত গোলমাল।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ