Bartaman Logo
২৫ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ভোট পরবর্তী হিংসা, দিনহাটায় তৃণমূল সমর্থককে কুপিয়ে খুন, হিংসার কম্পাইল কপি, একটা স্ট্র্যাপ ছবি লাগবে

ভোট পরবর্তী হিংসায় দিনহাটার সিতাইতে মৃত্যু হল এক ব্যক্তির। এই ঘটনায় গ্রামজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। মৃত প্রৌঢ় তৃণমূল সমর্থক বলে পরিচিত ছিলেন।

ভোট পরবর্তী হিংসা, দিনহাটায় তৃণমূল সমর্থককে কুপিয়ে খুন, হিংসার কম্পাইল কপি, একটা স্ট্র্যাপ ছবি লাগবে
  • ৭ মে, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, দেওয়ানহাট ও তুফানগঞ্জ: ভোট পরবর্তী হিংসায় দিনহাটার সিতাইতে মৃত্যু হল এক ব্যক্তির। এই ঘটনায় গ্রামজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। মৃত প্রৌঢ় তৃণমূল সমর্থক বলে পরিচিত ছিলেন। মৃতের নাম মুন্নাফ মিয়াঁ (৫৫)। সিতাই বিধানসভার ৫৩৭ সিঙিমারির বাসিন্দা ছিলেন তিনি। এদিকে, তুফানগঞ্জে এক বিজেপি নেতা আক্রান্ত হয়েছেন। কোচবিহারের পুলিশ সুপার যশপ্রীত সিং বলেন, বিভিন্ন ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ২০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যারা আইন-শৃঙ্খলা ভাঙবে তাদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

Advertisement

মঙ্গলবার বিকেলে ৫৩৭ সিঙিমারি এলাকায় হামলা চালায় একদল সশস্ত্র দুষ্কৃতী। বাড়িঘর, ভাঙচুরের পাশাপাশি বেশ কয়েকটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। এরপরেই এলাকার লোকজন প্রতিবাদ করতে এগিয়ে আসেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন মুন্নাফ। দুষ্কৃতীরা তাঁর মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। রক্তাক্ত অবস্থায় তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরিবারের লোকজন প্রথমে গোসানিমারি ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যান। এরপর সেখান থেকে দিনহাটা মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাঁকে কোচবিহারের একটি নার্সিংহোমে ভর্তি করা হয়। সেখানেই রাতে মুন্নাফ মিয়াঁর মৃত্যু হয়। 
মৃত প্রৌঢ়ের ছেলে ফয়জার আলি বলেন, মঙ্গলবার বিকেলে আমাদের গ্রামে আচমকাই একদল দুষ্কৃতী হামলা চালিয়ে বাড়িঘর ভাঙচুর করতে শুরু করে। কয়েকটি বাড়িতে আগুনও ধরিয়ে দেয়। সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। এরপর সকলে মিলে প্রতিবাদ করতে বের হই। দুষ্কৃতী দলে থাকা একজন বাবার মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। কোচবিহারের একটি নার্সিংহোমে রাত পৌনে ১১টা নাগাদ বাবার মৃত্যু হয়। বাবা তৃণমূল সমর্থক ছিলেন। দুষ্কৃতীরা আমাকেও দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়েছে। 
ভোটের ফল ঘোষণার পর গোবরাছড়া, শালমারা, সাহেবগঞ্জ, নিগমনগর সহ একাধিক এলাকায় তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের বাড়িতে হামলার চালানোর অভিযোগ উঠছে। চলছে বাড়িঘর ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, মারধরের ঘটনা। কেউ যাতে কোনো গণ্ডগোলে না জড়ায় সেজন্য গ্রামে গ্রামে মাইকিং করে প্রচার চালাচ্ছে প্রশাসন। তারপরেও বিক্ষিপ্তভাবে গণ্ডগোলের খবর পাওয়া যাচ্ছে। 
ভোট পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে বুধবার সাংবাদিক বৈঠক করেন জেলাশাসক ও পুলিশ সুপার। জেলাবাসীকে ভরসা জোগানোর পাশাপাশি জেলাশাসক জিতিন যাদব বলেন, কোথাও কেউ গণ্ডগোল করলে কড়া পদক্ষেপ করা হবে। 
এদিকে, সিতাইয়ের বিজেপি নেতা দীপক রায় বলেন, একুশের ভোটের পর তৃণমূলের লোকেরা বিধানসভাজুড়ে তাণ্ডব চালিয়েছিল। এলাকার মানুষ সেসব জানে। ক্ষমতা চলে যাওয়ার পর তৃণমূলের লোকেরা পাগল হয়ে গিয়েছে। তাই গণ্ডগোল পাকিয়ে বিজেপির নামে কুৎসা রটাচ্ছে। পুলিশ সর্তক রয়েছে। আমরা পুলিসকে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছি। যদিও কোচবিহারের তৃণমূল সাংসদ জগদীশচন্দ্র বসুনিয়াকে ফোন করা হলে তিনি কোনো প্রতিক্রিয়া দিতে চাননি। তৃণমূলের জেলা সভাপতি অভিজিৎ দে ভৌমিককে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। মেসেজেরও উত্তর আসেনি। 
এদিকে,মঙ্গলবার রাতে দলীয় কর্মসূচি সেরে ফেরার পথে এক বিজেপি কর্মীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাতের অভিযোগ ওঠে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে তুফানগঞ্জ-১ ব্লকের অন্দরান ফুলবাড়ি-১ পঞ্চায়েতের চিলারায় গড়ে। আক্রান্ত বিজেপি কর্মী রানা বর্মন তুফানগঞ্জ মহকুমা হাসপাতালের বেডে শুয়ে বলেন, রাতে মিটিং সেরে বাড়ি ফেরার পথে তৃণমূলের দুষ্কৃতীরা ঘিরে ধরে। ধারালো অস্ত্র দিয়ে পিঠে কোপ মারে। থানায় লিখিত অভিযোগ জানিয়েছি। বিজেপি-১ নম্বর মণ্ডল সভাপতি যুগোল কিশোর দাস বলেন, নির্বাচনে হেরেও তৃণমূলের সন্ত্রাস জারি রয়েছে। প্রশাসন অবিলম্বে ব্যবস্থা গ্রহণ করুক। অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি করেন তৃণমূলের তুফানগঞ্জ-১ (খ) ব্লক সভাপতি প্রদীপ বসাক। যদিও তুফানগঞ্জ এসডিপিও কান্নেধারা মনোজ কুমার বলেন, ঘটনায় মূল অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ